বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করলো এমএসসি ক্রুজ

>> সাগরভ্রমণে নতুন অভিজ্ঞতার স্বাদ পাবেন বাংলাদেশিরা

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: শিপিংখাতে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান মারকো শিপিং কোম্পানি (এমএসসি) বাংলাদেশে তাদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে। এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ গ্রুপ অব কোম্পানিজ কর্ণফুলী গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। রাজধানীর গুলশানের অভিজাত একটি হোটেলে গতকাল শুক্রবার বিকেলে এমএসসির কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত জর্জিও গুগলিলমিনো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কর্ণফুলী গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি।
এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর লে. কর্নেল (অব.) মো. রাজিবুল ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইতালির রাষ্ট্রদূত জর্জিও গুগলিলমিনো বলেন, সাগরের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক সেই আদিকালের। মানুষ সবসময়ই ভ্রমণ করতে পছন্দ করে। এক্ষেত্রে এমএসসি বাংলাদেশের মানুষের জন্য যে সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে তা সত্যিই অভিনব। সাগরভ্রমণের পাশাপাশি তারা নতুন মাত্রার অভিজ্ঞতা নেয়ার সুযোগ পাবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।
মারকো শিপিং কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি বলেন, আমাদের কর্মকা-ের মধ্যে এমএসসি ক্রুজের কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি অনন্য একটি সংযোজন। আমরা চিন্তা করেছি সাগরে কীভাবে একজন ভ্রমণপিপাসু মানুষকে বিশ্বমানের সেবা দেয়া যায়। আর সেই চিন্তা থেকেই এমএসসি ক্রুজের যাত্রা শুরু। একটি পাঁচতারা কিংবা সাততারকা হোটেলে যেসব সুবিধা থাকে তার সবই থাকবে আমাদের জাহাজগুলোতে। শপিং থেকে শুরু করে থিয়েটার, সুইমিংপুল, বিশ্বমানের ক্যুইজিন উপভোগ করার সুযোগ পাবেন ভ্রমণকারীরা। তিনি বলেন, আমি মনে করি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে এ ধরনের ভ্রমণ-ব্যবস্থা বাংলাদেশে খুবই জনপ্রিয়তা পাবে। এটির বড় বাজার রয়েছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি নতুন ধারণা। একজন মানুষ একবার জাহাজে চড়লে একসঙ্গে পাঁচ-ছয়টি দেশ ঘুরার সুযোগ পাবেন। জাহাজেই সবকিছুর ব্যবস্থা থাকায় ভ্রমণকারীদের উটকো কোনো ঝামেলা পোহাতে হবে না। আভিজাত্যে আর উৎকর্ষের সর্বোচ্চটা থাকবে এমএসসি ক্রুজে।
স্বাগত বক্তব্যে লে. কর্নেল রাজিব বলেন, এমএসসি ক্রুজ সাগরভ্রমণের ক্ষেত্রে আগের সব ধারণা বদলে দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমাদের বহরে রয়েছে বিশ্বমানের ১২টি জাহাজ। একেকটি জাহাজ পাঁচতারকা হোটেলের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। এমএসসি প্রিজুয়াশা জাহাজের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এখানে রয়েছে অত্যাধুনিক সব ব্যবস্থা। ভ্রমণকারীদের জন্য প্রতিরাতেই থাকছে বিনোদন-উপভোগের সুযোগ। ইতালিয়ান, ইন্ডিয়ান থেকে শুরু করে নানা ধরনের ক্যুইজিনে থাকছে সুস্বাদু সব খাবার। ৪ হাজার ৩৪৫ জন যাত্রী একসঙ্গে প্রিজুয়াশায় চড়তে পারে।
তিনি জানান, এমএসসি গত বছর ১২ লাখ যাত্রী বহন করেছে। চলতি বছর তা ১৬ লাখে দাঁড়াবে। বিশ্বের ৪৫টি দেশে কার্যক্রম চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। আর ক্রুজসহ স্টাফ রয়েছে সাড়ে ১৫ হাজার। বিশ্বের ১৮০টি বন্দরে ভিড়ে এমএসসি ক্রুজের জাহাজগুলো।
বাংলাদেশে এমএসসি ক্রুজের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত মীর সুমন হোসেন জানান, এমএসসি ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু করে। ১০ বছরের মাথায় প্রতিষ্ঠানটির জাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২টিতে। ভ্রমণকারীদের বিশ্বমানের ভ্রমণসেবা দেয়ার জন্য প্রস্তুত আমরা।
প্রসঙ্গত, ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কর্ণফুলী গ্রুপ এরই মধ্যে চিকিৎসাসেবা, ভ্রমণসেবা, পরিবহনসেবা, মিডিয়া, রিয়েলএস্টেটসহ বিভিন্নখাতে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারিত করেছে।