নির্মিত হলো দেশের প্রথম যাত্রীবাহী স্টিমার

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বাংলাদেশের অগ্রগতির খবর পুরোনো। এবার সাফ্যলের তালিকায় যুক্ত হলো স্টিমারের নাম। নিজস্ব প্রযুক্তিতে সরকারি অর্থায়নে দেশেই নির্মিত হয়েছে যাত্রীবাহী স্টিমার। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন-বিআইডব্লিউটিসি জানিয়েছে, যাত্রী চাহিদার কথা মাথায় রেখে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী তিনতলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক এ জাহাজটিতে সব রকমের সুবিধা রয়েছে। আগামীকাল শনিবার স্টিমারটি উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

নৌরুটে যাত্রী পরিবহণে বাংলাদেশকে এতদিন নির্ভর করতে হতো বিদেশ থেকে আমদানি করা স্টিমারের উপর। এবার বুঝি সেই দিন শেষ হতে চলেছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ করপোরেশন-বিআইডব্লিউটিসি ২৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে দেড় বছরে শেষ করেছে এ স্টিমার তৈরির কাজ।

বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান মো. মজিবর রহমান বলেন, ‘আমরা রকেটের প্যাডেল দিতে পারছি না কিন্তু বাকি সবকিছুই দিচ্ছি, আর এই সবকিছুই হয়েছে বাংলাদেশি প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে।’

তিনতলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক এ স্টিমারটিতে থাকছে সব রকমের সুবিধা। তৃতীয় শ্রেণীর যাত্রীদের জন্য রয়েছে নিচতলার ডেক এবং দো-তলায় রয়েছে আসনের ব্যবস্থা। দোতলা এবং তিনতলার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সিঙ্গেল এবং ডাবল বেডের রুম প্রথম শ্রেণীর যাত্রীদের জন্য। এছাড়া রয়েছে ৪টি ভিআইপি ফ্যামিলি সুট। প্রতিটি তলায় রয়েছে আলাদা ক্যান্টিন। অভ্যন্তরীণ রুটে সরকারি যাত্রীবাহী স্টিমারের মধ্যে এটি সবচেয়ে দ্রুতগতির বলে জানালেন এর মাস্টার ইনচার্জ মো. আব্দুল বাকী ফারুক।

তিনি জানান, ‘যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’ সাড়ে ১১ নটিক্যাল মাইল বা ঘন্টায় ২১ কিলোমিটার গতিবেগের এ স্টিমারটি এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত যাত্রী পরিবহণের জন্য।

সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে সাড়ে ৭৫ মিটার দৈর্ঘ্য এবং সাড়ে ১২ মিটার প্রস্থের বাংলাদেশে তৈরি প্রথম স্টিমার এম ভি বাঙালি যুক্ত হয়েছে নৌ-পরিবহণে। নৌরুটে ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের জন্য এতে যাত্রী পরিবহণ ক্ষমতা থাকছে সাড়ে ৭শ’। বিআইডব্লিউটিসি জানিয়েছে, শিগগিরই আরো একটি জাহাজ যুক্ত হতে যাচ্ছে নৌ পরিবহণে।