সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসের প্রস্তাবে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া সম্মত হয়েছে। এ চুক্তি অনুযায়ী এক সপ্তাহের মধ্যে সিরিয়াকে তার মজুদে থাকা রাসায়নিক অস্ত্রের পূর্ণ তালিকা জাতিসংঘের কাছে জমা দিতে হবে। আর তা না হলে জাতিসংঘ সনদের সপ্তম ধারায় দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। শনিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তিন দিনের বৈঠক শেষে তিনি এ ঘোষণা দেন।

কেরি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী এক সপ্তাহের মধ্যে সিরিয়াকে তার মজুদে থাকা রাসায়নিক অস্ত্রের পূর্ণ তালিকা জাতিসংঘের কাছে জমা দিতে হবে। আর ২০১৪ সালের মাঝামাঝি নাগাদ সিরিয়ার সব রাসমায়নিক অস্ত্র জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণে আনা হবে বা তা ধ্বংস করা হবে। সেইসঙ্গে নভেম্বর পর্যন্ত জাতিসংঘের অস্ত্র পরিদর্শকদের সিরিয়ায় থাকতে দিতে বাধ্য থাকবে সিরিয় সরকার।

এতে রুশ-মার্কিন এ চুক্তিতে স্বাগত জানিয়েছে ফ্রান্স। আর এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার চালানোর তৎপরতা আপাতত বন্ধ হচ্ছে।

এছাড়া সিরিয়া যদি চুক্তির শর্ত মেনে না চলে তবে জাতিসংঘ সনদের সপ্তম ধারায় দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর তখন দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ সামরিক হামলা পর্যন্ত সব ব্যবস্থা নেয়া যাবে জানান কেরি ও লাভরোভ।

সিরিয়াকে নিরস্ত্র করার চুক্তিটি চূড়ান্ত করার জন্য এরইমধ্যে রাসায়নিক অস্ত্র নিরোধ সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে—এ কথা উল্লেখ করে কেরি আরো বলেন, সিরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন হলে কী করা হবে, তা এ চুক্তিতে অন্তভূক্ত থাকবে না। তবে সেটি মার্কিন প্রসিডেন্ট বারাক ওবামার মর্জির ওপর নির্ভর করবে। আর এটিতে বলপ্রয়োগ বা নিষেধাজ্ঞা জারির বিসয়টি অন্তভূক্ত নেই বলে জানিয়েছেন ল্যাভরভ।

সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সেনাপ্রধান রুশ-মার্কিন এ চুক্তির বিরোধিতা করে বলেন, এটি সময়ক্ষেপনের জন্য রাশিয়ার একটি পদক্ষেপ।

এদিকে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদ মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। তবে ২১ আগস্ট ঘটনার জন্য কে দায়ী সে সর্ম্পকে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। আর দামেস্কে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত বলেও জানান তিনি।