বিসিবির ডিসিপ্লিনারি ট্রাইব্যুনাল গঠন

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলামকে প্রধান করে বুধবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ডিসিপ্লিনারি ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে। এ ট্রাইব্যুনালের আরেক সদস্য হচ্ছেন আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি।

গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ফিক্সিংয়ের সঙ্গে ৯ জন খেলোয়াড় এবং টিম ফ্র্যাঞ্চাইজির জড়িত থাকার প্রমাণের কথা বলে আইসিসির আন্তর্জাতিক অপরাধ ইউনিট (আকসু)।

আইসিসির মত, বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটি মনোনিত ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল ফিক্সিংয়ে জড়িতদের শাস্তি দেবে, যা ৫ বছর থেকে আজীবন নিষেধাজ্ঞা পর্যন্ত হতে পারে। আর বিসিবির দেয়া শাস্তিই মেনে নেবে আইসিসি।

ওইদিন যৌথ সংবাদ সম্মলেন এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান, আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন ও বিসিবির সভাপতি সাংসদ নাজমুল হাসান পাপন।

তবে ট্রাইব্যুনাল প্রকাশ করার আগেই বিপিএলে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে অভিযুক্ত ৯ জন ক্রিকেটার ও কর্মকর্তার নাম ফাঁস হয়ে গেছে। তারা সবাই ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স ক্লাবের। এর আগে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত কারো নাম প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছিলেন আইসিসির নির্বাহী প্রধান ডেভিড রিচার্ডসন। ৩ সদস্যের একটি ট্রাইব্যুনাল এ ৯ জনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে বলেও জানানো হয়।

২৪ ঘণ্টাও পার হওয়ার আগেই অভিযুক্ত ৯ ক্রিকেটার ও কর্মকর্তার নাম জানাজানি হয়ে যায়। সবাই ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স ক্লাবের। আশরাফুলই কেবল অভিযোগ স্বীকার করলেও অন্যরা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।

ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের বোলিং কোচ মোহাম্মদ রফিক খেলোয়াড়ি জীবনে কখনো গায়ে দাগ লাগতে দেননি। কিন্ত কোচিং ক্যারিয়ারে এসেই ফিক্সিংয়ের তকমাটা লাগলো।

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে দেশ টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, এ ফিক্সিংয়ের সঙ্গে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স পরিচালক এবং ইউরোপা গ্রুপের মালিক সিহাব ও সেলিম এইচ চৌধুরী জড়িত।

আকসুর তদন্তেও মোহাম্মদ রফিকের কথার সত্যতা পাওয়া যায়। ২০১২ সালে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের বোলার নাভেদ উল হাসান রানার ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা উঠেছিলো। তবে সেবার কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।

প্রশ্ন থেকে গেলেও এবারের বিপিএলে চিটাগং কিংসের বিপক্ষে ঢাকা গ্ল্যাডিয়টর্স ম্যাচটি ছিলো আকসুর আতশি কাঁচের নিচে। এবং সেইসঙ্গে ক্লাবটির পরিচালক সেলিম এইচ চৌধুরী এবং শিহাব এইচ চৌধুরীর এ কাণ্ডে জড়িত থাকার কথাও প্রকাশ পায়। অথচ অনেক আগে থেকেই ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে জড়িত ছিলো এ ২ জন।

ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স যে ম্যাচে চিটাগং কিংসের কাছে হারে সে ম্যাচের ক্যাপটেন্সি করেন মোহাম্মদ আশরাফুল। আর সে ম্যাচকে কেন্দ্র করেই বিপিএলে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আকসুর তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে।

প্রতিবেদনে অভিযুক্ত সবাই যেখানে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, সেখানে কেবল আশরাফুল অকপটে ক্রিকেটের কালো অধ্যায়ের সঙ্গে নিজের জড়িত থাকা স্বীকার করেছেন।

মোশারফ হোসেন রুবেল এবং মাহবুবুল আলম রবিন ২ জনই হচ্ছেন ঢাকা ডিভিশনের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। এবং এরা বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। রুবেল স্পিনারের পাশাপাশি একজন অলরাউন্ডার।

বাংলাদেশের পেসার সমস্যা সমাধানের স্বপ্নটি রবিনকে নিয়েই দেখতো সবাই। টেস্ট খেলুড়ে এ ক্রিকেটারই চিটাগং কিংসের বিপক্ষে আশ্চর্যকর সেই নো বল করেছিলেন।

তদন্তে উঠে আসা ২ জন বিদেশি তারকার মধ্যে একজন কুশাল লোকুয়ারাচ্চি। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের অলরাউন্ডার তারকা। আন্তর্জাতিক ম্যাচও খেলেছেন এ লঙ্কান ক্রিকেটার।

৪টি টেস্ট, ২১টি ওয়ানডে ম্যাচ ও ২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষেও খেলা ম্যাচগুলোতেও ভালো করেন তিনি। তারই প্রেক্ষিতে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স দলে জায়গা করে নেন লোকুয়ারাচ্চি।

ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে ২০১৩ আসরে ইংল্যান্ডের ড্যারেন স্টিভেন্স বেশ কয়েক ম্যাচেই নিজের প্রতিভা মেলে ধরেছেন। লিচেস্টায়ারের হয়ে প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেট খেলেছেন। তবে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেননি তিনি।

অভিযুক্ত খেলোয়াড়দের ৫ জনই হচ্ছেন বাংলাদেশি জাতীয় দলের হয়ে খেলা খেলোয়াড়।