বার্তাবাংলা ডেস্ক »

আজকাল আলসেমি ভাবটা যেন একটু বেশি পেয়ে বসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার পর্দায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ জানিয়ে দিচ্ছি আলসেমিমাখা দিনের কথা। ‘লেজি ডে’, ‘লেজি মি’ লেখা পোস্টগুলো যেন আলসেমিতে আক্রান্ত করে। হ্যাঁ, এটা ঠিক, মাঝে মাঝে আলসেমি করতে দোষের কিছু নেই। আলসেমি থেকে ঝামেলা হলে প্রতিদিনের জীবনে বেগ পেতে হচ্ছে।
তাই আলসেমি কাটিয়ে উঠতে যেকোনো কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর কথা বলেছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘সাধারণত আমাদের মাঝে আলসেমি ভাবটা তখন আসে, যখন কোনো কাজের জন্য আমাদের মধ্যে আগ্রহ কম কাজ করে অথবা অনেক কাজ জমিয়ে রাখলেও এমনটা হতে পারে। এর বাইরে কেউ যদি মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত হোন, সে ক্ষেত্রেও আলসেমি ভাব দেখা দিতে পারে। আবার অনেকে চান, কিন্তু আলসেমি কাটিয়ে উঠতে পারেন না। কারণ, আপনার অবচেতন মন আপনাকে কাজের ব্যাপারে উদ্যমী হতে দিচ্ছে না। আলসেমি কাটাতে প্রথমেই নিজেকে আগ্রহী করে তুলতে হবে। কাজগুলোর গুরুত্ব, সময়ের গুরুত্ব—সবকিছু নিয়েই ভাবতে হবে। এটি একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হিসেবে আপনাকে কাজ করার ক্ষেত্রে মনোযোগী হতে সাহায্য করবে। তবে এই অভ্যাস কাটিয়ে উঠতে অবশ্যই ধৈর্য ধরতে হবে।’

যেসব বিষয়ে লক্ষ রাখতে পারেন
প্রথমেই ভাবুন, আপনার আলসেমির পেছনে কারণ কী? প্রতিদিনই কাজ জমা দিতে দেরি কেন হচ্ছে? কাজ করতে কি আপনি ভালো বোধ করছেন না, নাকি আপনি কাজটি সম্পর্কে কোনো ধরনের ভয় পাচ্ছেন? এ ধরনের প্রশ্নগুলো আমাদের সমস্যার কারণ খুঁজে বের করতে সাহায্য করে। কারণ খুঁজে বের করার পরই চেষ্টা করুন, সমাধান কী কী হতে পারে। যদি আপনি সমাধানের জায়গাটায় কোনো উত্তর খুঁজে না পান, তবে সাহায্য নিন আপনার কাছের মানুষের। এটা হতে পারে আপনার বন্ধু, সহকর্মী; এমনকি আপনার বসও। মনে রাখবেন, আপনি যদি সমস্যার কারণ খুঁজে বের করতে পারেন, তবে সমাধানও বের করতে পারবেন। শুধু দরকার চেষ্টার।

নতুন করে শুরু করুন
যে কাজটিতে আপনি এখন অলসতা করছেন, নিশ্চয়ই তা একসময় আপনার প্রিয় কাজ ছিল। অনেক সময় দেখা যায়, একইভাবে একটি কাজ অনেক দিন ধরে করলে সেই কাজের প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে একই কাজ নতুনভাবে শুরু করুন। অর্থাৎ কাজের প্রক্রিয়ায় নতুনত্ব আনুন। আগে কাজ করার সময় যে বিষয়গুলো আপনার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগত, তা নিয়ে ভাবুন এবং সেই ভাবনা মাথায় রেখেই নতুন উপায়ে কাজ করে দেখুন। নতুনভাবে পুরোনো কিছু শুরু করলে কাজের গতিতে পরিবর্তন আসে, যা আলসে ভাব দূর করতে সাহায্য করে।

সময় ভাগ করে নিন
যেহেতু আলসেমির কারণে কাজ শুরু করাটাই অনেক বেশি কষ্টের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াচ্ছে, সে ক্ষেত্রে ভাগ করে নিতে পারেন আপনার কাজের সময়। অল্প অল্প করে শুরু করতে পারেন অপছন্দের কাজটি। কিছুক্ষণ কাজ করে একটু চা কিংবা কফি পান করতে পারেন অথবা পাশের ডেস্কের সহকর্মীর সঙ্গেও করতে পারেন হালকা আলাপ। এরপর আবার বসে পড়ুন কাজে। এভাবেই একটা সময় বেঁধে এগোতে পারেন। এতে করে কাজও এগোবে এবং আলসেমি ভাবটাও কেটে যাবে।

কাজের ক্ষেত্রে স্মার্টনেস
কাজের ক্ষেত্রে স্মার্টনেসও আপনাকে আলসেমি থেকে রক্ষা করবে। অনেক বেশি কাজ না করেও আপনি কিন্তু চাইলেই কিছু পন্থা অবলম্বন করে অল্প সময়ে নিজের কাজটি করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সময় ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সময় আর কাজকে ছকে বেঁধে, কোন কাজটা আগে করা যায়, কোন কাজে আমি বেশি ভালো এবং নিজের মাঝে ‘আমি এটা শেষ করবই’—এ কথা মাথায় রেখে কাজ করলেও কাজ অনেক দ্রুত শেষ হয়ে যায়। ফলে আলসেমি ভাব আপনাকে জড়িয়ে ফেলার আগেই আপনি নিজেকে কাজ থেকে ছুটি দিতে পারবেন।

জোর দিন নিজেকে
অন্যকে জোর খাটিয়ে কতই তো কাজ করিয়ে নিই আমরা। এবার আলসেমি কাটাতে জোর করুন নিজেকে। যখন ছক কিংবা সময় বেঁধে কাজ করা কোনো কিছুতেই আলসেমি ভাব দূর হচ্ছে না, তখন নিজেই নিজেকে জোর করুন। কাজটি আপনার করতেই হবে এবং আপনি সেটি করবেন, এটা মাথায় রেখেই করুন। নিজের আলসে সত্তা আর কর্মঠ সত্তা—দুটিকেই মুখোমুখি করুন। যদি আপনি আলসেমি কাটিয়ে কাজটি করতে পারেন, তবে নিজেকে সাধুবাদ জানান আর যদি না পারেন, সে ক্ষেত্রে নিজেকে আরও কাজ করতে উৎসাহী করুন। মোটকথা, একবার যখন ভেবেই ফেলেছেন, আলসেমি কাটিয়ে উঠবেন; তবে হাল ছাড়বেন না মোটেও। কারণ, আপনিই পারবেন আপনাকে গড়ে তুলতে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »