নদীপথের উন্নয়নে নেই সঠিক তদারকি ও অর্থ বরাদ্দ

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: দেশের মোট পরিবহন ব্যবস্থার এক তৃতীয়াংশ নদীপথে পরিচালিত হলেও, এ খাতের উন্নয়নে নেই ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট বরাদ্দ ও তদারকি। এতে করে দিন দিনই সংকুচিত হয়ে পড়ছে নৌপথ;বাড়ছে দুর্ঘটনা। আর নির্ভরতা বাড়ছে বেশি ব্যয়ের স্থল যোগাযোগের ওপর। তাই আগামী অর্থ বছরের বাজেটে নৌ-পনিবহন খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন এ খাতের বিশ্লেষকরা।

দেশের সর্বত্র জালের মতো বিছিয়ে থাকা নদ-নদীগুলো যেমন একদিকে সম্পদের আধার, তেমনি আবার পরিবহন পথও। ১৯৮৯ সালের কম্প্রিহেনসিভ হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ অনুযায়ী দেশের নৌ পথ বর্ষায় ৬ হাজার কি.মি আর শুষ্ক মৌসুমে ৩ হাজার ৮০০ কি.মি। জন ও মালামাল পরিবহনের সহজ ও সুলভ মাধ্যম হলেও, স্বাধীনতার পর এ খাতে যেমন চোখে পড়ার মতো কোন উন্নয়ন হয়নি, তেমনি করা হয়নি বড় ধরনের কোন বিনিয়োগ। বরং নদী দখল আর ড্রেজিং এর অভাবের মত কারণে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় আড়াই’শ নৌ-রুট।

দেশের মোট যাতায়াত ব্যবস্থার ৩০ ভাগ যে নৌপথে পরিচালিত হয়, সেই বড় অংশের অবকাঠামো উন্নয়নসহ আগামী অর্থবছরের বাজেটে একটি টেকসই পরিকল্পনার কথা বলছেন বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, কৃষি জমির ব্যবহার, পরিবেশ দূষণ, পানি নিষ্কাশন ও দুর্ঘটনা জনিত ক্ষতি, ট্রাফিক জ্যাম ও কার্বন নিঃসরণ ব্যয়ের মত বিষয় বিবেচনায় নিলে সড়ক ও রেল পথের তুলনায় নৌ পরিবহনের সুবিধা অনেক বেশি। তাই এ খাতের উন্নয়নে বাজেট বরাদ্দেও হার বাড়ানো উচিত।

নৌপথ বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সচিব, মানোয়ার হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে এ বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু তার পরও গড় বরাদ্দ খুব বেশি নয়।’

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক, ড. মো. শামসুল হক বলেন, ‘সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ সরকারকে করতে হবে টার্মিনালগুলোতে। মানুষ পরিবারসহ এ মাধ্যম ব্যবহার করে যখন গন্তব্যে যাবে তখন সেখানে সব ধরনের সুবিধা থাকার প্রয়োজন আছে।’

জন পরিবহনের পাশাপাশি মালামাল পরিবহনে নৌ-পথের সম্ভাবনা বিবেচনায় আসন্ন বাজেটে দিক নির্দেশনাও চাইছেন তারা। বললেন, নৌ-অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনে বেসরকারি উদ্যোগকে যুক্ত করার কথাও।
নৌপথ বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সচিব, মানোয়ার হোসেন বলেন, ‘একটি টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার।’

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক, ড. মো. শামসুল হক বলেন, ‘সবাই কিন্তু এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য অপেক্ষা করে আছে। এখন প্রয়োজন সরকারের তদারকি আর শৃঙ্খলার দিকটায় নজর দেওয়া। বেসরকারি পর্যায়ে কাজ করা যায় কিনা এ বিষয়টি নিয়ে সরকারের একটু কাজ করার দরকার আছে।’

এর পাশাপাশি, নৌ-দুর্ঘটনা মোকাবেলা ও যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করতে টার্মিনালের সঙ্গে সড়ক পথের একটি সমন্বিত ব্যবস্থার ওপরও জোর দিলেন তারা।