বার্তাবাংলা ডেস্ক »

কখনও মাথায় হাত তো কখনও কোমরে। কখনও হাঁটুতে ভর দিয়ে উবু। হতাশার নানা রকম প্রকাশ। বারবার উইকেট পেতে পেতেও অল্পের জন্য না পাওয়া! দিন শেষে তবু খুশি মাশরাফি বিন মুর্তজা। মূল উদ্দেশ্য যেটি, সেটির অনেকটা তো পূরণ হয়েছে!
উদ্দেশ্য, অনুশীলন। দক্ষিণ আফ্রিকায় যখন প্রথম ওয়ানডে খেলবেন, সবশেষ ওয়ানডে থেকে সেটি হবে ঠিক ৪ মাস পর। এতদিনের অনভ্যাসে বোলিংয়ে মরচে ধরে যায়। জাতীয় লিগ মাশরাফির কাছে সেই মরচে ছাড়ানোর মিশন। এই তাড়না নিয়েই সাড়ে তিন বছর পর খেলছেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে।

খুলনায় রংপুরের বিপক্ষে প্রথম দিনে তার বোলিং ফিগার ১৩-২-৫৬-০। খালি চোখে বিশেষ কিছু নয়। তবু দিন শেষে মোটামুটি তৃপ্ত মাশরাফি।

“১৩ ওভার বল করেছি। প্রত্যাশা যতটা ছিল, সেই তুলনায় ভালোই বল করেছি। অনেক গরম ছিল। সব মিলিয়ে আমার মনে হয় না খারাপ হয়েছে।”

“চাওয়া ছিল ওয়ানডেতে যে ভুলগুলি হয়, সেগুলো শোধরানো। যেমন প্রথম দুই ওভারে দুটি নো বল হয়েছে। পরে শুধরে নিয়েছি। আরও বোলিংয়ের সুযোগ আছে। আশা করি ভালো হবে।” খুলনার হয়ে এদিন মাশরাফির তিন স্পেলের বোলিংকে ভাগ করা যায় তিনটি ভাগে। প্রথম স্পেলের ৬ ওভারে ১৬ রান। উইকেটে ঘাস ছিল বেশ, যদিও বাদামী। শুরুর কিছুক্ষণ তবু ছিল পেস সহায়ক। মাশরাফিও বেশ সুইং আদায় করে নিয়েছেন। তবে বোলিংয়ে ছিল কিছুটা জড়তা। নো বল করেছেন, লাইন একটু এদিক-সেদিক হয়েছে।
দ্বিতীয় স্পেলে ৫ ওভারে দিয়েছেন ১৮ রান। এটি ছিল তার সেরা স্পেল। ব্যাটসম্যানদের ভুগিয়েছেন। বেশ কয়েকবার ব্যাটের কানা নিয়ে বল। অল্পের জন্য উইকেট পাননি কয়েকবার।

তৃতীয় স্পেল শেষ বিকেলে দ্বিতীয় নতুন বলে। এবার ২ ওভারে রান দিয়ে ফেলেন ২২।

তার শরীর এখন এক দিনে সর্বোচ্চ ১০ ওভার করতেই অভ্যস্ত। মাঠে থাকা হয়না ৫০ ওভারের বেশি। সাড়ে তিন বছর পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ফেরা মানে তার অভ্যস্ততাকেও চ্যালেঞ্জ জানানো। শেষ স্পেলটি ভালো ওই ক্লান্তি আর অনভ্যস্ততার কারণেই।

“৮০ ওভার ফিল্ডিং করার পর একটু ক্লান্তি ছিল। যেহেতু অনেক দিন অভ্যাস ছিল না। এরপর যখন বোলিং করব, তখন ক্লান্তি কমে যাবে। সব অভ্যাসের ব্যাপার। প্রথম দুই স্পেলে কোনো সমস্যা হয়নি। ছন্দ ভালো ছিল। ছোটখাটো টুকটাক সমস্যা থেকে যায়, যেহেতু ৩ মাস পর খেলছি। আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।”

এই ম্যাচ থেকে তার চাওয়া দুই ইনিংস মিলিয়ে ২৫-৩০ ওভার বোলিং। তাতে উইকেট পেলে ভালো। না পেলেও আক্ষেপ থাকবে না যদি নিজের ছন্দটা ঠিক রাখতে পারেন।

“প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলছি ওয়ানডে খেলার অনুশীলনের জন্য। বড় কোনো আশা নিয়ে খেলতে আসিনি। যেটা উদ্দেশ্য, সেদিকে মনোযোগ দিচ্ছি। আর পাশাপাশি দলকে সাপোর্ট করার চেষ্টা করছি।”

খেলছেন খুলনার হয়ে, তবে ভাবনায় তার মূলত বাংলাদেশ দল। খুলনায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিম্বার্লি, পার্ল আর ইস্ট লন্ডনের ওয়ানডের জন্য। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়েও প্রস্তুতির জন্য এই তাড়নাই বলে দেয়, কেন তিনি আজকের মাশরাফি!

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »

%d bloggers like this: