গায়েনায় প্রাণঘাতী এবোলায় ৬০ জনের মৃত্যু

বার্তাবাংলা রিপোর্ট ::  আফ্রিকার দেশ গায়েনায় সম্প্রতি যে মরণঘাতী জ্বরের প্রাদুর্ভাব হয়েছে এটি আসলে এবোলা ভাইরাস।ওই জ্বরে গত এক মাসে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৬০ জন মারা গেছে। গায়েনার সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

গত মাসের গোড়ার দিকে গায়েনায় যে মহামারী ছড়িয়ে পড়েছে সেটি আসলে এবোলা ভাইরাস। সম্প্রতি ওই জ্বরের ওপর পরীক্ষা শেষে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত এবোলা ভাইরাসের কোনো টিকা বা প্রতিষোধক আবিষ্কার হয়নি।

সাধারণত শরীরের তরল পদার্থ যেমন রক্ত, লালা ইত্যাদির মাধ্যমে একজন থেকে আরেকজনে সংক্রমিত হয় এবোলা ভাইরাস। ক্ষুদ্র কোনো ক্ষত দিয়েই শরীরে ঢুকে পড়তে পারে এটি। এ ভাইরাসে আক্রান্তদের ২৫ থেকে ৯০ জনই মারা যায়। এ জ্বরের লক্ষণ হলো শরীরের অভ্যন্তরে বা বাইরে রক্তক্ষরণ, পাতলা পায়খানা ও বমি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু বলছে, মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে সর্বপ্রথম এবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল। তবে গায়েনায় এর আগে এ ভাইরাস দেখা যায়নি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উগান্ডা এবং গণ প্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতে এবোলার প্রাদুর্ভাব হয়েছে।

গিনিয়ার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাকোবা কেইতা এএফপিকে বলেন,‘ শুক্রবার জ্বরের প্রথম ল্যাবরটরি পরীক্ষার ফলাফল আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। এতে দেখা যায়, এবোলা ভাইরাসের কারণে এই মহামারী ছড়িয়ে পড়েছে।’

গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে গায়েনায় এবোলা জ্বর মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটিতে এ পর্য়ন্ত কমপক্ষে ৮০ জন এতে আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ৫৯ জন মারা গেছে। ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরো বলেন,‘ মহামারী নিয়ন্ত্রণে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টো চালাচ্ছি। এ কাজে আমাদের পার্টনাররাও সাহায্যে এগিয়ে এসেছে।কিন্তু কাজটা বেশ কষ্টসাধ্য।’

গিয়েনায় এবোলা জ্বরে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘মেডিসিন সানস ফ্রন্টিয়ার্স’। শনিবার সংস্থাটি জানায়, চিকিৎসা সেবার পরিধি বাড়াতে তাদের সঙ্গে আরো চিকিৎসক যুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া তারা বেলজিয়াম ও ফ্রান্স থেকে ৩৩ টন ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানি করারও ঘোষণা দিয়েছে ।

প্রসঙ্গত, বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক জীবাণুগুলোর মধ্যে এবোলা ভাইরাস একটি। এ ভাইরাসকে প্রথমে লক্ষ্য করা যায় কঙ্গো ও দক্ষিণ সুদানে। ১৯৭৬ সালে কঙ্গোর এবোলা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে মারাত্মক ভাইরাসজনিত এক রোগের খবর শোনা যায়। সে সময় নদী তীরবর্তী গ্রামগুলিতে এবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত ৩১৮ জনের মধ্যে ২৮০ জনই মারা যায়। এ নদীর নাম থেকেই এ ভাইরাসের নাম দেয়া হয় এবোলা। প্রাণঘাতী এ জীবাণুকে আয়ত্তে আনার জন্য বিজ্ঞানীরা অনবরত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সাধারণতঃ এবোলা ভাইরাসে সংক্রমণ হলে পরিত্রাণ পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ রোগীই প্রায় মারা যায়।