বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনতে না পারা অমার্জনীয় ব্যর্থতা : সুরঞ্জিত

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের মধ্যে যারা বিদেশে অবস্থান করছে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করতে না পারাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অমার্জনীয় ব্যর্থতা বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
তিনি বলেন, “সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চেষ্টা সত্ত্বেও আমরা এখনো বঙ্গবন্ধুর খুনিদের অনেককে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করতে পারিনি। এটা নিয়ে সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী যত বলেছেন তার চেয়ে বেশি বলেছেন উপদেষ্টা। আমি মনে করি এটা পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের অমার্জনীয় ব্যর্থতা।”

শুক্রবার সকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু একাডেমী আয়োজিত ‘জামায়াতের অবৈধ হরতাল, বিএনপির দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র-সরকারের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সুরঞ্জিত বলেন, “এখনো বলা হচ্ছে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। আর মাত্র কয়েক মাস, এর পরেই নির্বচানের মাধ্যমে জনগণ ভোট দিয়ে নতুন সরকার গঠন করবেন। আমি মনে করি এটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বঙ্গবন্ধুর খুনিদের কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করতে হবে।”

নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে সমঝোতার পথ তত ক্ষীণ হয়ে আসছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, “বিএনপি হুঙ্কার দিচ্ছে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারে পতন ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু এটা ইতিহাসে নেই। আমি বলব আপনারা (বিএনপি) সমঝোতার পথে সংবিধানের পথে আসেন। তা না হলে দেশের গণতন্ত্র সংবিধানের পথ যদি কণ্টকাকীর্ণ হয় তা হলে এর জন্যে দায়ী থাকবেন আপনারা।”

তিনি বলেন, “আমাদের এখনো সমঝোতার সংস্কৃতি গড়ে উঠেনি। আর বিরোধী দলের জন্যে যদি সমঝোতা না হয়, তারা যদি সমঝোতার পথ বন্ধ করে দেয়, তাহলে সরকারকেই একতরফাভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচনের ঘোষণা দিতে হবে।”

একটি জাতীয় দৈনিকের বরাত দিয়ে সুরঞ্জিত বলেন, “তিনজন মন্ত্রী নাকি হিটলিস্টে আছে। আমি তো একাই এক নম্বর। দফরতবিহীন তো আর দুই নম্বর নেই। দফতরই নেই এটা আর কি মন্ত্রী?”

তিনি বলেন, “আমি এর আগেও তিনবার হিটলিস্টে ছিলাম। দুইবার আমার নির্বাচনী এলাকায়। আর একবার ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলায়। এখন আবার বলা হচ্ছে আমার নাকি হাত ভেঙে দেয়া হবে।”

ধর্ম নিয়ে রাজনীতি না করার আহ্বান জনিয়ে তিনি বলেন, “ধর্মের কোনো সীমানা নেই। আমি এর আগেও বলেছি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করবেন না। এখানে যারা সংখ্যালঘু একটু দূরেই তারাই আবার সংখ্যাগুরু। রামুতে বৌধমন্দির হামলা করলেন, এর একটু পরেই মিয়ানমার, সেখানে বৌদ্ধরাই সংখ্যাগুরু। এখানে হিন্দুদের সংখ্যালঘু বলা হয়, আর পাশের দেশ ভারতে হিন্দুরাই সংখ্যাগুরু।”

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ সেলিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) স্থায়ী কমিটির সদস্য মীর হোসেন আক্তার, সাম্যবাদী দলের হারুন চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু একাডেমীর মহাসচিব হুমায়ুন কবির মিজি, উপদেষ্টা ফাতেমা জামান সাথী প্রমুখf