তিস্তা চুক্তিতে সরকার ব্যর্থ

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: সরকার তিস্তা চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পানি পাওয়া বাংলাদেশের মানুষের আন্তর্জাতিক অধিকার। মঙ্গলবার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে তিস্তাভিমুখে বিএনপির লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজীপুরের কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত পথসভায় এ কথা বলেন ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

লংমার্চ কালিয়াকৈরে পৌঁছায় সকাল সোয়া দশটায়। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী কালিয়াকৈর বাইপাস মোড় এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত পথসভা। এখানে মির্জা ফখরুল ছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান ড. ওসমান ফারুক, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ প্রমুখ।

কালিয়াকৈরে লংমার্চকে স্বাগত জানান উপজেলা বিএনপির সভাপতি কাজী সাইদুল আলম বাবুল ও পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ন কবীর খান। এ সময় প্রায় হাজারখানেক লোক সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

নিজের বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, তিস্তা নদী উত্তরাঞ্চলের তিন কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা নির্বাহের স্থল। পানি পাওয়া বাংলাদেশের মানুষের আন্তর্জাতিক অধিকার। এ সরকারের আমলে তিস্তা চুক্তি হয়নি। তারা চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ সরকার মানুষের অধিকার হরণ করেছে। অধিকার ফিরিয়ে দিতে ব্যর্থ এ সরকার। তাই আমাদের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে বেলা পৌনে এগারোটার দিকে টাঙ্গাইলের দিকে রওয়ানা হয় লংমার্চ।

এর আগে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে উত্তরার আজমপুর মোড়ে আমির কমপ্লেক্সের সামনে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত পথসভায় লংমার্চের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। লংমার্চে অংশ নিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। কয়েকশ গাড়ির বহর উত্তর‍া ছেড়ে লালমনিরহাটের ডালিয়ায় অবস্থিত তিস্তা ব্যারেজ অভিমুখে যাত্রা শুরু করে।

প্রথমে নয়াপল্টন থেকে শুরু হওয়ার থাকলেও যানজট এড়াতে বিমানবন্দর গোল চত্বর থেকে লংমার্চ যাত্রার সিদ্ধান্ত হয়। তবে শেষ পর্যন্ত উত্তরার আজমপুর মোড় থেকেই শুরু হয় লংমার্চ।

সোমবার বিএনপির দফতরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ জানান লংমার্চের যাত্রাপথে কালিয়াকৈর টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়িতে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার রাতে রংপুরে যাত্রাবিরতি শেষে বুধবার সকালে রংপুর পৌর পার্কে অনুষ্ঠিত হবে পথসভা। এরপর ডালিয়া পৌঁছে সকাল ১১টায় তিস্তা ব্যারেজের সামনে চূড়ান্ত সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হবে।