নরসিংদীর আহত ছাত্রলীগকর্মীর মৃত্যু

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ছাত্রদলের হামলায় আহত ছাত্রলীগের আরেক কর্মী মো. শহীদুল্লাহ মিয়া (২৬) মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার সময় তিনি মারা যান। এ হামলায় এ নিয়ে দুজন নিহত হলেন। এর আগে আনোয়ার হোসেন (৩৫) নামে এক ছাত্রলীগকর্মী নিহত হন। নিহত শহীদুল্লাহ মিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য। তার বাড়ি নরসিংদীর ঘোড়াশাল উপজেলায়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে বেশ কিছু দিন যাবত ছাত্রলীগ নেতা মনিরের সঙ্গে ছাত্রদল নেতা হাসেমের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এ নিয়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে একাধিক বার মারামারি, সংঘর্ষ, মামলা ও পাল্টা মামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকেলে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনির ও তার সমর্থকরা ছাত্রদলের হাসেম ও সোহেলকে ধরে এনে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও ছাত্রদলে নেতাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সন্ধ্যায় ঘোড়াশাল পৌর ছাত্রদলের সভাপতি রতন মিয়ার নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে ঘোড়াশাল নজরুল ক্লিনিকের পেছনে বালুর মাঠে অবস্থান নেয়। এ খবর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিরের নিকট পৌঁছালে রাত সাড়ে নয়টার দিকে মনির গ্রুপের সদস্যরা ধাওয়া দিলে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পাঁচদোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মোল্লা, ছাত্রলীগকর্মী শহিদুল ও যুবলীগকর্মী আনোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হয়। পরে খবর পেয়ে ঘোড়াশাল পৌর মেয়র শরিফুল ইসলাম ও যুবলীগ নেতা জাবেদ তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে পাঠায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক যুবলীগকর্মী আনোয়ার হোসেন আনুকে মৃত ঘোষণা করেন।

পলাশ উপজেলা ছাত্রলীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সজিব হোসেন দাবি করেন, আসছে নির্বাচনে দলীয় কর্মকাণ্ড নিয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি কারিউল্লাহ মতবিনিময় সভা করছিল। এ সময় পৌর ছাত্রদলের সভাপতি রতনের নেতৃত্বে অতর্কিতভাবে হামলা চালালে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।