হবিগঞ্জের দুর্গম বন থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের সাতছড়ির গহীন বনের তিনটি বাংকার থেকে ১৮৪টি ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী রকেট, ১৫৩ টি বিস্ফোরক চার্জ, উডেন গ্রেনেডসহ বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশান ব্যাটেলিয়ন (র‍্যাব)। তবে এই ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

সাতছড়ির সংরক্ষিত বনাঞ্চলে সমতল থেকে তিন থেকে চারশ ফুট উপরে গহীন বনের ভেতরে সন্ধান মেলে এই বিপুল পরিমান অস্ত্রের। মাটির নিচে আট থেকে দশ ফুট গভীর তিনটি বাঙ্কারে পাওয়া যায় এই অস্ত্র। মঙ্গলবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে আগেই এলাকাটি ঘিরে রেখেছিলেন র‌্যাব সদস্যরা। গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে গর্ত খোড়া শুরু হলে প্রথম দুইটি সিমেন্টের বাংকারে কোনো কিছুই পাওয়া যায়নি।

র‍্যাবের সদস্যরা পার্শ্ববর্তী জায়গায় খোঁজাখুঁজি করলে আরও একটি বাংকারের সন্ধান পান। এরপর, ওই বাংকারের মাটি সরিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলে মিলতে থাকে একের পর এক অত্যাধুনিক অস্ত্র। অস্ত্রগুলো কোনো দেশের তৈরি তাৎক্ষনিকভাবে জানাতে পারেনি অভিযানে অংশ নেয়া র‌্যাব সদস্যরা। তবে তাদের প্রাথমিক ধারনা এগুলো প্রতিবেশি কোনো দেশের তৈরি হতে পারে।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম পরিচালক উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো কিছু নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। যে আগ্নেয়াস্ত্রগুলো উদ্ধার হয়েছে সেগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা না করে কোন দেশের তৈরী তা সুনির্দিষ্ট করেও বলা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, আগ্নেয়াস্ত্রে যে সকল চিহ্ন রয়েছে তা থেকে পার্শ্ববর্তী দেশের ইঙ্গিত করছে। দুর্গম টিলার মধ্যে আরও বাংকার রয়েছে এমন ধারণা থেকে তা খুঁজে বের করার জন্য অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এই এলাকার আশেপাশে অবৈধ অস্ত্রের আরো মজুদ থাকতে পারে বলে ধারণা করছে র‌্যাব। উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, একটি বাংকার থেকে যে পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, তাতে অনুমান করা যাচ্ছে আরও বাংকারে বিপুল সংখ্যক বিস্ফোরক, অস্ত্র ও গোলাবারুদ থাকতে পারে।

ঘটনাস্থলটি দুর্গম এলাকায় হওয়ায় সবসময় আইনশৃংখলা বাহিনীর নজরদারি করা সম্ভব হয় না আর এই কারণেই দুর্বৃত্তরা এই এলাকাটিকে অস্ত্র মজুদের জন্য বেছে নিয়েছিল বলে দাবি র‌্যাবের। যে এলাকায় বাংকার পাওয়া গেছে সেখানে মোবাইল ফোনের কোনো নেটওয়ার্ক নেই এবং আদিবাসী পল্লী বেশ খানিকটা দূরে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

সীমান্ত থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার ভিতরে বিপুল পরিমানের এই অস্ত্রের মজুদ ভাবিয়ে তুলেছে র‌্যাব কর্মকর্তাদেরকেও। এই ঘটনায় কাউকে আটক করা না গেলেও কি উদ্দেশ্যে কারা এই অস্ত্রগুলো এখানে মজুদ করেছিল সেটিই এখন খতিয়ে দেখছে র‌্যাব।