বার্তাবাংলা ডেস্ক »

markinবার্তাবাংলা রিপোর্ট :: বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি বিনিয়োগ আরো বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বুধবার দুপুরে শেরেবাংলা নগর মন্ত্রীর দফতরে মার্কিন চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স জন ড্যানিলুইজ সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘মার্কিন সরাসরি বিনিয়োগ এ দেশে খুব একটা দৃশ্যমান নয়। মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধির অনেক ক্ষেত্র এ দেশে রয়েছে। শিক্ষা, নারী উন্নয়নসহ তথ্য প্রযুক্তিখাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার বিনিয়োগ এ দেশে ব্যাপকভাবে বাড়াতে পারে।’

মন্ত্রী বর্তমান বিশ্বকে গ্লোবাল ভিলেজ উল্লেখ করে বলেন, ‘এ সময় সব দেশই সব দেশের উপর নির্ভরশীল। কাজেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখানে বিনিয়োগ বাড়িয়ে আমেরিকান ব্র্যান্ড ইমেজকে এ দেশের সঙ্গে পরিচিত করাতে পারে।’

মার্কিন চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স জন ড্যানিলুইজ জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এ দেশে নারীর ক্ষমতায়ন, যুব উন্নয়ন ও তথ্য প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো খুঁজে দেখছে। এরই ধারাবাহিকতায় মার্কিন কম্পিউটার কোম্পানি ডেল ‘ওয়ান ফ্যামিলি ওয়ান ওমেন’ প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ নারীকে ১ লাখ ল্যাপটপ প্রদান করতে আগ্রহী।

মার্কিন চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্সে আরো জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে উন্নয়নে আরো ব্যাপক ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। কোকাকোলা, ডেল, মাইক্রোসফ্টসহ বিভিন্ন কোম্পানী উদাহরণ দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন মার্কিন-বাংলাদেশ সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে এবং বিনিয়োগও বাড়বে।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশে আমেরিকান চেম্বার্স অব কমার্স (অ্যামচ্যাম) আরো কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে বলেও পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল মত প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে মার্কিন কোম্পানি ডেলের এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প বর্তমানে যাচাই-বাছাই এর কাজ চলছে। এ প্রকল্পের আওতায় ডেল বাংলাদেশের নারীদের ল্যাপটপ প্রদানের মাধ্যমে কম্পিউটার সংক্রান্ত নানরকম প্রশিক্ষণ দেবে। এর ফলে এদেশে নারী ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে বলে জানানো হয়।

মন্ত্রী ডেলের এ প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘বর্তমান সরকার লার্নিং ও আর্নিং প্রকল্পের আওতায় আউট সোর্সিংকে ব্যাপকভাবে চালু করতে যাচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠী তথ্য প্রযুক্তিতে যেমন দক্ষ হয়ে উঠবে তেমনি যথেষ্ট উপার্জনও করতে পারবে।’

জন ড্যানিলুইজের এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা মন্ত্রী জানান, তার মন্ত্রণালয়ে এখন থেকে যে কোন প্রকল্প একটা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে হয় গৃহীত হবে অথবা বর্জিত হবে। কোন প্রকল্প বর্জিত হলে তার কারণ সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হবে। বছর বছর ধরে প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পরে থাকবে না বলেও তিনি আমেরিকান চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্সকে নিশ্চিত করেন।

এ সময় ডেলের কান্ট্রি প্রধান সোনিয়া বশির কবির উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »