আবারও ক্ষমতায় এলে প্রতি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া হবে

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও নৌকাপ্রতীকে ভোট চেয়ে বলেছেন, ‘নৌকায় ভোট দিলে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেয়া হবে। দেশে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় এলে দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবে।’

বুধবার বিকেলে বাগেরহাট সদরের খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজ মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধান বিরোধীদলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে মানুষ হত্যায় ব্যস্ত থাকে। তাই তারা দেশের উন্নয়ন করতে পারে না।’ অন্যদিকে, সরকারের সফলতা তুলে ধরে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে নতুন নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আনা হয়েছে। এখন সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।’

বিদ্যুৎ উৎপাদনে আওয়ামী লীগের কৃতিত্ব দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালে ক্ষমতা ছেড়ে আসার সময় আমরা চার হাজার তিনশত মেগওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন রেখে এসেছি। আর বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তা নেমে এসেছে  ২ হাজার মেগাওয়াটে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বরাবরের মতোই কটাক্ষ করে তাকে ‘খাম্বা লিমিটেড’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এসে রাস্তায় রাস্তায় খাম্বা লাগিয়ে দেশের টাকা নষ্ট করেছে। কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন করেনি। আর আমরা ক্ষমতায় এসে বুঝতে পেরেছি বিদ্যুৎ ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই ১০ হাজার মেগওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি।’

আত্মতুষ্টি নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রধান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দুর্নীতি করে না। তারা মানুষের উন্নয়নে কাজ করে বলেই এত অল্প সময়ে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পেরেছে।’

আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় এলে প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো ঘর বিদ্যুৎবিহীন থাকবে না। আর এ অঞ্চলে (দক্ষিণাঞ্চল) বিশুদ্ধ পানির অভাব আছে। আমরা ক্ষমতায় এলে শুদ্ধপানির ব্যবস্থা করে দেবো।’

বিএনপি-জামায়াতকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা মানুষ নিয়ে রাজনীতি করে তারা মানুষ হত্যা করতে পারে না। বিএনপি-জামায়াত কোনো রাজনৈতিক দল নয়।’

এর আগে সকালে মংলার জয়মনি ঘোলে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন সাইলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, ১৫০ মেগাওয়াট খুলনা বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ ৩টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও আবগ্রেডেশন অব খুলনা ১শ’ ৫০ মেগায়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্ট টু ২২৫ কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্টসহ ৯টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

মংলায় সুধীসমাবেশ ও রামপালের শ্রীফলতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় এসব ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন।

জনসভাস্থলে প্রধানমন্ত্রী বলেশ্বর নদীর উপর নির্মিত মীর সাখাওয়াত আলী দারু সেতুসহ ৭টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও সরকারি পিসি কলেজের একাডেমিক ভবন-কাম পরীক্ষা কেন্দ্রসহ ১১টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জেলাব্যাপী চলেছে নির্বাচনী আমেজ। শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে আকর্ষণীয় তোরণ ব্যানার ফেস্টুন টানানোর কাজে প্রতিযোগিতায় নামেন নেতাকতর্মীরা। জনসভার মঞ্চ তৈরিসহ গণসংযোগে ব্যস্ত সময় কাটান তারা।