আলোচনায় মন্ত্রীপুত্রের রিনালয় সিএনজি স্টেশন, থানায় জিডি

বার্তাবাংলা রিপোর্ট ::কমিশনার নজরুলসহ ৭ হত্যাকা-ে এবার আলোচনায় সিদ্ধিরগঞ্জ ট্রাক স্ট্যান্ডে অবস্থিত মন্ত্রীপুত্র দীপু চৌধুরীর রিনালয় সিএনজি স্টেশন। এখানে বসেই পরিকল্পনা হতো নানা ঘটনা, দুর্ঘটনার। সিদ্ধিরগঞ্জ, শিমরাইলসহ আশপাশের সব অপকর্মের হোতা নূর হোসেন এ সিএনজি স্টেশনে বসাতেন নানা পার্টি। পানীয়ের আসর বসতো নিয়মিত। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, এসব আসরে
মন্ত্রীপুত্রের সঙ্গে আরও যোগ দিতেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। স্থানীয় সন্ত্রাসীরা তো থাকতোই নিয়মিত। আর পিতা ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা হওয়ায় তার প্রভাবও ছিল ব্যাপক। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর পিতা মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেলে তার প্রভাব বেড়ে যায় বহুগুণে। এ প্রভাবে সিএনজি স্টেশনের গ্যাসের বিল দেয়া বন্ধ করে দেন তিনি। রাজধানীর টিকাটুলি তিতাস গ্যাস অফিসের নিয়ন্ত্রণাধীন রিনালয় সিএনজি স্টেশনে এক বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকার গ্যাস বিল বকেয়া পড়ে যায়। এ সময়ে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ একাধিকবার নোটিশ দিয়েও বকেয়া বিল আদায়ে ব্যর্থ হয়। কমিশনার নজরুল হত্যার পর আলোচনায় উঠে আসে মন্ত্রীপুত্র দীপু চৌধুরী। খোদ নজরুলের পরিবার থেকেই বলা হয়, র‌্যাবের সঙ্গে খুনের চুক্তি করেন মন্ত্রীপুত্র। এই যখন অবস্থা তখন নড়েচড়ে বসে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। তারা সুযোগকে কাজে লাগাতে গতকাল রিনালয় সিএনজি স্টেশনে অভিযান চালায়। তিতাস কর্তৃপক্ষ রিনালয়ের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে চাইলে তাদের বাধা দেয়া হয়। মন্ত্রীর হুমকি দেয়া হয়। এক পর্যায়ে তাদের ওপর হামলা চালাতে উদ্যত হয় সন্ত্রাসীরা। এ অবস্থায় অভিযানে যাওয়া তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ফিরে আসেন। তারা এব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় জিডি করেন। এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এস আই মনির বলেন, দুপুরে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ একটি জিডি করেছেন। জিডিতে তারা বলেছেন, বকেয়া বিলের জন্য সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে সিএনজি স্টেশন কর্তৃপক্ষ তাদের সহযোগিতা করেননি। জিডিটি করেছেন তিতাস গ্যাস লিমিটেড টিকাটুলি শাখার উপ-ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবীর। মন্ত্রী-পুত্র সাজেদুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে দীপু চৌধুরীর বিরুদ্ধে করা জিডিতে বলা হয়, রিনালয় সিএনজি স্টেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাজেদুল ইসলাম চৌধুরী। তার কাছে তিতাসের পাওনা রয়েছে ৫ কোটি ৮৮ লাখ ৩৪ হাজার ২৯৩ টাকা। বার বার নোটিশ দেয়ার পরও বকেয়া এ টাকা পরিশোধ করেননি তিনি। বাধ্য হয়ে বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যাই। এ সময় তারা সহযোগিতা করেননি। বরং অসহযোগিতা করেছেন। জিডি নং-৩০৭।
তিতাস গ্যাস সূত্র মতে, দেশের সিএনজি পাম্পগুলো তিতাস গ্যাস থেকে অনুমতি নিয়ে তারা সিএনজি স্টেশন পরিচালনা করে। এ জন্য তিতাস গ্যাস পাইপ লাইন থেকে সিএনজি পাম্পে লাইন সংযোগ দেয়া হয়। বাসা বাড়ি থেকে মাসিক ভিত্তিতে বিল নেয়া হলেও সিএনজি স্টেশনগুলো বিল দেয় মিটারের মাধ্যমে। প্রতিটি সিএনজি স্টেশনে তিতাসের মিটার লাগানো আছে। মিটার অনুযায়ী বিল পরিশোধের কথা থাকলেও মন্ত্রীপুত্র দীপু চৌধুরীর রিনালয় সিএনজি স্টেশন গত এক বছর কোন বিল দেয়নি। ফলে তিতাসের খাতায় তারা ঋণখেলাপি হয়ে যায়। আর বকেয়া বিল আদায়ে একাধিকবার টিকাটুলি তিতাস গ্যাস অফিস থেকে নোটিশ দেয়া হলেও তারা কোন কর্ণপাত করেনি এতে। এক বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে যায়। কমিশনার নজরুল হত্যার সঙ্গে মন্ত্রীপুত্রের নাম জড়িয়ে পড়লে নড়েচড়ে বসে তিতাস কর্তৃপক্ষ। গতকাল তারা এ অভিযানে যায়। অবশ্য তিতাসের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, অভিযান আমাদের নিয়মিত চলছে। এক মাস আগ থেকেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযান শুরু হয়েছে। রিনালয়ে অভিযান তারই অংশ। ওদিকে মন্ত্রীপুত্রের সঙ্গে আলোচিত নূর হোসেন চেয়ারম্যানের ছিল দহরম মহরম। রিনালয় সিএনজি স্টেশনটি নূর হোসেনই দেখাশোনা করতো। সরজমিন সেখানে গেলে অনেক ট্রাক শ্রমিক বলেন, সন্ধ্যার পর রিনালয়ে বসতো রঙ্গলীলা। একটি রুমে বসতো মদের আসর। নূর হোসেনের সঙ্গে অনেক সন্ত্রাসী এখানে বসেই নানা পরিকল্পনা করতো। রাত বিরাতে অনেক নারীও আসতো এখানে। নূর হোসেনের অপরাধ সাম্রাজ্যের আরও একটি সাক্ষী রিনালয় সিএনজি স্টেশন।