অ্যামিকাস কিউরির বক্তব্য শেষ, শুনানি চলছে

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামাত নেতা কাদের মোল্লাকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া সাজার বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানিতে ৭ অ্যামিকাস কিউরির বক্তব্য সোমবার শেষ হয়েছে। প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতির বেঞ্চে এ শুনানি চলছে। আজ সর্বশেষ মতামত দেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এএফ হাসান আরিফ।

হাসান আরিফ বলেন, কাদের মোল্লার মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়ে যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ সংশোধনী প্রযোজ্য হবে না। কারণ আইনের সংশোধনীর আগেই কাদের মোল্লার মামলার কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এর আগে রোববার বিচারপতি টিএইচ খান একই মতামত উপস্থাপন করেন।

এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল ‘ল’ কাদের মোল্লার মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে হাসান আরিফ তার অভিমতে তুলে ধরেন। হাসান আরিফ তার বক্তব্যে পরপরই আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক শুনানি শুরু করেন।

গত রোববার টিএইচ খান তার মতামতে বলেন, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস আইনে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের কোন সংজ্ঞা নেই। বাংলাদেশের অন্য কোনো আইনেও এ অপরাধ সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। এ ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল এবং আপিল বিভাগকে প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগ করতে হবে।

তিনি বলেন, যদিও গত ১৮ ফেব্রুয়ারির আইনে ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দেয়া হয়েছে তবুও তা কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। কারণ তার মামলার কার্যক্রম আগেই শেষ হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রচলিত আন্তর্জাতিক আইন দেশীয় আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হলে প্রযোজ্য হবে।

উভয়পক্ষের আপিলের সুযোগ রেখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে অভিমত দেন এ মামলার ৫ম অ্যামিকাস কিউরি ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ।

অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে ব্যারিস্টার রোকন তার বক্তব্য শেষ করেন গত রোববার। প্রচলিত আন্তর্জাতিক আইনের ক্ষেত্রে তার বক্তব্য, দেশীয় আইনে মামলা পরিচালনায় অকার্যকর হলে শুধু তখনই প্রচলিত আন্তর্জাতিক আইন প্রযোজ্য হবে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল -২ কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

এ রায়ের প্রতিবাদে শাহবাগে শুরু হয় আন্দোলন। মূল আইনে সাজা বাড়াতে সরকার পক্ষের আপিলের বিধান না থাকলেও আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আইন সংশোধন করে সরকারকে আপিলের সুযোগ দেয়া হয়।

পরে সরকার এবং আসামি দুই পক্ষই আপিলের সুযোগ পায়। এ আপিলের শুনানিকালে উত্থাপিত আইনী প্রশ্নের মীমাংসায় গত ২০শে জুন সাত জন অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দেয় আপিল বিভাগ।

এসব অ্যামিকাসদের কাছে জানতে চাওয়া হয় আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩ এর ক্ষেত্রে প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইন প্রযোজ্য হবে কি না? আর ২০১৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আইন সংশোধন করে ২০০৯ সালের ১৪ই জুলাই থেকে যে ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দেয়া হয়েছে তা কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কি না?