নূর হোসেনের সম্পত্তি ক্রোক,অস্ত্র-গুলি উদ্ধার

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারকে অপহরণ ও খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বিকেল পৌঁনে চারটার দিকে এ অভিযান শুরু হয়। সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল ট্রাক স্ট্যান্ডের পাশে নূর হোসেনের বাসা ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের এনডিসি আবুল কাশেম শাহীনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম এ ক্রোক অভিযান চলছে।

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে এ পর্যন্ত একটি বিদেশি রিভলবার ও ৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এর আগে মামলার তদন্তকারী নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ মন্ডল একটি আবেদন করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কেএম মহিউদ্দিন এক আদেশে নূর হোসেনের অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে একসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিম অপহৃত হন। পরদিন ২৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নজরুল ইসলামের স্ত্রী। কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান করে মামলায় আসামি করা হয় মোট ১২ জনকে। গত ৩০ এপ্রিল বিকেলে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জন এবং ১ মে সকালে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত সবারই হাত-পা বাঁধা ছিল। পেটে ছিল আঘাতের চিহ্ন। প্রতিটি লাশ ইটভর্তি দুটি করে বস্তা বেঁধে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। ৩ মে নূর হোসেনের সিদ্ধিরগঞ্জের বাসায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১৬ জনকে গ্রেফতার এবং রক্তমাখা মাইক্রোবাস জব্দ করে। এরপর গ্রেফতার করা হয় আরো ৭ জনকে।

এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় র‍্যাব-১১ এর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন নিহত প্যানেল মেয়র নজরুলের পরিবারের সদস্যরা। প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের শ্বশুর অভিযোগ করেন, ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে র‍্যাবকে দিয়ে ওই সাতজনকে হত্যা করিয়েছেন নূর হোসেন। এর পর থেকেই সে পলাতক রয়েছে।