আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ ধূমপানমুক্ত রাখার দাবি

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: ধূমপান শুধু ধূমপায়ীরই ক্ষতি করে না, নারী-শিশুসহ অধূমপায়ীদেরও সমান ক্ষতি করে। তাই ফুটবল বিশ্বকাপ, ক্রিকেট বিশ্বকাপ, অলিম্পিকসহ সব ক্রীড়া আসর ধূমপানমুক্ত রাখা হয়। কিন্তু গতকাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ উদ্বোধন করেছেন। যেখানে কোথাও ধূমপানমুক্ত বলা হয়নি। যা শুধু আন্তর্জাতিক চুক্তি ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) লঙ্গণই নয়, বাংলাদেশের বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনেরও লঙ্ঘণ। তাছাড়া দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় এ টুর্নামেন্ট উপভোগ করার জন্য আগত নারী-শিশুসহ অধূমপায়ীদের পরোক্ষ ধূমপানের হাত থেকে রক্ষা করতে আইসিসি টি ২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আগামীকালের মধ্যে ধূমপানমুক্ত ঘোষণার দাবি জানিয়েছে দেশের তামাক বিরোধী ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো।

প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠন ও মাদকদ্রব্য ও নেশা বিরোধী কাউন্সিল (মানবিক) আয়োজিত স্কেটিং র‌্যালি ও অবস্থান কর্মসূচিতে উপরোক্ত দাবি জানানো হয়। প্রত্যাশা’র সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ এর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, সিরাক বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত, মানবিক কর্মকর্তা মাসুদ রানা, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্ট এর কর্মকর্তা ইমানউদ্দিন ইমন, প্রত্যাশা’র তরুণ সংগঠক অদুত রহমান ইমন প্রমুখ। কর্মসূচি পরিচালনা করেন সমস্বর এর নির্বাহী সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সুজন।

হেলাল আহমেদ বলেন, খেলাধুলা তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়। এজন্য পৃথিবীর প্রায় সব দেশে খেলাধুলার অনুষ্ঠানগুলোকে ধূমপানমুক্ত রাখা হয়। ইতোপূর্বে ২০০২, ২০০৬ ও ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপ,আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১১, এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অলিম্পিক গেমসসহ প্রায় সকল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ধূমপানমুক্ত থাকে। কিন্তু এবার আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ ধূমপানমুক্ত করা হয়নি। আগামীকালকের মধ্যে টি২০ বিশ্বকাপ ধূমপানমুক্ত ঘোষণার দাবি জানাই।

এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, জনস্বার্থে সরকার পাবলিক প্লেস, পাবলিক পরিবহনসহ খেলাধুলার অনুষ্ঠানগুলোকে ধূমপানমুক্ত করে আইন করেছে। এখন সরকারের আইন যদি সরকারই লঙ্ঘণ করে, তবে সেটা শুধু জনগণের মাঝে আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শনকেই শুধু উদ্বুদ্ধ করবে না, তরুণ প্রজন্মকে নেশার দিকেও ধাবিত করবে। আমরা চাই না, সরকার তরুণ প্রজন্মকে নেশার দিকে ধাবিত করুক। তাই টি২০ ক্রিকেট বিশ্বকাপ ধূমপানমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাই।

এস এম সৈকত বলেন, তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ্য ও নেশামুক্ত রাখতে ধূমপান ও মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে টি২০ বিশ্বকাপ এর উন্মাদনা ইতিবাচকভাবে কাজে লাগনো যায়। এক্ষেত্রে অবশ্যই দেশের আইন ও আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী প্রথমেই এ ক্রীড়া আসরকে ধূমপানমুক্ত ঘোষণা এবং স্টেডিয়ামের সর্বত্র ধূমপানমুক্ত সাইনবোর্ড স্থাপনের দাবি জানাই।

আমিনুল ইসলাম সুজন বলেন, বিড়ি-সিগারেটের ধোঁয়ায় নিকোটিন, ডিডিটি, কার্বন মনোক্সাইড, টার, মিথানাল, ন্যাপথালিন, বেনজোপাইরিন, হাইড্রোজেন সায়ানাইড, অক্সিডেন্ড, নাইট্রিক অক্সাইড, এমোনিয়া (হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেন গ্যাসের মিশ্রণে সৃষ্ট ক্ষতিকর গ্যাসীয় উপাদান), মারকারি (পারদ), তামাকনির্ভর নাইট্রোসামিনিস, বিষাক্ত ট্রেসধাতু (নিকেল, সীসা, ক্যাডিয়াম, ক্রোমিয়াম, আর্সেনিক ও সেলেনিয়াম) ইত্যাদিসহ চার হাজারের বেশি ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে। এর মধ্যে ৪৩টি ক্ষতিকর উপাদান ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শেষে একটি স্কেটিং র‌্যালি কদম ফোয়াড়া-হাইকোর্ট মোড়, দোয়েল চত্বর হয়ে জাতীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। এতে স্টাইল স্কেটিং ক্লাব-এর শতাধিক স্কেটারসহ প্রত্যাশা, মানবিক, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট, সিরাক বাংলাদেশ, মধুপুর মানব উন্নয়ন সংস্থাসহ বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।