জিএসপি আবার বহাল হবে, আশা সরকারের

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: জেনারেলাইজড সিস্টেমস অব প্রেফারেন্সের (জিএসপি) আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের সুবিধা স্থগিত করার বিষয়ে ওবামা প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে- মার্কিন প্রশাসন অচিরেই আবার বাংলাদেশের জন্য জিএসপি সুবিধা বহাল করবে।
শুক্রবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের জন্য জিএসপি সুবিধা স্থগিত ঘোষণা করে। মার্কিন প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই শুক্রবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিবৃতি দিল।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশ তার ব্যবসায়িক অংশীদারের [যুক্তরাষ্ট্র] এ সিদ্ধান্তের প্রতি সম্পূর্ণভাবে শ্রদ্ধাশীল। তবে মার্কিন সরকারের এ সিদ্ধান্ত দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দেখা দিতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছে বাংলাদেশ।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এক নির্দেশে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত হয়। ওবামা তার আদেশে বলেন, “শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো পদক্ষেপ বাংলাদেশ নেয়নি কিংবা নিচ্ছে না। তাই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জিএসপির আওতায় যে সুবিধা পেত তা স্থগিত করাই উচিৎ বলে আমি মনে করি।”
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘কিছু লোক’ জিএসপি সুবিধার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়েছে- এমন অভিযোগ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশ বিশ্বাস করে বেশ কয়েকটি মৌলিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে। এগুলো হচ্ছে- গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন, নারীর ক্ষমতায়ন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায় বিচার।”
বিবৃতিতে বলা হয়, “কারখানার কর্মপরিবেশ নিরাপদ এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার যখন জোরালো ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়েছে, ঠিক তখনই জিএসপি সুবিধা স্থগিতের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য বড় আঘাত।”
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) শর্ত অনুযায়ী বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর বাজারে পণ্য রফতানিতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বিশেষ সুবিধা পাওয়া উচিত- উল্লেখ করে বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশাবাদ ব্যক্ত করেছে- মার্কিন প্রশাসন শিগগিরই বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে দেবে।
একই সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা করছে- যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জিএসপি স্থগিত করলেও সেদেশের ক্রেতারা বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের ব্যবসা অব্যাহত রাখবে এবং এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আরও এগিয়ে যাবে।