বার্তাবাংলা ডেস্ক »

hasinaবার্তাবাংলা রিপোর্ট :: দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার সকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে এসে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের দক্ষিণাঞ্চলে অনেক দ্বীপ অঞ্চল রয়েছে। সেখানে আমরা আরও একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র করবো। এ জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে আমাদের।’

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘১৯৬৪ সাল থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে। এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনেক বাধা-বিপত্তি ছিল, অনেক বড় বড় দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। সেসব মোকাবেলা করে আমাদের এগোতে হয়েছে। এ পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ শুরু করতে কয়েক যুগ পার হয়ে গেছে।’

এসময় প্রধানমন্ত্রী দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

দেশকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানের বিকল্প নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদিও আমি নির্ভেজাল সাহিত্যের ছাত্রী। একজন বিজ্ঞানীর স্ত্রী ও আরেকজন বিজ্ঞানীর মা হিসেবে আমি বিজ্ঞানের গুরুত্ব বুঝি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। দেশের মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষাসহ সকল মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।’

দেশে টেকনোলজি ব্যবহারে দুর্নীতি ও অর্থের অপচয় কমে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এখন আর টেন্ডার বাক্স নিয়ে দৌড়াদৌড়ি হয় না। আমরা ই-টেন্ডার চালু করে দিয়েছি। অন্যান্য ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন দুর্নীতি কমিয়ে দিচ্ছে।’

টেকনোলজির ব্যবহার মানুষের জীবনকে আরো সহজ করে তোলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ টেকনোলজি ব্যবহারে বেশ আগ্রহী। লেখাপড়া জানুক আর না জানুক মানুষ টেকনোলজি ব্যবহার করতে পারে।’

সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সমুদ্র নিয়ে কোনো বিষয় ছিল না। আমরা এটি চালু করেছি। সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট সম্পূর্ণ রূপে চালু হলে আমরা আরো ভালভাবে সমুদ্র সম্পদকে কাজে লাগাতে পারব। সমুদ্র বিষয়ে আমাদের ছেলে-মেয়েরা পড়াশুনা করে দেশে বিদেশে কাজ করার সুযোগ পাবে।’

বিজ্ঞানের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ ও বিশেষ যোগ্যতা সম্পন্ন বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও গবেষক তৈরির লক্ষ্যে সরকার বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ অন সাইন্স অ্যান্ড আইসিটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন কাজে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে গত ৫ বছরে একহাজার একশ ১৫টি প্রকল্পে অনুদান দেয়া হয়েছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি হাই-টেক আইটি পার্ক স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়েছে। মেডিকেল কলেজগুলোতে নিউক্লিয়ার মেডিসিন ইনস্টিটিউট চালু করা হয়েছে, জাতীয় বায়োটেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।’

দক্ষ মানব সম্পদ তৈরি করতে সরকার বিজ্ঞানভিত্তিক যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষানীতিতে বিজ্ঞান, কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। স্কুল পর্যায় থেকে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে পড়ানো হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে মেধার অভাব নেই। শুধু প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতার।’

আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে মডেল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ে আন্তর্জাতিক মন্দা মোকাবেলা করে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ এর উপর রাখতে সক্ষম হয়েছি। পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন বৃদ্ধি করা হয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আস্তে আস্তে নিজের পায়ে দাঁড়াচ্ছি। নিজের কাজের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছি।’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সব দায়িত্ব আমার। আমাকেই জবাবদিহি করতে হবে। সে জন্য সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধান করতে আপনাদের সঙ্গে বসছি। পর্যায়ক্রমে সব মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করছি। আপনাদের সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলোকে জানার চেষ্টা করছি।’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আগে এ মন্ত্রণালয়কে খুব একটা গুরুত্ব দেয়া হতো না। বলা হতো এটা একটা ছোট মন্ত্রণালয়। এটি আমার কাছে খুব খারাপ লাগতো। সব চেয়ে ছোট পরমাণু কিন্তু তার শক্তি সবচেয়ে বেশি।’

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব খন্দকার আসাদুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »