মঞ্জুর হত্যা মামলা অধিকতর শুনানি শুরু ২৭ ফেব্রুয়ারি

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: বহুল আলোচিত জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলার রায় হয়নি আজ। বিচারক বদল হওয়ায় রায় পিছিয়ে অধিকতর শুনানির জন্য আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেছে আদালত। সোমবার ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নতুন বিচারক খন্দকার হাসান মাহমুদ ফিরোজ এ দিন ধার্য করেন।

এ সময় আদালতে হাজির ছিলেন এ মামলার প্রধান আসামি সাবেক সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, যিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত।

রায়ের দিন নির্ধারিত থাকলেও বিচারক পরিবর্তীত ও আসামিপক্ষের সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৭ ফেব্রুয়ারি মামলার অধিকতর শুনানীর দিন ধার্য করেছে আদালত বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরো বলেন, ‘বিচারক পরিবর্তনর হবার কারণে নতুন বিচারক নিয়োগ পেয়েছেন। নতুন বিচারক নথি পুরোপুরি পর্যালোচনা করতে পারেনি। যার কারণে পুনরায় এ মামলাটি যুক্তি-তর্কের জন্য আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি ধার্য করা হয়েছে।’

এরশাদের নির্দেশে হাটহাজারি থানা পুলিশ মঞ্জুকে আটক, পুলিশ হেফাজত থেকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নিয়ে যাওয়া ও ১ জুন চট্টগ্রাম সেনানিবাসে পূর্বপরিকল্পানা অনুসারে মঞ্জুকে হত্যা, বেশিরভাগ সাক্ষির জবানবন্দিতে এমন তথ্য উঠে এলেও আমামিপক্ষের আইনজীবী এ মামলায় এরশাদের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন।

আসামীপক্ষ আইনজীবী বলেন, ‘আদালতকে বলেছি যে মামলাটি রায়ের জন্য ধার্য ছিলো। নিশ্চই আপনি কাগজপত্র দেখেছেন, উনি রেকডপত্র কিছুটা দেখেছেন। আরো ওনার দেখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং যুক্তি-তর্কের প্রয়োজনীয়তা উনি অনুভব করেছেন। তাই রায়ের জন্য যে তারিখটি নির্ধারণ করা হয়েছিল সেটি আদালত রিকল করেছেন। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ যুক্তি-তর্ক শুনানির জন্য ধার্য করেছেন।’

প্রসঙ্গত, ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় চট্টগ্রামে একদল সৈন্যের গুলিতে নিহত হন জিয়াউর রহমান। ওই ঘটনার পর পুলিশের হাতে আটক হন জেনারেল মঞ্জুর। পুলিশ হেফাজত থেকে ১ জুন চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নেয়ার পর তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এরপর ১৯৯৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন মঞ্জুরের ভাই। ওই বছরই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তখনকার সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ অভিযোগপত্র দেন এবং বিচার শুরু করে আদালত।