আজ পবিত্র হজ

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: আজ মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিমের (আ.) স্মৃতিবিজড়িত মক্কা নগরীতে পালিত হচ্ছে পবিত্র হজ। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে ইমামুল হজ মুফতি আবদুল আজিজ আবদুর রহমান আলে শেখ মসজিদা নামিরা থেকে হজের খুতবা দেবেন। হজের  খুতবার জন্য এরই মধ্যে মসজিদে নামিরা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মসজিদে নামিরার চারদিকে ৪ কিলোমিটার এলাকা সাউন্ড সিস্টেমের আওতায় আনা হয়েছে। হজের সময় মক্কায় পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ মুসলিম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এ বছরও পৃথিবীর ১৯৩টি দেশের মুসলমান হজে অংশ নিচ্ছেন। সৌদি সরকারের হিসাব মতে, ২৫ লাখ লোক হজে এসেছে। স্থানীয় লোকজন মিলে প্রায় ৬০ লাখ লোক পবিত্র হজে অংশ নেবেন বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। টানা পাঁচ দিন ধরে বিভিন্ন কার্যাবলি পালনের মাধ্যমে হজ করা হলেও ৯ জিলহজ আরাফাত ময়দানে অবস্থানের দিনকে হজের দিন বলা হয়। রোববার রাত থেকেই হাজীরা মিনার উন্মুক্ত প্রান্তর থেকে আরাফাত ময়দানের দিকে আসতে শুরু করেছেন। মিনার উন্মুক্ত প্রান্তর, মিনা থেকে আরাফাতের দিকে যাওয়ার সব পথঘাট, বালুরাশি আর ধূসর বর্ণের পাহাড়গুলো হাজীদের এহরামের কাপড়ের শুভ্র বর্ণে একাকার হয়ে গেছে। যেদিকে তাকাই, যতদূর চোখ যায় মনে হয় শুধু সাদা রঙের প্রলেপ পড়ে আছে জমিনে। কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। চারদিক থেকে হাজীদের কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে আল্লাহু আকবার ধ্বনি আর তালবিয়ার আওয়াজ ‘লাব্বাইক আলাহুম্মা লাব্বাইক, লা শারিকালাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা, ওয়ান নিমাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাকা লাব্বাইক’। শত-সহস্র মাইল অতিক্রম করে মহান আল্লাহর দরবারে হাজির হতে পেরে হাজীদের কণ্ঠ আবেগে ভারি হয়ে উঠেছে। নিজের অতীত জীবনের পাপরাশির জন্য ক্ষমা আর পরকালীন জীবনে মুক্তি ও শান্তি প্রাপ্তির প্রত্যাশায় দু’চোখ বেয়ে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে তাদের। ক্লান্তি-শ্রান্তিকে পরাভূত করে সবার চোখে-মুখেই অনুশোচনা আর মুক্তির প্রত্যাশা ঝরে পড়ছে। আজ আরাফাতের ময়দানে দোয়া করা হবে বিশ্ব শান্তি ও মুসলিম উম্মাহর সুখ-সমৃদ্ধি কামনায়। রোববার হাজীদের মিনার তাঁবুতে অবস্থান গ্রহণের মধ্য দিয়ে হজের মূল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ সারা দিন হাজীরা আরাফাতে অবস্থান করবেন। দিনের প্রথমভাগে বয়ান হবে। বয়ান শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে অনুষ্ঠিত হবে মোনাজাত। মোনাজাতের পরপরই মুসল্লিরা জোহর ও আসরের চার রাকাত নামাজ এক আজানে আদায় করে আরাফাত ময়দানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। সূর্যাস্তের পর হজের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য মুসল্লিরা মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। মুজদালিফা পৌঁছে তারা খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করবেন, একই আজানে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন। মঙ্গলবার আবার মিনায় এসে তারা শয়তানকে লক্ষ্য করে কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। হাজীরা শয়তানকে পাথর মারার পর কোরবানি দেবেন। মুসল্লিদের কেউ কেউ নিজ হাতে মিনার অদূরে পাহাড়ে কোরবানি দেন। আবার অনেকে ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে কোরবানিতে শরিক হন। কোরবানি দেয়ার পর তারা সবাই ওইদিন অথবা সুবিধামতো সময়ে মক্কা শরিফ চলে যাবেন। মক্কা শরিফে গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফের চারদিকে সাতবার তাওয়াফ করবেন। হাজরে আসওয়াদ (কালোপাথর) চুম্বন করার চেষ্টা করবেন। জমজম কূপের পানি পান করবেন। মাকামে ইবরাহিমের পেছনে শুকরিয়া নামাজ আদায় করবেন। পরে সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে সাঈ করবেন। এরপর আবার ফিরে আসবেন মিনায়। সেখানে আবারও মিনায় শয়তানকে লক্ষ্য করে হাজীরা কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। এরপর বিদায়ী তাওয়াফ করে মাথা মু-ানো অথবা চুল কাটার মধ্য দিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন। যেসব হাজী হজের আগে মদিনা শরিফ যেতে পারেননি, তারা মদিনায় হজরত মুহাম্মদের (সা.) রওজা মোবারক জিয়ারত করবেন। এরপর হাজীরা দেশে ফিরতে শুরু করবেন।