বার্তাবাংলা ডেস্ক »

বেশ একটা ছুটি শেষ হলো। শুরু হয়ে গেছে আবার ছুটে চলা ব্যস্ত জীবন। বিশেষ কোনো উৎসবের আগে নিজের যত্নে রূপচর্চাকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য আলাদা করে রাখা হয় কিছুটা সময়। কিন্তু বছরের অন্য সময় ব্যস্ততার জন্য এই সময় বের করাই যেন কষ্টকর। তাই বলে কি প্রতিদিনের জীবনযাপনে হারিয়ে যাবে ত্বক ও চুলের উজ্জ্বলতা। তা নয়, বরং নিয়মিত পরিচ্ছন্ন থাকা এবং সুস্থ জীবনযাপনই আপনাকে দিতে পারে সতেজ আমেজ।

ভোরে ঘুম থেকে ওঠা

নিজেকে প্রতিদিন সতেজ দেখতে চান? তবে ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠুন। সূর্যের প্রথম আলোকরশ্মিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি, যা ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে—জানালেন হারমনি স্পার রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা। এ ছাড়া ভোরের বাতাস মনকে প্রফুল্ল করে।

ভোরে ঘুম থেকে ওঠার মতো রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়াও জরুরি। কেননা বেশি রাত করে ঘুমালে স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে, যার প্রভাব পড়ে চেহারা ও মনে। যে জন্য প্রতিদিন আট ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি। ঘুম থেকে ওঠার পরপরই প্রতিদিন খালি পেটে লেবুপানি খাওয়ার পরামর্শ দিলেন রাহিমা সুলতানা। লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি, যা ত্বক ও চুলের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। এদিকে গরম পানি পেট পরিষ্কার রাখে। লেবুর রস মেশানো এক কাপ কুসুম গরমপানি খালি পেটে খেলে তা ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।

এক চিরুনি সবাই নয়

নিজের পরিচ্ছন্নতার জন্য কিছু বিষয় খেয়াল রাখার পরামর্শ দিলেন মিউনিস ব্রাইডালের রূপবিশেষজ্ঞ তানজিমা শারমীন। যেমন অনেকের বাসায় একই চিরুনি সবাইকে ব্যবহার করতে দেখা যায়। এটা করা মোটেও ঠিক নয়। কারণ একেকজনের মাথার ত্বকের ধরন একেক রকমের হয়ে থাকে। যে কারণে মাথার ত্বকে নানা ধরনের সংক্রমণ হতে পারে। একই কারণে একজনের তোয়ালেও অন্যজনের ব্যবহার করা ঠিক নয়।

চুলে তেল চাই নিয়মিত

চুল সতেজ রাখতে তেলের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। যেদিন শ্যাম্পু করবেন, তার ঠিক আধঘণ্টা আগে চুলে তেল লাগিয়ে নিন। এতে চুল তো সুন্দর হবেই বাড়তি কন্ডিশনারেরও প্রয়োজন হবে না। একইভাবে গোসলের পর ত্বকের ধরন বুঝে ময়েশ্চারাইজার বা তেল লাগাতে পারেন।
সকালেই গোসল

প্রতিদিনের পরিচ্ছন্নতায় গোসলের কোনো বিকল্প নেই। গোসল তো প্রতিদিন সবাই করেন, তবে সকালবেলার গোসলটা বেশ উপকারী। রাহিমা সুলতানা জানালেন, শরীরের অভ্যন্তরীণ গঠনের কাজগুলো সাধারণত রাতেই হয়ে থাকে। যে কারণে সকালে লোমকূপে অনেক টক্সিন (বিষ) জমে। এ জন্য সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে গোসল করলে শরীর তো পরিষ্কার হয়ই পাশাপাশি মনটাও হয় ফুরফুরে। যদি বাইরে কোনো কাজ থাকে তাহলে গোসলের পরপরই হালকা সুগন্ধি ব্যবহার করুন। একইভাবে বাইরে থেকে বাড়ি ফিরে গোলাপ, বেলি বা কোনো সুগন্ধি ফুলের পাপড়ি মেশানো পানি দিয়ে মুখটা পরিষ্কার করে নিন। কারণ সুগন্ধি মনকে সতেজ করতে সাহায্য করে।

হাঁটা জরুরি

সুস্থ থাকতে শরীরচর্চার কোনো বিকল্প নেই। তবে যাদের আলাদা করে শরীরচর্চার সময় মিলবে না তাদের জন্য প্রতিদিন আধঘণ্টা হাঁটাই যথেষ্ট। পারসোনা জিমের প্রধান প্রশিক্ষক ফারজানা খানম জানালেন, কাছাকাছি দূরত্বে কোথাও যেতে যানবাহন ব্যবহার না করে হাঁটা ভালো। দূরে কোথাও গেলে যেখানে যাচ্ছেন তার এক স্টপেজ আগে নেমে হেঁটে যেতে পারেন। তবে আস্তে নয় হাঁটতে হবে দ্রুত।

নজর দিন পুষ্টির দিকে

শরীরচর্চা ও পরিচর্যার পাশাপাশি পুষ্টির দিকেও নজর দিতে হবে। অ্যাপোলো হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী জানালেন, এ জন্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অবশ্যই ভিটামিন এ, সি, ই এবং প্রোটিন থাকতে হবে। এগুলোর কোনো একটার ঘাটতি হলেই মলিন হয়ে উঠবে ত্বক ও চুল। এ ছাড়া ত্বক ও চুলের সতেজতা ধরে রাখতে প্রতিদিন অবশ্যই আড়াই লিটার পানি পান করার পরামর্শ দিলেন এই পুষ্টিবিদ। তিনি জানান, প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ ও ডিম খেলে এমনিতেই উজ্জ্বল হয়ে উঠবে ত্বক ও চুল।
ছোট ছোট পরিবর্তনেই ফুরফুরে

অনিয়ন্ত্রিত জীবনচর্চা যেমন বেশি রাতজাগা, দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, পরিমিত পুষ্টিকর খাবার না গ্রহণ এবং অপরিচ্ছন্ন থাকলে এর একটা প্রভাব তো বাহ্যিক সৌন্দর্যে পড়বেই। তাই জীবনযাপনে ছোট ছোট পরিবর্তন এনে আপনিও সব সময় থাকতে পারেন সতেজ ও ফুরফুরে। এ জন্য প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে ঘুমানো, পরিমিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত হাঁটা ও পরিচ্ছন্ন থাকা—এসব মেনে চলাই যথেষ্ট।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »