জনগণকে বিভ্রান্ত করতেই একাদশ নির্বাচন নিয়ে সংলাপ

বার্তাবাংলা ডেস্ক : : জনগণকে বিভ্রান্ত করতেই আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও নেতারা দশম নয় বরং একাদশ নির্বাচন নিয়ে সংলাপ চলার কথা বলছেন বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি করেছেন তিনি।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণকে বিভ্রান্ত করবার জন্য দলীয় মন্ত্রী ও নেতৃবর্গ বলছেন দশম নয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংলাপ চলছে। এটা সর্বৈব অসত্য ও নির্লজ্জ মিথ্যাচার।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত যতটুকু আলোচনা করেছি তা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই- জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে দেশের গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার কথা ভেবে আমরা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে আলোচনা এবং সেজন্য চলমান নির্বাচনী তফসিল স্থগিত করার দাবিতেই সংলাপে অংশ নিয়েছিলাম। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নয়।’

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইতিমধ্যেই জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বর্জন করেছে বলেই ১৫৪ আসনে কোনো প্রার্থী নেই—দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে এটা কলঙ্কময় নজির হয়ে থাকবে।’

জাতীয় পার্টি ও দলটির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ও তার নেতাকে নিয়ে সরকার যে নাটক তৈরি করেছে তা তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার পরিচয় বহন করে। এ বিষয়ে সরকারের নৈতিকতার চরম পরাজয় হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনকে সেবাদাসে পরিণত করে প্রার্থীবিহীন নির্বাচন করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। জনগণ তা মেনে নেবে না।’

বিবৃতিতে অবিলম্বে সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এতোটুকু সময় নষ্ট না করে দেশ ও জাতির স্বার্থে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ, নির্দলীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যকর ব্যবস্থাগ্রহণ করুন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অন্যথায় গণতন্ত্রের জন্য, নিজেদের ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য এই দেশের সচেতন মানুষ অতীতে যেমন আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সংগ্রামে বিজয়ী হয়েছে, তেমনি চলমান এই আন্দোলনকেও জনগণ চূড়ান্ত বিজয়ের পথে নিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।’