নাশকতাকারীদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না:প্রধানমন্ত্রী

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: দশম জাতীয় নির্বাচনের আগে কথিত হরতাল-অবরোধের নামে যারা দেশের মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, নাশকতা চালিয়েছে, দেশের সর্বনাশ করেছে- অবশ্যই তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে। এদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা না হলে ভবিষ্যতে আবারও নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড চালানোর দুঃসাহস দেখাবে। তাই কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। বুধবার সংসদে প্রশ্নোত্তরপর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলনে জনগণের কোন সম্পৃক্ততা ছিল না। তাদের আন্দোলনে জনগণ সাড়া দেয়নি। এ কারণে তারা নৃশংস কায়দায় খুন-খারাবি ও ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছিল। নাশকতা চালিয়ে তারা দেশের সর্বনাশ করার অপচেষ্টা করেছে। আন্দোলনের নামে পণ্য পরিবহণ বাধাগ্রস্ত করে দেশের জনগণের চরম ক্ষতি করতে চেয়েছিল। কিন্তু সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ফলে তাদের সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কথিত অবরোধ-হরতালের নামে তারা নির্মমভাবে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, ১৬ জন পুলিশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। র‌্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ সাধারণ মানুষ কেউই তাদের হাতে রেহাই পায়নি। বাসের ড্রাইভার-হেলপারকে বেঁধে রেখে গায়ে পেট্টোল ঢেলে আগুণ দিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে। আগুনে দগ্ধ এসব সাধারণ মানুষ বাঁচার জন্য আর্তনাদ করেছে, আর পাশে দাঁড়িয়ে ঘাতক বিএনপি-জামায়াত ক্যাডাররা হেসেছে! বিএনপি-জামায়াতের এমন নির্মমতাও দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি বলেন, দেশের সর্বনাশকারীদের যদি বিচার না হয় তবে ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনা আবারও হবে। তাই জনগণের দাবি আর সরকারও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, অবশ্যই মানুষ হত্যাকারী, নাশকতাকারী ও ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই বিচার করা হবে। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ৫ বছর ক্ষমতায় থেকে দেশকে দুর্নীতিগ্রস্ত, সন্ত্রাসী ও জঙ্গীবাদের দেশে পরিণত করেছিল। আর পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার করেছিল আতঙ্কের দেশে। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সবকিছুতেই ছিল বিপর্যস্ত অবস্থা। এর ওপর বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা। দেশের এমন বিপর্যস্ত অবস্থায় ক্ষমতা গ্রহণ করা মহাজোট সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ফলেই দেশে দুর্নীতি হ্রাস পেয়েছে। যা সারাবিশ্বেই স্বীকৃত। তিনি বলেন, দুর্নীতি-সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদের দেশের কলঙ্ক থেকে উঠে এসে বাংলাদেশ এখন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির রোলমডেলে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, সহ¯্রাব্ধ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি)র সবগুলো আমরা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির অপর এক সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীই হচ্ছে নারী। তাই অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে উপরে উঠে আসার সুযোগ করে না দিলে কোন সমাজই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না।