শ্রেণীকক্ষেই ছাত্রীর আত্মহত্যা

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: জেলা শহরের কালিবাড়ী রোডের কুমার উপেন্দ্র বিদ্যাপীঠের শ্রেণীকক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রিতু বিশ্বাস (১৬) নামে এক ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে বিদ্যালয়ে টিফিন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শত শত লোকজন ছুটে আসে বিদ্যালয়ে। তারা শিক্ষকদের ওপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে হামলায় আহত হন প্রধান শিক্ষক।

রিতু বিশ্বাস ওই বিদ্যাপীঠের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। সে শহরের ১৭১, বড় কালীবাড়ির হোটেল কর্মচারী বিপিন বিশ্বাসের মেয়ে। দুই বোন আর দুই ভাইয়ের মধ্যে রিতু সবার ছোট।

শিক্ষকরা রিতুর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বললেও স্থানীয় এক মানবাধিকার কর্মী শিক্ষকদের গাফিলতিকেই দায়ী করছেন। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, প্রেমঘটিত কারণে ছাত্রীটি আত্মহত্যা করেছে।

পুলিশ, শিক্ষক ও সহপাঠীরা জানায়, দুপুর দেড়টার দিকে টিফিন চলাকালে সহপাঠীরা বাইরে চলে গেলে রিতু দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। টিফিন শেষে ছাত্র-ছাত্রীরা ফিরে এসে ক্লাসরুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পায়। অনেক ডাকাডাকির পর দরজা না খোলায় জানালার ফাঁক দিয়ে দেখা যায় ফাঁসিতে ঝুলে আছে রিতু বিশ্বাস।

ঘটনা জানাজানি হলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম কোতোয়ালি থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে রিতুর মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

গণিত শিক্ষক সুনীল কুমার মজুমদার  জানান, টিফিনের সময় শিক্ষকরা দুপুরের খাবার খেতে চলে যায়। পরে স্কুলে এসে ঘটনা শুনে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু  বলেন, ‘শিক্ষকের গাফিলতির কারণেই আত্মহত্যার এ ঘটনা ঘটেছে।’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থীকে অরক্ষিত রেখে সবাই লাঞ্চে যাবে এটা অবান্তর।’

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, প্রেমঘটিত কারণে রিতু আত্মহত্যা করতে পারে। হৃদয় নামে এক ছেলেকে সে ভালোবাসতো। তার বান্ধবী নিপাও একই ছেলেকে ভালোবাসতো। রিতু আত্মহত্যা করে বান্ধবীর জন্য তার প্রেমিককে উৎসর্গ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ তার স্কুলব্যাগ থেকে একটি প্রেমপত্র উদ্ধার করেছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে, আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার থেকে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলামের দায়িত্বহীনতার কারণেই এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে অভিযোগ করছে অনেকেই।