গোলের ফর্মে ফিরেছেন মেসি

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: জোড়া গোল করে গোলখরা কাটালেন টানা চারবারের বিশ্বসেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে এসি মিলানের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে বার্সেলোনাও। বুধবার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে আর্সেনাল। তারা বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মাঠে জয় তুলে নেয়। বরুসিয়ার বিপক্ষে এটা আর্সেনালের প্রথম কোনো জয়। আরো জয় তুলে নেয় অপর ইংলিশ ক্লাব চেলসি। জার্মানির দল শালকেকে ৩-০ গোলে হারিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষষোলর আশা উজ্জ্বল করেছে হোসে মরিনহোর দল। এদিন দুই ম্যাচ হাতে রেখে শেষষোলো নিশ্চিত করে অ্যাটলেটিকে মাদ্রিদ। তারা ভিয়েনার বিপক্ষে ৪-০ গোলে জয় তুলে নেয়।

বুধবার রাতে নিজেদের মাঠ ক্যাম্প নউতে প্রথমার্ধে প্রায় এক তরফা খেলেছে বার্সেলোনা। মিলান গোলমুখে একেরপর এক আক্রমণ চালালেও গোল পাচ্ছিলেন না মেসি, নেইমার ও সানচেস।

বিশেষ করে দ্রুতগতির নেইমারকে থামাতে বারবার ফাউলের আশ্রয় নিতে হচ্ছিল মিলান ডিফেন্ডার ইনাৎসিও আবাতেকে। ম্যাচের ৩০ মিনিটে নেইমারকে পেনাল্টি এলাকায় ফেলে দিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন তিনি; আর এ জন্য দেয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে খরা কাটান লিওনেল মেসি। এর আগে লা লিগার টানা চারটি ম্যাচে ৯০ মিনিট করে খেলেও গোল পাননি চারবারের বিশ্বসেরা ফুটবলার। দশ মিনিট বাদেই মিলান ডিভেন্ডারদের ভুলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলে বার্সেলোনা। জাভি হার্নান্দেসের একটি ক্রসে মাথা লাগিয়ে গোল করেন ফাঁকায় দাড়ানো স্যার্হিও কুসকেতস। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে জেরার্ড পিকের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান কমে। গোলের কৃতিত্বটা অবশ্য ব্রাজিল মিডফিল্ডার কাকার। বাঁদিক থেকে দৌড়ে গিয়ে গোললাইন থেকে তার নিচু ক্রস পিকের পায়ে দিক পাল্টে জালে ঢুকে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কোচ মাসিমিলিয়ানো আল্লেগ্রি রবিনহোর বদলে মারিও বালোতেল্লিকে মাঠে নামালে মিলানের আক্রমণ কিছুটা গতি পায়। ম্যাচের ৬৩ মিনিটে বালোতেল্লির ক্রস থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন কাকা। ৭৫ মিনিটে নেইমার ও মেসির বল দেয়া নেয়া থেকে বল পেয়ে আলেক্সিস সানচেসের শট ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক আবিয়াতি। কিন্তু ৮২ মিনিটে মেসির গোলে জয় নিশ্চিত হয়ে যায় লা লিগা চ্যাম্পিয়নদের। ইনিয়েস্তার বদলি হিসেবে নামা ফ্যাব্রেগাসের সঙ্গে বল দেয়া নেয়া করে খুব কাছ থেকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন মেসি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ৮২টি ম্যাচে এটি মেসির ৬৫তম গোল। ‘এইচ’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে আয়াক্স নিজেদের মাঠে একমাত্র গোলে হারিয়েছে স্কটল্যান্ডের সেল্টিককে। চার ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষ স্থানে থাকা বার্সেলোনার নকআউট পর্বে উঠা নিশ্চিত হয়ে গেলো। সমান ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে মিলান।

গত মাসে আর্সেনালকে তাদেরই মাঠে ২-১ গোলে হারিয়েছিল বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে জার্মানির দলটিকে তাদের মাঠে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রতিশোধ নিল ইংল্যান্ডের দলটি। এ জয়ের ফলে ‘গানার্স’ নামে পরিচিত আর্সেনালের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় পর্বে ওঠার সম্ভাবনাও বেড়ে গেল।

বুধবার রাতে বরুসিয়ার মাঠ সিগনাল-ইদুনা পার্কে আর্সেনালের জয়ের নায়ক ওয়েলসের মিডফিল্ডার অ্যারন রামজি। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ৬২ মিনিটে ফরাসি স্ট্রাইকার অলিভিয়ে জিরুদের ক্রস থেকে হেড করে জয়সূচক গোলটি করেন তিনি। এ জয়ের ফলে প্রতিপক্ষের মাঠে টানা ১৫ ম্যাচ অপরাজিত থাকার গৌরব ধরে রাখলো আর্সেনাল। এর মধ্যে তারা জিতেছে ১৩টিতে, বাকি দুটি ড্র। গত মার্চে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টটেনহ্যামের মাঠে শেষ হেরেছিল তারা। অন্যদিকে এদিন ইউরোপীয় টুর্নামেন্টে ১০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বরুসিয়া। কিন্তু বিশেষ মাইলফলকের মূহুর্তটি জয় দিয়ে রাঙাতে পারলো না গতবারের রানার্সআপরা। এদিন গ্রুপের অপর ম্যাচে ইতালির নাপোলি ৩-২ গোলে হারায় ফ্রান্সের অলিম্পিক মার্সেইকে। এই জয়ে টুর্নামেন্টের শেষ ষোলতে নাপোলির ওঠার সম্ভাবনা আরো জোরালো হলো। ঘরোয়া লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিলে টানা সাতটি ম্যাচ জিতলো ডিয়েগো ম্যারাডোনার সাবেক দলটি। নাপোলির পক্ষে দুটি গোল করেন গঞ্জালো হিগুয়েন। অন্য গোলটি করেন গোখান ইনলার। মার্সেয়ের গোল দুটি করেন আন্দ্রে আইউর ও ফ্লোরিয়ান থাওভিন।

আর্সেনাল ও নাপোলির জয়ে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের পরবর্তী রাউন্ডে ওঠার পথটা বেশ কঠিন হয়ে পড়লো। চার ম্যাচ শেষে আর্সেনাল ও নাপোলির পয়েন্ট সমান ৯। কিন্তু গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ‘এফ’ গ্রুপের শীর্ষে আছে আর্সেনাল। আর ছয় পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে আছে ডর্টমুন্ড।