রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপিয়ান রোহিঙ্গা কাউন্সিল

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মায়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী মানবাধিকার সংগঠন দ্য ইউরোপিয়ান রোহিঙ্গা কাউন্সিল (ইআরসি)। এ বিষয়ে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও সহযোগিতা চেয়েছে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বৃহস্পতিবার সকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, পৃথিবীতে রোহিঙ্গারা নিগৃহীত জাতির মধ্যে অন্যতম। তাদের জোর করে রাষ্ট্রহীন আর শরনার্থী বানিয়ে রাখা হয়েছে। ২৫ লাখ রোহিঙ্গা আজ ধর্মীয়ভাবে নিগৃহীত।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা মানবেতর জীবনযাপন করছে। তবে বাংলাদেশ সরকার অনেক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় আমরা বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। মায়ানমারের নাগরিকত্ব হারিয়ে রোহিঙ্গারা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ২০০৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার রোহিঙ্গা পানিতে ডুবে মারা গেছে। অনেক রোহিঙ্গা দেশের বিভিন্ন স্থানে আটকে আছে। অনেকে গণহত্যার শিকার হয়েছে। এছাড়াও শতাধিক রোহিঙ্গা মহিলা ধর্ষিত হয়েছে, ১৬ হাজার রোহিঙ্গা গ্রেপ্তার হয়েছে। এছাড়াও দেড় লাখ রোহিঙ্গা মুসলমানের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যা করা হয়েছে তা মানবতাবিরোধী অপরাধ ছাড়া আর কিছু নয়। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে বিশ্ববাসীকে সোচ্চার হতে হবে। রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরতের ব্যবস্থা করতে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, মায়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনকারীদের একটি তালিকা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। এই ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের সহযোগিতাও কামনা করেন ইব্রাহিম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে মাত্র ৫/৬ কিলোমিটার দূরে আমাদের বাড়ি। কিন্তু মায়ানমারে বাঙালি হিসেবে রোহিঙ্গাদের নানাভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। আরাকানে মুসলামান রোহিঙ্গা জন্ম নেয়াও একটি অভিশাপ উল্লেখ করে ইব্রাহিম বলেন, ২০/২২ বছর আগে আমি আমার মা-বাবার কাছ থেকে চলে এসেছি। আজ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারিনি।  এমনকি ফোন করারও সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে রাখাইনরা কুকুরের মতো ব্যবহার করে। আমাদের পরিবারের কেউ দুটির বেশি সন্তান নিতে পারবে না। একযুগ ধরে আমাদের মসজিদগুলো তালাবদ্ধ। ইবাদত বন্দেগি ও ধর্মীয় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আমরা এসব অত্যাচার থেকে মুক্তি চাই। ওই এলাকাতে সাংবাদিকদেরও প্রবেশ করতে দেয়া হয় না। বাংলাদেশ মায়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার আহ্বান জানানোয় বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান ইব্রাহিম।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের সমস্যা হয়ে থাকতে চাই না। আমরা আমাদের দেশে ফেরত যেতে চাই। সেখানে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। এ জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বার্মাকে চাপ প্রয়োগ করে রোহিঙ্গাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য দাতা ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতি আহবান জানান তিনি। একটি তদন্ত কমিটি করে আরাকান ও বার্মার অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও জাতিসংঘের প্রতি আহবান জানান ইব্রাহিম।