বার্তাবাংলা ডেস্ক »

Womens day in Bangladeshবার্তাবাংলা রিপোর্ট :: আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ‘অগ্রগতির মূল কথা, নারী-পুরুষ সমতা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নানা আয়োজনে জাতীয়ভাবে দিবসটি পালিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীও দিয়েছেন।

তবে এবার নারী দিবসে নারীসমাজের অর্জন, অগ্রগতি আর সরকারের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে নারী নির্যাতন নিয়ে জাতীয়ভাবে করা সাম্প্রতিক জরিপটি। এতে উঠে এসেছে সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের বিস্ময়কর ও মাইলফলক সাফল্যের পেছনে নারীর অগ্রগতি বিরাট ভূমিকা রাখলেও ঘরের মধ্যে নারীর অবস্থানের তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং দেশের ৮৭ শতাংশ নারী পরিবারের মধ্যে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। নিতান্তই ব্যক্তিগত বিষয়, স্বামী স্ত্রীর গায়ে হাত তুলতেই পারে এমন মানসিকতার কারণে, সামাজিক অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য না হওয়ায় এবং লোকলজ্জায় দেয়ালে পিঠ না ঠেকলে এই ব্যাপারে কেউ মুখ খুলছেন না। ফলে সরকারি- বেসরকারি নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও নারী নির্যাতনের মতো সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না, বাড়ছে নির্যাতনের সংখ্যা ও মাত্রা।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়ন সহযোগীদের প্রশ্ন, স্বাভাবিকভাবে মনে করা হয়, নারীর সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হচ্ছে ঘর বা পরিবার। সেখানে দেশের ৮৭ শতাংশ নারীই যদি পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হন তাহলে ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ কিভাবে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে? আর অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর মানবাধিকার রক্ষা ছাড়া কিভাবেই বা আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি হবে। তাদের অভিমত, নারীর প্রতি সহিংসতা উন্নয়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর নেপথ্যে রয়েছে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে

ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে নারী-পুরুষকে একসঙ্গে কাজ করারও সুপারিশ করেন তারা। একইসঙ্গে তারা নারী নির্যাতনকে জাতীয় ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করার আহ্বান জানান।

প্রতি বছর নারী দিবসে নারীসমাজের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক অর্জন ও অগ্রগতি উদযাপনের পাশাপাশি নারীর প্রতি সহিংসতা, বৈষম্য, অবিচার ও অন্যায়েরও একটি হিসাব করা হয়। পেছনে ফিরে দেখা হয় নারীর সময়, শ্রম আর অবদানকে কতোখানি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই ভিত্তিতে আগামী দিনের জন্য নতুন করে অঙ্গীকার, প্রত্যয় ও সংকল্প করা হয়। এই দিনটি যেন হয়ে উঠে নারীর প্রতি সকল সহিংসতা, নিপীড়ন ও বৈষম্য নিরসনের জন্য নতুন করে শপথ নেয়ার দিন।

এবার নারী দিবসে নারীর অগ্রগতি ও অবিচারের সব হিসাব-নিকাশের খতিয়ানে তুমুল ঝড় তুলে দিয়েছে গত ৩০ ডিসেম্বর প্রকাশিত জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন (ভিএডব্লিউ) সার্ভে-২০১১’ নামের দেশে প্রথমবারের মতো নারী নির্যাতন নিয়ে করা জাতীয় পর্যায়ের জরিপটি।

এই জরিপের তথ্যে উঠে এসেছে, দেশের বিবাহিত নারীদের ৮৭ শতাংশই স্বামী কর্তৃক কোনো না কোনো সময়ে এবং কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ নারীকে তাদের স্বামীদের মাধ্যমে শারীরিক নির্যাতন, ৩৬ শতাংশ যৌন নির্যাতন, ৮২ শতাংশ মানসিক এবং ৫৩ শতাংশ অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আরো বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে, এসব নারীর ৭৭ শতাংশই বলেছেন, তারা গত এক বছরেও একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। একটি বড় অংশের নারীকেই তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্বামীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক গড়তে বাধ্য হতে হয়েছে। শারীরিক নির্যাতনের শিকার নারীদের মাত্র অর্ধেক চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ পান।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »