কাল চট্টগ্রামে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: আগামীকাল বৃহস্পতিবার একদিনের সফরে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি চট্টগ্রামের ১২টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগের দলীয় জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এছাড়া সকালে চট্টগ্রামে এসে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে নেভাল একাডেমিতে নৌবাহিনীর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেভাল একাডেমীতেই মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নিবেন। সেখান থেকে বেলা আড়াইটার দিকে হেলিকপ্টারযোগে ফটিকছড়ি যাবেন। তিনি ফাটিকছড়ি থেকেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে চট্টগ্রামের ১২ টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

প্রকল্পগুলো হচ্ছে চট্টগ্রামের হালিশহরে ৮৫ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন খাদ্য গুদাম উদ্বোধন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাততলা বহিঃবিভাগ ভবন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাঁচতলা বিশিষ্ট নবনির্মিত ডেন্টাল ভবন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের নতুন প্রশাসনিক ভবন, ৫০ শয্যায় উন্নীত চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৫০ শয্যায় উন্নীত সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, লোহাগাড়া উপজেলা ট্রমা সেন্টার, ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাততলা বিশিষ্ট নারী হোস্টেল ভবন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিভিন্ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন।

তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার ফটিকছড়ি সফর এবং জনসভাকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গেলেও উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে ২০০৯ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন কর্তৃক ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হওয়া ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন উদ্বোধন ছাড়া আর নতুন কোন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন কিংবা ভিত্তি প্রস্তর না থাকায় ফটিকছড়িবাসী হতাশ হয়েছেন।

জনসভায় বেশ কয়েকটি প্রাণের দাবি প্রধানমন্ত্রী নিজ মুখে ঘোষণা দেবেন এমনটাই প্রত্যাশা সমগ্র উপজেলাবাসীর।

এ ব্যাপারে গতবারের মহাজোটের প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এটি এম পেয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেত্রী প্রথম ফটিকছড়ি আসবেন, তাই গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি ঘোষণা দিবেন বলে আশা করছি। এছাড়া ফটিকছড়িতে বিসিক শিল্প নগরী গড়ে তোলার প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে পারেন। নাজিরহাট রেল লাইন উত্তর ফটিকছড়ির ভারতীয় সীমান্ত পর্যন্ত সম্প্রসারণ এবং সেখানে স্থলবন্দর নির্মাণের দাবি রয়েছে ফটিকছড়িবাসীর।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে ফটিকছড়ির পাইন্দংয়ের ফেলাগাজীতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাকে ঘিরে সভাস্থলজুড়ে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রায় তিন হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও প্রায় এক হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থলের আশপাশ জুড়ে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, ফটিকছড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় তিন হাজার পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে জেলা পুলিশ থেকে এক হাজার বাকি দু’হাজার অতিরিক্ত পুলিশ বিভিন্ন জেলা থেকে আনা হচ্ছে।

অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন জানান, সাধারণ পুলিশ সদস্যের বাইরে প্রায় পাঁচশ’ র‌্যাব সদস্য, একশ’ এপিবিনসহ অতিরিক্ত আরও এক হাজার সদস্য জনসভাস্থলের আশপাশে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন।