সব্যসাচী প্রকাশক সিকদার আবুল বাশার : ‘গতিধারা’র প্রাণপুরুষ

রাজিব আহমেদ :: কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে যারা এগিয়ে যান, তাদের কখনো পিছন ফিরে তাকানোর প্রয়োজন হয় না। আর তার সঙ্গে যদি যুক্ত হয় গতি, গতির ধারার মিশেলে ‘গতিধারা’র প্রাণপুরুষ, বাংলাদেশে প্রকাশনা শিল্পের জীবন্ত কিংবদন্তি সিকদার আবুল বাশার- যিনি শুধু সৃজনশীল প্রকাশকই নন, একাধারে গবেষক, অনুবাদক, সাহিত্যিক ও অঙ্কন-শিল্পী।
সৃষ্টিশীল এই মানুষটি একের পর এক মানসম্পন্ন ও দৃষ্টিনন্দন প্রকাশনার মাধ্যমে ‘গতিধারা’কেই শুধু প্রকাশনা শিল্পের শীর্ষে পৌঁছে দেন নি, নিজেকেও প্রতিষ্ঠিত করেছেন অতি উচ্চ একটি মাত্রায়। লেখক যদি সব্যসাচী হতে পারেন, সিকদার আবুল বাশার অবশ্যই সব্যসাচী প্রকাশক।
সিকদার আবুল বাশার-এর প্রকাশনার দিকে চোখ ফেরালেই তাঁর রুচিশীলতার প্রমাণ মেলে। গতিধারা প্রকাশিত হাজারো গ্রন্থ তাঁর মেধা, মনন, পরিশ্রম ও শিল্পবোধের সাী হয়ে আছে। এর মধ্যে একদিকে রয়েছে সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের মতো বিষয়; অন্যদিকে ভাষাতত্ত্ব, লোকসাহিত্য, প্রাচীন ও সমসাময়িক সাহিত্য, অভিধান, নন্দনতত্ত্বসহ নানা বিষয়বৈচিত্র্য। তিনি বিশ্বাস করেনÑ লেখক নয়, গ্রন্থের বিষয় প্রকরণই প্রকাশনার মূল উপজীব্য হওয়া উচিত।
আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চার পথিকৃৎ, চারণ গবেষক ও ব্যতিক্রমী প্রকাশক সিকদার আবুল বাশারের জন্ম ৩০ ডিসেম্বর ১৯৬৫ তারিখে ঝালকাঠি জেলার তারুলি গ্রামে। বাবা আবদুল সামাদ সিকদার, মা সৈয়দা আশ্রাফুন নেছা (ফকেরুনেছা)। বিভাগ-পূর্বকালে আবদুস সামাদ শিকদার কলকাতায় ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলে শিাজীবন শেষ করে ভারতের জামসেদপুর টাটা ইঞ্জিনিয়ারিং-এ চাকরি করতেন। তাঁদের আদি পুরুষ ছিলেন নবাব সিরাজদ্দৌলার রাজসভার কর্মচারী। নবাবের পতন ঘটলে তাঁরা এদেশে চলে আসেন এবং কীর্তিপাশা ও বাসণ্ডার জমিদারের এক অংশের জমিদারি লাভ করেনÑ যেটি বর্তমানে তারুলি গ্রাম।
শিকদার পরিবারের উদ্যোগেই ১৯৩৩ সালে তারুলি গ্রামে নিজবাড়িতে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৯৫৭ সালে একটি উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ বিদগ্ধজনের সঙ্গে শিকদার বাড়ির নিবিড় যোগাযোগ ছিল। তৎকালীন পূর্ববাংলায় ইসলাম প্রচারের জন্য ভারতের জৈনপুর থেকে আধ্যাত্মিক ধর্মীয় নেতারা যখন এদেশে আসতেন, তখন শিকদারবাড়িই হতো তাদের মূল আশ্রয়স্থল।
সৃষ্টিশীল মানুষেরা সবসময়ই কিছুটা একরোখা ও প্রচারবিমুখ হয়ে থাকেন; বাশারও এর ব্যতিক্রম নন। তিনি বলেন, সেই মুঘল আমল থেকে আমাদের বংশীয় মর্যাদা দৃষ্টান্তমূলক। দাদা তাহসিন উদ্দীন শিকদার তিন ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। সততা ও সমাজসেবা, ন্যায়বিচারের জন্য ‘মুন্সি মিঞা’ খেতাবপ্রাপ্ত। চাচা ছাবেদ আলি শিকদার ব্রিটিশ-ভারতের জেলা রেজিস্ট্রার, সমাজসেবক ও বরিশালের ওয়াকফ এস্টেটের মুতাওয়াল্লি। চাচাতো ভাই এম. ফজলুর রহমান সকল পরীায় প্রথম স্থান অধিকারী প্রখ্যাত শিাবিদ ও প্রশাসক। তিনি পূর্ব পাকিস্তানের শিা উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নির্যাতিত হন। তিনি পাকিস্তান পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য থাকা অবস্থায় লন্ডনে প্রয়াত হন। উপরোক্ত সবাই ছিলেন সমাজ তথা দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ, কিন্তু প্রচারবিমুখ।
সাদা মনের মানুষ আবুল বাশার নাড়ির টানেই বারবার গ্রামে ফিরে যান। শিার আলো জ্বালানোর ল্েয তিনি নিজগ্রামে একটি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেছেন। শুধু নিজ গ্রামেই নয়, বাংলাদেশের যে কোনো অঞ্চলে এমন উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান নীরবে নিভৃতে সৌজন্যমূলক গ্রন্থ ও অর্থ সহায়তা দান করে।
সংগ্রামী মানুষ সিকদার আবুল বাশার মনে করেন, একজন মানুষের সফলতা যুগ যুগ ধরে অম্লান রাখতে তাকে অন্তত তিনটি ভালো কাজ করে যেতে হবেÑ প্রথমত, সুযোগ্য সন্তান তৈরি করে যাওয়া; দ্বিতীয়ত, একটি ভালো বই লিখে রেখে যাওয়া; তৃতীয়ত, বৃরোপণ করা। রূপক অর্থে ব্যবহৃত বৃরোপণ বলতে তিনি বুঝিয়েছেনÑ কোনো শিা প্রতিষ্ঠান, গ্রন্থাগার অথবা এমন কিছু প্রতিষ্ঠা করা, যা তার মৃত্যুর পরেও জ্ঞানের আলো ছড়াবে বৃরে শাখা-প্রশাখা বিস্তার ও ফলদানের মতো।
উদ্যমী এই মানুষটির অর্জন একেবারে কম নয়। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মর্যাদার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক েেত্রও তিনি পেয়েছেন সম্মাননা ও স্বীকৃতি। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০০৮-এ সেরা মানের গ্রন্থ প্রকাশনার জন্য তিনি সম্মাননা লাভ করেন। ২০০১, ২০০২ ও ২০০৩ সালে পরপর তিনবার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র কর্তৃক শ্রেষ্ঠ প্রচ্ছদশিল্পী নির্বাচিত ও পুরস্কৃত হন। প্রকৃত অর্থেই তিনি একজন ঝবষভ-সধফব সধহ। পাণ্ডুলিপি প্রাপ্তি থেকে বইয়ের মলাটবন্দি পর্যন্ত যে ক’টি ধাপ পেরুতে হয়, তার প্রতিটিতেই থাকে তাঁর আন্তরিক শ্রম ও যতেœর ছোঁয়া।
সিকদার আবুল বাশার তাঁর সফলতার নেপথ্যে দেশের বরেণ্য ইতিহাসবিদ এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গবেষকের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করেন। তঁদের সমর্থন না পেলে এত অল্প সময়ে কঠিন সব কাজ করা সম্ভব হতো না বলে মনে করেন।
বাশার বলেন, দেশ ও জনগণের জন্য যে দায় নিয়েছি তাতে সরকারি আনুকূল্য আশা করি না; তবে সরকার যেন বিভিন্ন পাঠাগার ও প্রতিষ্ঠানের জন্য ভালো মানের বই কেনেন, আমাদের গৌরবময় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপর প্রকাশিত গ্রন্থ অধিক হারে সংরণ করেনÑ সেটাই আশা করি। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই কিনতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোরও এগিয়ে আসা উচিত।
অপ্রিয় হলেও সত্যি যে, বাংলাদেশের প্রকাশকেরা যতটা না সৃজনশীল ও সৃষ্টিশীল তার চাইতে অনেক বেশি বাণিজ্যিক ধ্যান-ধারণা পোষণ করেন। যেহেতু তিনি বিনিয়োগ করেন, সেহেতু ব্যবসার দিকটি প্রাধান্য পাবে- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু লেখকের সৃজনশীলতার পুরস্কার যদি সম্মানের পরিবর্তে অবজ্ঞা হয়, সেটা দুঃখজনক। সিকদার আবুল বাশার এেেত্র আর সব প্রকাশকদের চেয়ে আলাদা।
অধিকাংশ প্রকাশক যখন বাণিজ্য তরণীর কুশন চেপে বসে বৈতরণী পার হওয়ার প্রাণান্ত চেষ্টায় রত, তখন এর বিপরীতে তরী ভাসিয়েছেন বাশার। তিনি উপলব্ধি করেছেন- যে জাতির ইতিহাস নেই সে জাতি পিতৃ-মাতৃ পরিচয়হীন। তাই তিনি নিজেই মাথায় তুলে নিয়েছেন জাতির ইতিহাস উদ্ধারের দায়।
হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস পুনঃপ্রকাশ করে তিনি যেমন অতীতকে তুলে আনছেন, তেমনি বাংলাদেশের সব জেলার স্থানীয় ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিজে উদ্যোগী হয়ে লিখিয়ে নিয়ে প্রকাশ করছেন, জাতীয় দায়িত্ব পালন করছেন। সমাজে এমন দু’এজন মানুষ তো থাকবেনই যাঁরা লাভ-লোকসানের হিসাব না কষে জাতীয় দায় কাঁধে তুলে নেন। সিকদার আবুল বাশার অবশ্যই সে শ্রেণীতে অবস্থান করছেন।
আঞ্চলিক ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহের কারণ জানতে চাইলে বাশার বলেন, ‘আজ থেকে কয়েক যুগ বা শতাব্দী আগে যখন বিভিন্ন ইতিহাসের বই লেখা হয়েছে, সেই একই সময় অনেকেই হয়তো গল্প-উপন্যাস-কবিতা লিখেছেন; বই আকারে সেসব প্রকাশিতও হয়েছিল। কিন্তু অনেক বছর পেরিয়ে এসে কেউ কি সেইসব সৃজনশীল সাহিত্যের কথা মনে রেখেছেন? রাখেন নি। অথচ পাঠক এখনো ইতিহাস-ঐতিহ্যের বইগুলো খোঁজেন।  কারণ মানুষ তার নিজের অস্তিত্বের প্রয়োজনেই অতীতটা জানতে চায়। এই চাওয়াটা চিরন্তন। আমি যখন ইতিহাস-ঐতিহ্যের বইয়ের দু®প্রাপ্যতা উপলব্ধি করলাম, তখনি এই দিকে মনোনিবেশ করি। কারণ শেকড় দুর্বল হলে গাছ দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারে না। আমি তাই জাতির শেকড় সন্ধানে নেমেছি।’
গতিধারা প্রকাশনা সংস্থার প্রায় সকল বইয়ের প্রচ্ছদশিল্পী সিকদার আবুল বাশার নিজেই। অসম্ভব সুন্দর সেইসব প্রচ্ছদ। প্রচ্ছদ দেখলে যে কেউ তাঁর শৈল্পিক বোধের মুন্সিয়ানা স্বীকার করে নেবেন। জাত শিল্পী বোধহয় একেই বলে! তিনি খুব সুন্দর পরিচ্ছন্ন, কোমল হৃদয়ের অধিকারী এবং বিনয়ী একজন মানুষ। বিশেষ করে এতিম শিশু ও দুঃস্থদের প্রতি তাঁর যে দরদ, সেটা সচরাচর বিরল।
একবার তাঁর প্রতিষ্ঠানের কোনো এক কর্মচারীর অসততা ঘটনাচক্রে তাঁর কাছে ধরা পড়ে যায়। তখন পর্যন্ত ঘটনা জানা গেলেও কে ঘটিয়েছে সেটা জানা যায় নি। বাশার ভাই তাঁর সকল কর্মচারীকে একত্রিত করে ঘোষণা দিলেন- যে এই চুরির সঙ্গে জড়িত, স্বীকার করলে তার বেতন বাড়িয়ে দেওয়া হবে! সিকদার আবুল বাশার-এর যুক্তি হলো, আমি তাকে যে বেতন দেই তাতে হয়তো তার চলে না বলেই চুরির পথে পা বাড়িয়েছে। সুতরাং স্বীকার করলে বেতন বাড়িয়ে দেব; যেন আর চুরি করতে না হয়। কী অদ্ভুত ঘোষণা! এমন ধারণা যেন কেবল তাঁর মুখেই মানায়।
তিনি মাঝে মাঝে এমন কথা বলেন, যা শুনলে হাস্যকর মনে হবে; কিন্তু একটু গভীরভাবে পর্যবেণ করলে সিকদার আবুল বাশার-এর চিন্তার গভীরতা টের পাওয়া যায়। যেমন তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোটি টাকার উপরে ঘুষ বৈধ করে দেওয়া উচিত এই শর্তে যে-ঘুষের টাকা লেনদেন হবে প্রকাশ্যে এবং নগদ টাকায়; কোনো চেক গ্রহণযোগ্য হবে না। তাঁর মতে, এক কোটি টাকা গুনে নেয়া অত সহজ নয়। তথাপি কেউ যদি একটি একটি করে এক কোটি টাকা গুনে নিতে পারে, তবে তাকে সেটা ভোগ করার সুযোগ দেওয়া উচিত!
কৃতি এই প্রকাশক এতটাই প্রচারবিমুখ যে অনেক সময় নিজের পরিচয়টাও ঠিকমতো দেন না। হয়তো অপরিচিত কেউ একজন গতিধারা’র শো-রুমে ঢুকে জিজ্ঞেস করল, ভাই সিকদার আবুল বাশার-এর সঙ্গে দেখা করতে চাই। উনি স্বয়ং বলে বসবেন, বস্ তো বাইরে ব্যস্ত আছেন, আমি উনার ম্যানেজারÑ কী বলতে হবে আমাকে বলেন!
লেখক দেখলেই অনেক প্রকাশক নাক উঁচু করে ফেলেন। ভাবখানা এমন যে নিতান্ত কৃপা করে পাণ্ডুলিপি দেখেন আর দয়াপরবশ হয়ে বই ছাপেন। কিন্তু সিকদার আবুল বাশার এেেত্র সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তিনি বিশ্বাস করেন, লেখক যত নবীনই হোক, বই ছাপা হোক বা না হোক অন্তত ভালো ব্যবহার এবং উপযুক্ত দিক-নির্দেশনা তার প্রাপ্য। নিজে লেখক বলেই বোধহয় অন্য লেখকের প্রতি তিনি এতটাই পরিশীলিত। যে কোনো মানুষকে অতি দ্রুত আপন করে নেয়ার অসাধারণ মতা তাঁর রয়েছে।
বাংলাবাজারের বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার কর্তাব্যক্তিটিকে সাধারণত দেখা যায় চেয়ারে বসে থাকেন নবাবী হকিকতে। মালিক হিসেবে তার দায়িত্ব যেন শুধু হুকুম করা আর টাকা গোনা। কিন্তু মালিক-বিক্রেতা সিকদার আবুল বাশার ক্রেতা এলে নিজ হাতে বই নামিয়ে দেখাতে দ্বিধা করেন না। তাঁর সুভাষণ, প্রয়োজনীয় যোগান ও ব্যবহার নিমিষেই সবাইকে মুগ্ধ করে ফেলে; হাতেনাতে তার প্রমাণও মেলে ক্রেতা যখন একটি বই কিনতে এসে অনেকগুলো বই কিনে ফিরে যান।
সিকদার আবুল বাশার-এর কাছে যদি নতুন কোনো পরিকল্পনা ব্যক্ত করা যায়, যদি সেটা তাঁর মনে দাগ কাটে, তাহলে তিনি তার শেষ দেখে ছাড়েন। লাভ-তির বিবেচনা তখন তাঁর কাছে গৌণ। তিনি একজন স্পষ্টবাদী মানুষ। যা বিশ্বাস করেন, মুখের উপর বলে দিতে দ্বিধা করেন না। এতে কে কী মনে করল তাতে তার কিছু যায় আসে না। তাঁর বিশ্বাস ও নীতির বিরুদ্ধে তাঁকে দিয়ে কিছু করানো সম্ভব নয়।
সিকদার আবুল বাশার কর্মপ্রাণ, সৃজনশীল একজন মানুষ। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাঁর প্রকাশনা সংস্থায় বসে এক মনে কাজ করেন। কী করেন- সেই বর্ণনার চাইতে কী করেন না সেই তালিকা তৈরি করাটাই বোধহয় সহজ। ‘সকল কাজের কাজী’ সিকদার আবুল বাশার কীভাবে যে একাই সবকিছু সামলান, খুব কাছ থেকে না দেখলে বলে বোঝানো যাবে না। কাজের প্রয়োজনে তার কাছে কোনো শুক্র-শনি নেই। সাপ্তাহিক ছুটির দিনকে যিনি এত সহজে বুড়ো আঙুল দেখাতে পারেন, আর কিছু না হলেও সাফল্য তাঁর বশ মানতে বাধ্য।

লেখক : গবেষক, মুক্ত সাংবাদিক
গুলশান ১, ঢাকা ১২১২