ন্যায়ের পক্ষে আন্দোলন করে বিপাকে শিক্ষার্থীরা

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: ন্যায় সঙ্গত আন্দোলন করে বিপাকে পড়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা হলে থাকতে পারছেন না আবার তাদের কারও কারও বাড়িতে গিয়েও হয়রানি করছে পুলিশ। বুধবার এমন অভিযোগ করেছেন উৎসব মোসাদ্দেক নামে এক শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।

তিনি বর্ধিত ফি ও সান্ধ্যকোর্স বাতিল দাবিতে করা আন্দোলনকারীদের একজন এবং সমাজকর্ম বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। বুধবার তার নওগাঁ সদরের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ তার বাবা-মাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছে। এসময় তার কাগজপত্রও তছনছ করে পুলিশ।

এদিকে গত ১৪ মার্চ (বৃহস্পতিবার) রাত ১০টার দিকে একই দাবিতে করা সাজু সরদার নামে এক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালিয়েছে চার মুখোশধারী।তাকে স্টুয়ার্ড শাখার পাশের রাস্তায় ধরে ছুরিকাঘাত ও বেড়ধক মারধর করে। সাজু সমকাল নাট্যচক্রের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। হামলার সময় মারপিটকে ‘আন্দোলনের ফল’ বলে উল্লেখ করে হামলাকারীরা।

সাজু সরদার বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ধিত ফি ও সান্ধ্যকোর্সবিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। কিছুদিন আগে তার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায় পুলিশি হয়রানির অভিযোগে তিনি অতিষ্ঠ হয়ে ফেসবুকের স্ট্যাটাসে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন।

এছাড়া ওই আন্দোলনে যুক্ত অন্য শিক্ষার্থীদেরও বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগে করেছেন প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতারা।

অন্যদিকে ২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ধিত ফি ও সান্ধ্যকালীন কোর্স বাতিল দাবিতে করা ছাত্র আন্দোলনে এক যোগে হামলা চালায় পুলিশ ও ছাত্রলীগ। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না হলেও উল্টো শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ এবং ছাত্রলীগ মিলে দুটি করে মোট ছয়টি মামলা দায়ের করে।

এতে আন্দোলনকারী ১০৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪৭৫ শিক্ষার্থীকে আসামী করা হয়। মামলাগুলো প্রথমে নগরীর মতিহার থানায় করা হলেও পরে তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই মামলায় এজহারভুক্ত আসামি উৎসব মোসাদ্দেক।

গত ৯ মার্চ সাতক্ষীরার পাথরঘাটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাজু সরদারের বাড়িতে গিয়েও পুলিশ তার মা-বাবাকে হয়রানি করে। এতে ওই দিন আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাসে দিয়েছিলেন। তিনিও ওই মামলায় এজহারভুক্ত আসামি।

উৎসব মোসাদ্দেক বলেন, ‘আজ আমার বাড়িতে পুলিশ গিয়ে বিভিন্ন কাগজপত্র চেয়েছে এবং মা-বাবাকে হুমকি দিয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তারিকুল হাসান বলেন, ‘কোনো শিক্ষার্থীর বাড়িতে তো পুলিশ যাওয়ার কথা নয়, যদি যেয়ে থাকে তাহলে আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান ভূইয়া বলেন, মামলায় এজহারভুক্ত আসামিদের গ্রামের বাড়িতে তদন্তের কারণে পুলিশ যেতে পারে। তবে পুলিশের হয়রানি করার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।