খোকন রাজাকারের রায় যে কোনো দিন

বার্তাবাংলা রিপোর্ট  :: একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পলাতক বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন খোকনের মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী যে কোনো দিনেই এ মামলার রায় ঘোষণা করা হতে পারে।

শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

আদালতে আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট আবদুস শুক্কুর। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান বাদল।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুস শুক্কুর খান বাংলামেইলকে বলেন, ‘আমার মক্কেল জাহিদ হোসেন খোকনের নাম এ মামলায় ঢোকানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে জাহিদ হোসেন খোকন এ মামলার আসামি নয়। যেহেতু তিনি একাত্তরে মানবতাবিরোধী কাজে জড়িত ছিলেন না তাই আমি আশা করছি এ মামলা থেকে তিনি খালাস পাবেন এবং প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।’

অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি বাংলামেইলকে বলেন, ‘আমরা আশা করছি খোকনের সর্বোচ্চ সাজা মৃতুদণ্ড হবে। তিনি গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণসহ সকল মানবতাবিরোধী কাজে সরাসরি জড়িত ছিলেন। খোকনের নেতৃত্বে একাত্তরে মানবতাবিরোধী কাজ সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার সকল প্রত্যক্ষ সাক্ষীকে আমরা ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে সক্ষম হয়েছি। এখানে কোনো শোনা সাক্ষী নেই। তাই আশা করছি তার সর্বোচ্চ সাজা হবে।’

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১২ সালের ১৬ এপ্রিল খোকনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। ওই বছরেরই ২৯ মে তা শেষ হয়। মামলায় ৫০ জনকে সাক্ষী করা হয়। খোকনের বিরুদ্ধে ১৬ নারী ও শিশুসহ ৫০ জনকে হত্যা, তিনজনকে পুড়িয়ে হত্যা, দুইজনকে ধর্ষণ, নয়জনকে ধর্মান্তরিত করা, দুটি মন্দিরসহ ১০টি গ্রামের বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, সাতজন গ্রামবাসীকে স্বপরিবারে দেশান্তরে বাধ্য করা ও ২৫ জনকে নির্যাতনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ আনা হয়।

গত বছরের ৯ অক্টোবর এসব অভিযোগ করেন ট্রাইব্যুনাল।

পলাতক জাহিদ হোসেন খোকনকে আদালতে হাজির করতে দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে গত ৩০ জুলাই নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

পরে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।