জাবিতে শিক্ষক সমিতির অবরোধে সিনেট অধিবেশন স্থগিত



আহসান হাবীব, জাবি::
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ৪২ বছরের ইতিহাসে সিনেট অধিবেশন ডেকে প্রথমবারের মত তা স্থগিত করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষক সমিতির অবরোধের কারনে উপাচার্যসহ সিনেট সদস্যরা ফিরে আসেন।

বিকেল ৪ টায় সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সাড়ে ৪ টায় উপাচার্যের নেতৃত্বে সিনেট সদস্যরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে উপস্থিত হন। এ সময় শিক্ষক সমিতির বাধায় পড়ে সমিতির সভাপতি অজিত কুমার মজুমদারের সাথে কথা বলেন। উপাচার্য সিনেট অধিবেশনকে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সাথে তুলনা করে সমিতির সভাপতিকে সিনেট অধিবেশন শুরু করার সুযোগ দিতে অনুরোধ জানান।

জবাবে অধ্যাপক মজুমদার বলেন, “যে উপাচার্যকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে তাকে সিনেট অধিবেশনে যোগ দিতে যেতে দেয়া হবে না”। এ সময় অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ ও সিনেট সদস্যরা বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

বাধাগ্রস্থ হয়ে উপাচার্যসহ সিনেট সদস্যরা জহির রায়হান অডিটোরিয়ামের সেমিনার কক্ষে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। সেখানে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক সিনেট সদস্য সূত্রে জানা গেছে, অধিবেশন ডেকেও তা বাস্তবায়ন করতে না পারায় সিনেট সদস্যদের তোপের মুখে পড়েন উপাচার্য।

বৈঠকের পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় উপাচার্য সাংবাদিকদের জানান, “যেহেতু শিক্ষক সমিতি আহুত কর্মসূচির কারনে সিনেট হলে যেতে পারি নি সেহেতু পরিতাপের সাথে বলছি আজকের সিনেট অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হতে পারে নি”।
পরবর্তীতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আগত কয়েকজন রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট সিনেট সদস্য উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য উভয় পক্ষই দায়ী। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে ও রাজি বলে জানান তারা। আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান করে অতিদ্রুত পুনরায় সিনেট অধিবেশনের তারিখ ঘোষণার দাবি জানান তারা।

সিনেট সদস্য ও জাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হাসান মাসুম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত দিনের ইতিহাসে এমন নজির আর নাই”। এই ঘটনাকে প্রশাসনের ব্যর্থতা বলে অভিহিত করেন তিনি।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার জানিয়েছেন আগামীকাল থেকে তাদের পূর্বঘোষিত প্রশাসনিক ভবন অবরোধ কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে।

এর আগে এদিন দুপুর আড়াইটা থেকে শিক্ষক সমিতির সদস্যরা প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে তাদের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পাশাপাশি অফিসার সমিতিও তাদের চাকুরীর বয়সসীমা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে তাদের অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। এ সময় সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক আমির হোসেন, কলা ও মানবিকী অনুষদের ডীন অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ কামরুল আহছান, অধ্যাপক হানিফ আলীসহ শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।