এবার মহিলা এমপিদের সরাসরি লড়াই

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্যরা এবার সরাসরি ভোটযুদ্ধে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের সরাসরি ভোটে জয়ী হয়ে সংসদে ফিরতে চান তারা। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অবহেলা ও বিরোধিতায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আসনের উন্নয়ন কাজে যথেষ্ট স্বাধীনভাবে ভূমিকা রাখতে না পারার হতাশা থেকেই আসন্ন নির্বাচনে দলের মনোনয়নে প্রার্থী হতে চান তারা। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে নিজ নিজ এলাকায় সংরক্ষিত আসনের অনেক সংসদ সদস্যই নির্বাচনের জোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের এ তৎপরতায় ক্ষুব্ধ সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। তারা বিষয়টিকে দেখছেন বাঁকা চোখে। তারা বলছেন, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের নির্বাচন করার প্রস্তুতিতে দলের মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে দেখা দেবে বাড়তি জটিলতা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫৭ জন নারী ৬০ আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে জয়ী হয়ে আসেন ১৯ জন। পরে সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়নে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে এমপি হন ৫০ জন। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি হন ৪০ জন, বিএনপির মনোনয়নে এমপি হন ৫ জন। আর জাতীয় পার্টির মনোনয়নে এমপি হন ৪ জন। ৩৩১ মহিলা আসন থেকে নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য বেগম শিরীন শারমিন চৌধুরী স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আসনটি শূন্য রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত আসন সংখ্যার ভিত্তিতে সংরক্ষিত আসনে মহিলা এমপিদের সংখ্যা নির্ধারিত হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, উল্লিখিত মহিলা সংসদ সদস্যদের সিংহভাগই আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়নে সরাসরি নির্বাচন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ মমতাজ বেগম মুন্সীগঞ্জ সদর-গজারিয়া থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। নিজ এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকা-ে নিজের সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এম ইদ্রিস আলীও আওয়ামী লীগ মনোনীত। একই আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন সংরক্ষিত আসনের আরেক সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বেগম আশরাফুন নেছা মোশারফ মনোনয়ন চাইছেন ঢাকা-১৪ আসন থেকে। তার প্রতিপক্ষ একই দলের নির্বাচিত এমপি মোঃ আসলামুল হক। অধ্যক্ষ খাদিজা খাতুন শেফালী বগুড়া-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদ সদস্য সাধনা হালদার পিরোজপুর-১ আসন থেকে মনোনয়নে পেতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশায় এরই মধ্যে পিরোজপুরে তার নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছেন। তার আসনে প্রতিপক্ষ বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের একেএমএ আউয়াল।

সংরক্ষিত আসনে থাকতে চান না বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য বেগম রেহানা আক্তার রানুও। তিনি ফেনী-২ আসন থেকে দলের মনোনয়ন চাইছেন। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।

সংরক্ষিত আসনে থাকতে চাচ্ছেন না বেগম নিলোফার চৌধুরী মনি। বিএনপির এই নেত্রী জামালপুর-৫ আসনে সরাসরি নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান। এ লক্ষ্যে তিনি এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

ঢাকা-১ আসন থেকে সরাসরি ভোটে দাঁড়াতে চান জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম সালমা ইসলাম। এরই মধ্যে তিনি নির্বাচনী এলাকায় জোরেশোরে শুরু করেছেন গণসংযোগ।

জাতীয় পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট বেগম নাসরিন জাহান রতœা বরিশাল-৬ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই মনোভাব নিয়ে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় কাজ করে চলছেন সংরক্ষিত আসনের অন্যান্য সংসদ সদস্যও।

নারী আসনের সংরক্ষিত সংসদ সদস্যরা জানান, নির্দিষ্ট কোনো এলাকা না থাকায় তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না। এ কারণে সম্ভব হয় না নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা তৈরি করা। এলাকাভিত্তিক বরাদ্দ না থাকায় ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মকা-ে তারা অংশ নিতে পারেন না।

অভিযোগের সুরে সংরক্ষিত নারী এমপিরা বলেন, কাবিখা, টিআরেও নির্বাচিত এমপিদের তুলনায় তাদের বরাদ্দ থাকে কম। একেকজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যেখানে কাবিখাতে ৩০০ টন করে গম পান, সেখানে সংরক্ষিত নারী এমপিদের বরাদ্দ থাকে মাত্র ১২০ টন। আবার এক এলাকায় নির্বাচিত হয়ে কাজের সুযোগ দেয়া হচ্ছে অন্য এলাকায়। এছাড়া কাজ করতে গেলে নির্বাচিত সদস্যরা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীর চোখে দেখেন। কাজ করতে পারেন না। এছাড়া সংসদে বাজেট আলোচনায়ও তাদের কম সুযোগ দেয়া হয়। প্রতিটি পদক্ষেপে এভাবে অবজ্ঞা ও বঞ্চনার কারণে ক্ষুব্ধ তারা।

জানতে চাইলে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাধনা হালদার আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, আমার আগ্রহ আছে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হওয়ার। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে আমি আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হব।

মহিলা আসন ৪৬-এর সদস্য ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, কোনো অনুষ্ঠানে নির্বাচিতরা থাকলে আমাদের সম্মানটুকু দেয়া হয় না। আবার উন্নয়নের জন্য আমাদের বরাদ্দ থাকে না। নিজ এলাকায় কাজের সুযোগ তৈরি হয় না।

মহিলা আসন ৪০-এর সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো এলাকা না থাকায় আমরা জনগণের সেবা করতে পারি না। আবার বিরোধী দলে থাকলে তো আরও জ্বালা। আমাদের কোনো এলাকার দায়িত্বই দেয়া হয় না।

মহিলা আসন ৪২-এর সদস্য বেগম নাসরিন জাহান রতœা বলেন, নারী সদস্যরা কাজ করতে গেলে নির্বাচিত সদস্যরা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীর চোখে দেখেন। কাজ করতে পারেন না। এ কারণেই আগামী নির্বাচনে পুরুষের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদে ফিরতে চাই।