সাঈদীর আপিল আবেদনের শুনানি ১৭ সেপ্টেম্বর

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: জামাত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদনের শুনানির দিন আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ঠিক করেছে আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি মো. মোজ্জাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৫ সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

সরকার পক্ষে অতিরিক্ত অ্যার্টনি জেনারেল এমকে রহমান ও আসামিপক্ষে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

গত ৩ এপ্রিল আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল আবেদনের সারসংক্ষেপ জমা দেয় সরকারপক্ষ। ১৬ এপ্রিল সারসংক্ষেপ জমা দেয় আসামিপক্ষ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ও একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী ‘শান্তি কমিটি’ ও রাজাকার বাহিনীর সদস্য বর্তমান জামাত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ওরফে দেলুকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল-১।

সাঈদীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত ২০টি অভিযোগর মধ্যে ৬, ৭, ৮, ১০, ১১, ১৪, এবং ১৬ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে হত্যা লুট অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, নির্যাতন এবং ধর্ষণের মতো অপরাধ। এছাড়া সাঈদীর বিরুদ্ধে আনা ৫,৯, ১২, ১৫, ১৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে ২৮ জন ও আসামিপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৭ জন।

ট্রাইব্যুনাল ১-এ সাঈদীর এ মামলাটি এক নম্বর মামলা। এই ট্রাইব্যুনালের এটি প্রথম রায়।

ফিরে দেখা কিছু কথা :

গত ২৯ জানুয়ারি মামলার যুক্তিতর্ক শেষ করে যেকোনো দিন রায় দেয়া হবে মর্মে (সিএভি) রেখে দেয়া হয়। তারও আগে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর এই মামলা কার্যক্রম শেষে রায়ের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু ১১ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যানের পদ থেকে বিচারপতি নিজামুল হক সরে দাঁড়ান। পরে বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরকে চেয়ারম্যান করে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়।

এরপর আসামিপক্ষ মামলাটি পুনর্বিচারের আবেদন করে। গত ৩ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল পুনর্বিচারের আবেদন খারিজ করে নতুন করে যুক্তি উপস্থাপনের নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন সাঈদীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এ মামলায় ২০১১ সালের ১১ জুলাই সাঈদীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। আর ১৪ জুলাই তার বিরুদ্ধে এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। ওই বছরের ৩ অক্টোবর সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন এবং ৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর মধ্য দিয়ে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়া হয়। আর গত বছরের ২৩ অক্টোবর দুই পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর ৫ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুইপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন করে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুরে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ ও এ ধরনের অপরাধে সাহায্য ও জড়িত থাকার ঘটনায় ২০টি অভিযোগ আনা হয় সাঈদীর বিরুদ্ধে। কিন্তু আদালত ১৯টি অভিযোগ আমলে নিয়ে আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।