‘সরকার মাদককে যে কোন মূল্যে ঠেকাতে বদ্ধপরিকর’

বার্তাবাংলা রিপোর্ট ::স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ ধীরে ধীরে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে উন্নয়নের অন্তরায় হিসেবে দাঁড়িয়েছে মাদক। তাই সরকার মাদককে যে কোন মূল্যে ঠেকাতে বদ্ধপরিকর। রাষ্ট্রের এ কাজে সমাজের সবাইকে সহায়তা করতে হবে। রাজধানীর সুইড-বাংলাদেশ কনভেনশন সেন্টারে ঝলক ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মাদকমুক্ত বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঝলক ফাউন্ডেশনের ১৮ বছর পূর্তি ও আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ মাদক ব্যবসায়ীকে জেলে পুরেছে। কিন্তু সরকারের একার পক্ষে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। একাজে সহায়তার জন্য শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। যুবসমাজকে মাদকের পরিণতি সম্পর্কে জানাতে হবে। সমাজে আর কোন ঐশী তৈরি হতে দেয়া যাবে না। এ জন্য মিডিয়াকে মাদকের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে ঝলক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে হবে। সংগঠনের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। ঝলক ফাউন্ডেশনের সংগ্রামের সফলতা কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বেনজীর আহমেদ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বলেন, প্রত্যেকের দায়িত্ব নিজ অবস্থানে থেকে মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করা। মাদকের কারণে মিয়ানমার ও ভারতে আমাদের কোটি কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। মাদকের জাল খুব কঠিন। এর কোন নির্দিষ্ট রুট নেই। মাদকের সঙ্গে হাজার হাজার মানুষের অবৈধ ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। তাই শুধু চেকপোস্ট বসিয়ে ও অভিযান চালিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। তাই সামাজিক ও পারিবারিকভাবে এর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে হবে। মাদককে নির্মূল করতে পারলে সমাজে অপরাধ কমে আসবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দৈনিক মানবজমিন-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কেএম বাবর আশরাফুল হক বলেন, সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করার শক্তিশালী মাধ্যম হচ্ছে পরিবার। তাই মাদক নির্মূলে প্রতিটি পরিবারকে এগিয়ে আসতে হবে। নিজেদের সন্তানদের তদারকি করতে হবে। তাদের অভাব-অভিযোগ শুনতে হবে। তারা কোথায় কি করছে তার খোঁজ রাখতে হবে। তরুণ-তরুণীরা মাদকের কারণে সমাজ থেকে যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়ে সেদিকে নজর দিতে হবে।
আলোচনা সভায় আগত অতিথিরা ‘ড্রাগ ফ্রি বাংলাদেশ’ নামক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। এ ছাড়া সভায় দুস্থ-প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে ঈদবস্ত্র ও ইফতার বিতরণ করা হয়। ঝলক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জাহিদ আহমেদ চৌধুরী বিপুলের সভাপতিত্বে সভায় এশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ মো. হারুন-অর-রশিদ, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি মনসুর আহমেদ চৌধুরী, ভোরের পাতা পত্রিকার সম্পাদক ড. কাজী এরতেজা হাসান, সুইড-বাংলাদেশের সভাপতি জওয়াহেরুল ইসলাম মামুন, ভিশন গ্রুপের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেন, ঝলক ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা প্রফেসর নূরজাহান বেগম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে ঝলক ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান অপূর্ব, প্রধান সমন্বয়কারী কাজী তারান্নম ফেরদৌস, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাহিদা কাইয়ুম, মিডিয়া উপদেষ্টা মাসুদ এ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।