বার্তাবাংলা ডেস্ক »

upojila p 3বার্তাবাংলা ডেস্ক :: আজ শনিবার তৃতীয় পর্বের উপজেলা ভোট উৎসব। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দেশের ৪১টি জেলার ৮১ উপজেলায় আজ ভোটগ্রহণ হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে এ ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচন উপলক্ষে সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোটগ্রহণ নির্বিঘেœ করতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

তফসিল অনুযায়ী আজ ৮৩টি উপজেলায় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সহিংসতার কারণে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তৃতীয় দফা ভোটগ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী নির্বাচনী এলাকার কেন্দ্রে কেন্দ্রে ইতোমধ্যেই পৌঁছে গেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষ ও গ-গোল এড়াতে এবার বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আরো কঠোর অবস্থানে ইসি।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক রাখা হয়েছে। সেনা সদস্যরা উপজেলা নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত থাকছেন।

বিরোধী জোটের ভোট বর্জনের কারণে নজিরবিহীন সহিংসতার মধ্যেই হয়েছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে উপজেলা নির্বাচনে পাল্টে গেছে সে চিত্র। আগের নির্বাচন-বিরোধীরা প্রথম দফায় আশাতীত সাফল্য লাভের পরে ১৯ দলীয় জোট আটঘাট বেঁধে নেমে পড়েছেন এ নির্বাচনে। দেশের ৮১টি উপজেলায় এখন জমজমাট চিত্র। সর্বত্র উৎসবমুখর পরিবেশ। এ দফায় উপজেলা নির্বাচনে ভোটের দিনও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আশা করছে নির্বাচন কমিশন। বিগত দু দফায় ৬২ শতাংশ ভোট পড়ায় এ নির্বাচনে যে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে তাতে সন্তুষ্ট তারা। তৃতীয় দফায় আরো বেশি ভোট পড়ার আশা করছে ইসি।

এদিকে তৃতীয় দফা নির্বাচন ঘিরে এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি। নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বড় ধরনের কোনো অভিযোগও ওঠেনি বলে জানিয়েছে ইসি। তাই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনুপস্থিত উৎসব এবার উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় ছিল, আবার তৃতীয় দফায়ও দেখা যাবে বলে মনে করছেন তারা।

নির্বাচন কমিশনার মোঃ আব্দুল মোবারক গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে আশা করছি।

নির্বাচন কমিশনার মোঃ আবু হাফিজ বলেছেন, নির্বাচনে সহিংসতা হবে না এটা আশা করা ঠিক না। তিনি মন্তব্য করেন, সহিংসতা না হওয়াটা অস্বাভাবিক। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রার্থী, ভোটার ও ভোটকেন্দ্র : তৃতীয় দফায় ৮১ উপজেলায় মোট ১ হাজার ১১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন ৪১৯, ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) প্রার্থীর সংখ্যা ৪২৩ ও ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) প্রার্থীর সংখ্যা ২৭৭ জন। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামাতসহ ছোটখাটো বিভিন্ন দল সমর্থিত প্রার্থীরাও আছেন, আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীও। চেয়ারম্যান ছাড়াও নির্বাচনী পরিবেশ জমিয়ে রেখেছেন ভাইস চেয়ারম্যান এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। কেন্দ্রে কেন্দ্রে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এজেন্ট।

এসব উপজেলায় মোট ভোটার ১ কোটি ৩১ লাখ ৮৫ হাজার ১৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৩২ জন, মহিলা ভোটার ৬৬ লাখ ১৭ হাজার ১৮১ জন। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৫ হাজার ৪৫৬টি, ভোটকক্ষ ৩৮ হাজার ১৮৯টি। প্রিসাইডিং অফিসার প্রতি ভোটকেন্দ্রে একজন করে ৫ হাজার ৪৫৬ জন। সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার প্রতি ভোটকক্ষের জন্য একজন করে মোট ৩৮ হাজার ১৮৯ জন। পোলিং অফিসারের সংখ্যা ৭৬ হাজার ৩৭৮ জন।

প্রস্তুত ইসি : প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা নির্বাচনে মোটামুটি সাফল্যের পর তৃতীয় দফায় ৮১টি উপজেলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে গত বুধবার মধ্যরাত থেকে এসব উপজেলার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। রয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কর্মকর্তারা গতকাল শুক্রবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস থেকে মালামাল বুঝে নিয়ে গতকালই কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে যান। ব্যালট, ব্যালট বাক্স, অমোচনীয় কালি, স্কেল, পেন্সিল, হ্যারিকেন, তেল, মোমবাতি, কাপড়সহ সব ধরনের ভোটসামগ্রী নিয়ে তারা রাতে অবস্থান করেন ভোটকেন্দ্রে।

প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী : উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। এ নিয়ে কয়েক দফা মিটিংও হয়েছে। এ নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা। গত দুদফা নির্বাচনে সংঘটিত সহিংসতা এড়াতে এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্বাচনের দিন প্রতি কেন্দ্রে একজন পুলিশ (অস্ত্রসহ), অঙ্গীভূত আনসার একজন (অস্ত্রসহ), অঙ্গীভূত আনসার ১০ জন (মহিলা ৪, পুরুষ ৬ জন) এবং আনসার একজন (লাঠিসহ) ও একজন গ্রামপুলিশসহ মোট ১৫-১৭ জন নিরাপত্তারক্ষী আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকবেন। ঝুঁকিপূর্ণ, পার্বত্য এলাকা, দ্বীপাঞ্চল ও হাওর এলাকায় এ সংখ্যা শুধুমাত্র পুলিশের ক্ষেত্রে দুজন হবে। প্রয়োজনে নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে বলে ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বিকাল থেকে তারা কেন্দ্রের চারদিকে অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তার জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। গত বুধবার মধ্যরাত থেকে তারা উপজেলাগুলোতে পৌঁছে বিভিন্ন স্থানে টহল দিচ্ছেন, থাকবেন ভোট পরবর্তী ২ দিন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ৮১ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। তারা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। এই ৮১ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। তাছাড়া নির্বাচনের দুদিন আগে থেকে আরো ২৪৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করা হয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনের পরের দিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »