শেষ রাতের সুস্বপ্ন!

লেঃ কর্নেল (অবঃ) মোঃ শাহাদাত হসেন, পিএসসি :: গত রাতে ঘুমানোর আগে টেলিভিশনে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার পালটা পালটি বক্তব্য শুনেছিলাম। সে কারনেই হোক নাকি ইতি পূর্বে সরকারী কর্ম জীবনে উভয়ের কাছা কাছি যাওয়ার সৌভাগ্য হওয়ার কারনেই হউক, শেষ রাতে উভয়কে স্বপ্নে দেখলাম। ঊভয়ের চেহারার মধ্যেই কেমন একটা উপায়   উদ্ভাবনীর মিষ্টি আভাষ উপলব্দি করলাম। স্বপ্ন ছিল বলেই হয়তোবা আমাদের আশেপাশে আর কেউ ছিলনা। দেশের কথা উঠতেই উভয়েই আমাকে প্রায় একসাথে বলে উঠলেন যে তাদের উভয়েই আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে ইচ্ছুক। কিন্তু তাদের আশেপাশে যারা পরামর্শকারী রয়েছেন তাদের নানা কানভারী কথাবার্তার কারনেই তারা দলগত বলয় থেকে বেরিয়ে এককভাবে কিছু করতে পারছেন না। তাছাড়া সব সময় টেলিভিশনে এমন সব টক শো হয়ে থাকে যা শুনে শুনে তারা নিজেরাও কেমন জানি সিদ্ধান্তহীন হয়ে পরেছেন। আমি আর কালক্ষেপণ না করে প্রস্তাব করলাম, “চলুন না ভারত, চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, জাতিসংঘ, কিংবা অন্য কোন দেশের ফাইভ স্টার হোটেলের ঠাণ্ডা ঘড়ে বসে আলোচনা করে একটা সমঝোতার উপায় খুজে বের করি”।

ইতিপূর্বে অনেক জটিল একটি সমস্যার সমাধান হতে দেখেছিলাম ফাইভ স্টার হোটেলের “ফিফটি সিক্স কোর্সের লাঞ্চ” টেবিলে…মনে করেছিলাম এইবার না হয় তারচেও বেশী কোর্সের লাঞ্চ মেনুর আয়োজন করা যেতে পারে। কিন্তু উভয়েই প্রত্তুতরে বললেন, “না না তা কি করে হয়! ষোল কোটি মানুষের দেশের রাজনৈতিক লিডার হয়ে বিদেশের গোল টেবিলে বসে আলোচনা করলে দেশের মানুষ কি বলবে?”

কথাটার গূঢ়ার্থ অনুধাপন করে সাথে সাথে দ্বিতীয় প্রস্তাব করলাম, “তাহলে, হেলিকপ্টারে উড়ে আসুন না আমার বাড়ীর সাত তলার ছাদে যেখানে কোন সাংবাদিক কিংবা আপনাদের আশেপাশের পরামর্শকারীগন পৌছার আগেই আপনারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবেন?” “আরও বললাম, কোন ভয় নেই, কারন আপনারা ভুল সঠিক যাই সিদ্ধান্ত নেন না কেন সকলেই তা মেনে নিবেন, এটাই আপনাদের দলের প্রচলিত নিয়ম। তাছাড়া সকল চ্যানেল এবং পত্রিকার সাংবাদিকগণও তাকে কোন বিশ্লেষণ ছাড়াই লীড হেডলাইন অথবা ব্রেকিং নিউজ হিসেবে ঢালাওভাবে প্রচার করবে”। পরামর্শটা মন্দনয় উল্লেখ করেও উভয়েরই একই বক্তব্য, “দেশের আমজনতার বেশীর ভাগই থাকেন মাটির কাছাকাছি আর তাদের সাথে আলোচনা না করে সাত তলার ছাদে বসে সিদ্ধান্ত নিলে তা কী সঠিক হবে”?…।।

দান দান তিন দান্‌ …, তৃতীয় বারের মত প্রস্তাব করলাম, “মাননীয়ও দেশনেত্রী, মাননীয় জননেত্রী, তাহলে চলুন না মাটির কোন কাছাকাছি জায়গায়, ঢাকার নেতানেত্রীদের দূরে রেখে, আমার বাগানবাড়ী মুনপার্কের সবুজ ঘাসের উপর একসাথে বসে, মাটির মানুষদের কাছাকাছি থেকে, কোন একটা বাংলাদেশবান্ধব উপায় খুঁজে বের করি”! এইবার ঊভয়েই প্রস্তাবে রাজী হলেন…কিন্তু ঘুমটা আমার ভেংগে গেল…বুঝতে পারলাম তা ছিল শেষ রাতের সুস্বপ্ন। তবুও ঐ সুস্বপ্নের আশা নিয়েই দিনটি আমার শুরু হল। আজ চব্বিশ অক্টোবর ২০১৩ …আমার ক্ষুদ্র সুস্বপ্ন…আর একদিন বাকি থাকলেও, মাটির মানুষের কথা ভেবে কোন একটি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে…সময় শেষ হবার আগেই…মাটির মানুষের রক্ত ঝরার আগেই…