শীতলক্ষ্যা থেকে অপহৃত নজরুলসহ ৫ লাশ উদ্ধার

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: নারায়ণগঞ্জে অপহৃত সাতজনের মধ্যে পাঁচজনের লাশ আজ বুধবার বিকেলে বন্দর উপজেলার মদনগঞ্জের শান্তিনগর ও চর ধলেশ্বরী এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে চারজনের পরিচয় শনাক্ত করেছে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।

এরা হলেন- নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান স্বপন এবং আইনজীবী চন্দন সরকারের গাড়িচালক ইব্রাহিম। তবে এখনো খোঁজ মেলেনি নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দনকুমার সরকারের।

লাশ ৫টি এক কিলোমিটারের মধ্যে পায়ে ২৪টি করে ইট বোঝাই সিমেন্টের ব্যাগ দিয়ে বাঁধা অবস্থায় নদীতে ডোবানো ছিল। পা ছিল দড়ি দিয়ে বাঁধা। হাত পেছনে দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল। মুখমণ্ডল পলিথিন দিয়ে গলার কাছে বাঁধা ছিল। পেট ধারালো অস্ত্র দিয়ে সোজাসুজি ফাঁড়া ছিল।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার মোরশেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নজরুলের লাশ শনাক্ত করেন তাঁর ভাই আবদুস সালাম, স্বপনের লাশ শনাক্ত করেন তাঁর ভাই রিপন, ইব্রাহিমের লাশ শনাক্ত করেন তাঁর ভাই আবু বকর এবং তাজুলের ভাই আনিস তাঁর লাশটি শনাক্ত করেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অপহৃত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় তাঁর সমর্থকেরা রাস্তায় আগুন ধরিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।

এর আগে আজ বুধবার দুপুরে বন্দর উপজেলার গলাগাছিয়া ইউনিয়ন এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে প্রথমে তিনটি লাশ ভেসে ওঠে। পরে আরও দুটি লাশের সন্ধান মেলে সেখানে।

বুধবার বিকেলে প্যানেল মেয়র নজরুলের ভাই আব্দুস সালাম ও স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি নজরুলের লাশ শনাক্ত করেন। এছাড়া নজরুলের সঙ্গেই অপহৃত স্বপনের লাশ তার ছোট ভাই রিপন এবং তাজুল ইসলামের লাশ তার বোন শিরীন আক্তার শনাক্ত করেন। অপহৃত আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারের গাড়িচালক ইব্রাহিমের লাশ শনাক্ত করেন তার ভাগ্নে। আরেকটি লাশ শনাক্ত করা যায়নি।

লাশ উদ্ধার করতে যাওয়া বন্দর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোকাররম হোসেন সাংবাদিকদের জানান, এলাকাবাসীর খবর পেয়ে আমরা লাশ উদ্ধার করছি। প্রতিটি লাশই ইট দিয়ে বাঁধা ছিলো। যেনো লাশ ভেসে উঠতে না পারে তারজন্যই দুর্বৃত্তরা এটি করে থাকতে পারে। চেহারা বোঝা যাচ্ছেনা। পাঞ্জাবী-পায়জামা পরিহিত লাশটি প্রথমে শান্তিনগর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। আর এটিই প্যানেল মেয়র নজরুলের বলে শনাক্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দুপুরের পর থেকে লাশগুলো ভেসে উঠতে শুরু করে। প্রতিটি লাশের হাত-পা বাঁধা ছিল। মুখ পলিথিন দিয়ে মোড়ানো ছিলো। কোনো সংঘবদ্ধ চক্রই এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

এদিকে লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে উদ্ধার স্থলে ছুটে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শহিদুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (ক অঞ্চল) আজিমুল আহসান, বন্দর থানার ওসি

গত ২৭ এপ্রিল রোববার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের(নাসিক) সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য নজরুলের সঙ্গে অপহৃত হয়েছিলেন- তার প্রাইভেটকারের চালক জাহাঙ্গীর, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিটির সহসভাপতি তাজুল ইসলাম, ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগকর্মী মনিরুজ্জামান স্বপন, লিটন ও তার গাড়ির ড্রাইভার।