জাতীয় সংগীতের বাণিজ্যিকীকরণ!

মারুফ মল্লিক :: পুরাই কনফিউজড। এবং এইটা বাংলাদেশেই সম্ভব। বলছিলাম গিনেজ রেকর্ডে নাম লেখানোর জন্য বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের বাণিজ্যিকীকরণ নিয়া। প্রথমে খবরে দেখলাম জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার ওই অনুষ্ঠানে ৫০ কোটি টাকা খরচ হইবো। এর জন্য সরকার অনুদান নিচ্ছে। সেখান নাকি ইসলামী ব্যাংক ৩ কোটি টাকা দিছে। এইটা তারা আবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়া জানাইছে।

এই নিয়া শুরু হইলো ফিসফাস, নানা কথা বার্তা। তাদের কাছ থেকে এ রকম একটা অনুষ্ঠানে টাকা নেওয়া ঠিক হবে কিনা? যেহেতু ব্যাংকটার নিয়ন্ত্রনকারীদের রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মকাণ্ড ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল। এটা নিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক আলোচনা হইছে। আরও হবে।

এর মধ্যে আবার নতুন কইরা আলোচনার খোরাক আনছে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সরকারের দুই মন্ত্রী ও ইসলামী ব্যাংকের ব্যাখ্যা। এবং তাতে কনফিউজড হওয়া ছাড়া আর উপায় নাই।

মঙ্গলবার বাংলা একাডেমিতে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘আমি মনে করি তাদের (ইসলামী ব্যাংকের দেওয়া) টাকা ফেরত দেওয়া উচিত। আমি জানি না আমার কী হবে; তবে জামায়াতে ইসলামী ও যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিষ্ঠানের টাকায় জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার কর্মসূচি হতে পারে না।’

বিপরীতে সংষ্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক থেকে কোনো অর্থ নেয়া হয়নি।’

একইসাথে নূর বলেন, ‘গত বিশ্বকাপে ইসলামী ব্যাংক থেকে অনুদান নেয়ার কারণে বিতর্ক হয়েছিল। তাই বিতর্কে যেতে চাইনি বলে ইসলামী ব্যাংক থেকে কোনো অর্থ নেয়া হয়নি।’

তবে একইসময় সংষ্কৃতিমন্ত্রী নূর ইসলামী ব্যাংকের ‘ফান্ডের’ ব্যাখ্যায় বলেন, ‘ওই ফান্ড টি-২০ এর জন্য গ্রহণ করা হয়েছে।’

অবার এ দু´মন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিডিনিউজ তাদের এক সংবাদে জানাইছে যে, ইসলামী ব্যাংকর পক্ষ থেকে জানানো হইছে যে তারা জাতীয সঙ্গীত গাওয়ার ওই অনুষ্ঠানের জন্যই টাকা দিছে।

এইখানে দুই টা পক্ষ বা বক্তব্য আছে। টাকা নিছি (ইনু), টাকা দিছি (ইসলামী ব্যাংক)= টাকা নেই নাই জাতীয় সংগীত গাওয়ার অনুষ্ঠানের জন্য (নূর)।

একটা পক্ষ মিথ্যা বলছে। হয় ইনু এবং ইসলামী ব্যাংক মিথ্যা বলতাছে। না হয় নূর মিথ্যা বলাতাছে। বাংলাদেশেই এভাবে পাবলিকলি মিথ্যা বলা সম্ভব। অবশ্য বাংলাদেশে পাবলিকলি এভাবে মিথ্যা বলাকে মিথ্যা বলা হয় না। বলা হয়ে থাকে ঘটনা চেপে যাওয়া বা চালাকি করা। আর যারা এভাবে ঘটনা চেপে যাইতে পারে বা চালাকী করতে পারে তাদের বেশ বুদ্ধিমান বলেই গন্য করা হয়।

অবশ্য ইতিমধ্যেই সেই বুদ্ধির ছটা আমরা দেখতে পাইছি। যেমন আসাদুজ্জামান নূর এরমধ্যেই বলে ফেলছেন যে ওই টাকা টি২০ বিশ্বকাপের জন্য নেওয়া হইছে। হয়ত আরও নতুন ব্যাখ্যা আসবে।

বাংলাদেশ এখন এইসব বুদ্ধিমান বা চালাকদের খপ্পরে পড়ে গেছে। যারা সত্য না বলে জাতির সঙ্গে বুদ্ধি দিয়া চালাকী করছে।

অফটপিক: খবর নিয়ে দেখা উচিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আর কোন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান যুক্ত আছে কিনা। থাকলে সেখানে এশিয়াটিক মার্কেটিং এর নাম আছে কিনা। যেমন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস, বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস কিন্তু মন্ত্রণালয়ই পালন করে। কিন্তু এর সঙ্গে অনেক বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন পন্য যেমন, ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড সরবরাহ বা যোগাযোগ বা ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্টের দায়িত্বে থাকে। এবং এসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারি বা বিরোধী দলের অনেকেই যুক্ত থাকেন। (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত; অসম্পাদিত)

লেখক : জার্মানপ্রবাসী সাংবাদিক