বার্তাবাংলা ডেস্ক »

আধো আলোছায়ায় বসে আছেন মনোয়ারা বেগম। বয়স জিজ্ঞাসা করামাত্রই হেসে বলেন, ‘বয়স বুলতে (বলতে) নেই।’ কালাই-রুটি বানান কবে থেকে? একগাল হেসে বললেন, জন্মের পর থেকে বানাচ্ছি। রাজশাহী শহরে সাহেববাজার এলাকায় নিয়মিত কালাই-রুটি তৈরি করেন তিনি। এলাকায় পরিচিত মুখ। খুব যত্ন নিয়ে বানাচ্ছেন কালাই-রুটি। তাঁর হাতের রুটি একবার নয়, বারবার খেতে আসে সবাই। বানানোর নিয়ম জিজ্ঞাসা করতেই বললেন মনোয়ারা বেগম, ‘আপনারা পাইরবেন নাহ। আগে হামরা (আমরা) তো মাষকলাই ডাল দিতাম বেশি আর আটা দিতাম সামান্য। কিন্তু সব জিনিসের দাম বাইরে যাওয়ায় আমরা এইর মধ্যে কলাই আর আটা মিশাই। দুই কেজি আটার সঙ্গে দুই কেজি কালাইর ডাল দিই। কাঁচা পানি আর একটু লবণ দিয়ে আটার সঙ্গে ভালো করে মিশাই। এরপর মোটা করে রুটি বানাই। মাটির পাত্রে এই রুটি সেঁকতে হয়। খড়ির চুলায় তাতে স্বাদ পাওয়া যায় ভালো।’

রুটির সঙ্গে সামান্য মরিচ আর বেগুনপোড়া ভর্তা। বরেন্দ্রভূমিতে সন্ধ্যাকালীন নাশতা হিসেবে বেশ জনপ্রিয় এই খাবার।

হাসিখুশি মানুষ। সদা হাস্যোজ্জ্বল চেহারা। কিছুক্ষণ পরপর পান মুখে দেন। পানের মুখে কথা বলতে বলতে গান গেয়ে ওঠেন নিজের পছন্দের।

মনোয়ারা বেগমের এক মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলেমেয়েরা অন্য কাজ করে। তাঁর স্বামী কৃষিকাজ করেন পদ্মার চরে। মায়ের কাছ থেকে শেখা রুটি বানানোর কাজ মনোয়ারা বেগম একাই করেন। মনোয়ারা বেগমের পরিবারে এই রুটি ছিল মূল খাবার। তাঁর মা বানাতেন আর সব ভাইবোন মিলে সকালে খেতেন। রুটি বানাতে বানাতে সেই গল্পই করলেন এই প্রতিবেদকের কাছে।

পরিবারে দুজনের জন্য যে টাকা লাগে তা হয়ে যায় এই রুটি বিক্রি করে। প্রতিদিন ৪০০ টাকার আটা-ডাল কেনেন। বেচা-বিক্রি তেমন নেই, কোনো দিন শ পাঁচেক বা হাজারখানেক টাকা পাওয়া যায়। তবে বৃষ্টির দিনে হাজার টাকার বিক্রি হয়। কারণ বৃষ্টির দিনে শখ করে মানুষ গরম কালাই-রুটি বেশি খায়।

মনোয়ারা বেগম কালাই-রুটি বানান বছরের পর বছর ধরে। তাই তো তাঁর নিজের মনে হয় তিনি বোধ হয় জন্মের পর থেকেই এই কাজ করছেন। আর তাই হয়তো তাঁর এই কাজে ক্লান্তি নেই।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »