কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে না

বার্তাবাংলা রিপোর্ট ::  অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে না। একই সঙ্গে  ব্যক্তিশ্রেণীর করমুক্ত আয়ের সীমা কমপক্ষে ১০ বছরের জন্য স্থায়ী করা হবে বলে জানান তিনি। আজ রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শক কমিটির ৩৫তম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, চলতি বছর দেশের অস্থিতিশীল পরিবেশের মধ্যেও রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ শতাংশেরও বেশি। এটা অবশ্য দেশের অর্থনীতির জন্য ভাল খবর। আশা করছি, এ ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ২০১৫ সালের মধ্যে শুল্ক আইন সংশোধন করা হবে। যার মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের গতি আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক বাজেটেই জাতীয় উৎপাদনকে সুরক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে থাকি। আর এবারের বাজেটেও তা অব্যাহত থাকবে। আর এ মাধ্যমে বাজেট অনেকাংশেই শিল্প ও বিনিয়োগবান্ধব হবে। তিনি জানান, প্রতি বছর বাজেটেই ব্যক্তিশ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা নিয়ে কথা ওঠে। আমেরিকাতে এ করের হার ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। যা ১০ বছরের জন্য স্থায়ী। তাই বাংলাদেশেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে একটি স্থায়ী পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। এ সময় তিনি বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও রিফান্ডের সুযোগ থাকবে। তবে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ নেয়া হবে। রিফান্ড শুধু কমিশন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে না। আর এবারের অন্যান্য বিষয়ের ন্যায় রিকন্ডিশন গাড়ির বিষয়েও স্থায়ী সমাধান দেয়া হবে। এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে সুশাসন নেই। গত কয়েকদিনের ঘটনা তার প্রমাণ বহন করে। এ সব ঘটনা নাগরিক জীবনসহ ব্যবসার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সমাজের সকল স্তরে সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা জরুরি। বর্তমান প্রশাসনের কিছু বিড়ম্বনার কথা তুলে ধরে আকরাম উদ্দিন বলেন, দেশে যে অস্থিরতা চলছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ দেশের ব্যবসার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য এবং ব্যবসা ও বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলাসহ সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখার জন্য প্রশাসনের দক্ষতা এবং সমন্বিত ভূমিকা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি। এজন্য সরকারের সকল স্তরের কার্যক্রমে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে দেশে বিনিয়োগ বাড়বে না বলে জানান তিনি। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকান্ড যথাযথভাবে সক্রিয় করার লক্ষ্যে টেলি কমিউনিকেশন রেগুলেটরি বোর্ড, এনার্জি রেগুলেটরি বোর্ড, দুর্নীতি দমন কমিশন, বিনিয়োগ বোর্ড, সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন প্রভৃতিকে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত ও শক্তিশালী করতে হবে বলে জানান এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট। দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রাপ্ত অভিযোগ সমূহ তদন্তের জন্য এককভাবে নির্বাচন না করে কমিটি গঠনের মাধ্যমে নির্বাচন করার প্রস্তাব করেন তিনি। তার মতে, এমন হলে আর কেউ অযথা হয়রানির শিকার হবে না। মূল্য সংযোজন করের ব্যাপারে হয়রানি বন্ধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেবল কমিশনার প্রাপ্ত অভিযোগ বা নিজস্ব তথ্য এবং দ্বৈচয়নের ভিত্তিতে অনুসন্ধান ও নিরীক্ষা পরিচালনার প্রস্তাব করেন তিনি। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অথবা নিজস্ব প্রাপ্ত তথ্য ব্যতীত ঢালাওভাবে যানবাহন আটক ও তল্লাশি না করারও আহ্বান জানান তিনি। কাজী আকরাম বলেন, গত ছয় বছরে দেশের বাজেটের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে ১২৫%। ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য এ আকার হতে যাচ্ছে ২ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা। বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট মো. আতিকুল ইসলাম জানান, এবারের বাজেট যেন পোশাকশিল্প বান্ধব হয়। ইতিমধ্যে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। অ্যাকর্ড, এ্যালায়েন্সসহ বিদেশী তিন প্রতিষ্ঠানের তদন্তে এরই মধ্যে ১৭ হাজার ৫০০ শ্রমিক বেকার হয়েছে। তারা শেয়ার্ড বিল্ডিং অনুমোদন দিচ্ছে না। অথচ শেয়ার্ড বিল্ডিংয়ে কর্মরত শ্রমিক রয়েছে ১৫ লাখ। তিনি বলেন, পোশাক শিল্পের ডিউ বিল সম্পূর্ণ অবমুক্ত করতে হবে। এবং সেটা এই বাজেটেই যেন হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।