যুদ্ধাপরাধ মামলায় ৭ এমিকাস কিউরি

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের সুযোগ দিয়ে ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি-না এ বিষয়ে মতামত দেয়ার জন্য দেশের সাত শীর্ষ আইনজীবীকে এমিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তারা হলেন-সাবেক বিচারপতি টিএইচ খান, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, সাবেক এটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, মাহমুদুল ইসলাম, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, আজমালুল হোসেন কিউসি এবং সাবেক এটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ। প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ নিয়োগ দেয়। আদেশের পর এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের জানান, কাদের মোল্লার মামলায় একটি আইনগত প্রশ্ন উঠেছে। এ মামলায় ট্রাইব্যুনালে রায় হয়েছিল ৫ই ফেব্রুয়ারি। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন-১৯৭৩ সংশোধন করা হয়েছে। এই সংশোধনীতে সরকারপক্ষকে আপিল করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এই সংশোধনীর কার্যকারিতা দেওয়া হয় ২০০৯ সালের ১৪ই জুলাই থেকে। অর্থাৎ আইনে আপিলের বিষয়ে ভুতাপেক্ষ কার্যকারিতা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, মামলার শুনানির যেকোনো পর্যায়ে আদালত যদি মনে করেন কোনো বিষয়ে ব্যাখ্যা জানা দরকার, তাহলে আদালত রায় প্রদানের আগে তা শুনতে পারেন। এবিষয়ে আদালত জানতে চান, এ আইনে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে সরকারের আপিল গ্রহণযোগ্য কিনা? বা এই সংশোধনীর মাধ্যমে কাদের মোল্লার শাস্তি বাড়ানো যাবে কিনা? এই আইনগত বিষয়টির ব্যাপারে বিভিন্ন আইনজীবীর ব্যাখ্যা শোনার জন্য আপিল বিভাগ কয়েকজন অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর আগে শুনানিতে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সংবিধানের ৪৭(৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য কোনো আইন করা হলে সেটাকে চ্যালেঞ্জ করে কোনো মামলা-মোকদ্দমা করা যাবে না। যে বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে তার কার্যকারিতা দেওয়া হয়েছে ২০০৯ সালের ১৪ই জুলাই থেকে। অর্থাৎ কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মামলা করার অনেক আগেই আইনের কার্যকারিতা দেওয়া হয়েছে। তাই এ আইন মামলা দায়েরে আগেই কার্যকর হয়েছে বলে ধরতে হবে। এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আমাদের আপিল কার্যকর হবে এবং সাজার বিরুদ্ধে আপিল চলবে। পরে আদালত আগামী ৮ই জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেছে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত ৫ই ফেব্রুয়ারি এক রায়ে কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। তাকে ৬টি অভিযোগের মধ্যে ৫টিতে সাজা এবং একটিতে খালাস দেয়া হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে গত ৩রা মার্চ আপিল করে সরকারপক্ষ। আপিলে কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হয়। পরদিন ৪ঠা মার্চ দণ্ডাদেশ থেকে খালাস চেয়ে আপিল  করে আসামিপক্ষ। ট্রাইব্যুনালের দেয়া রায়ে ৩টি অভিযোগে তাকে ১৫ বছর কারাদন্ড এবং অপর দুইটি অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়। এ রায়ের পর কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে সারাদেশে আন্দোলন হয়। শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ করা হয়। এরপর সরকার ১৭ই ফেব্রুয়ারি ট্রাইবুনালের আপিল সংক্রান্ত ধারা সংশোধন করে আইন পাশ করে। এর আগে যে কোন রায়ের বিরুদ্ধে খালাস প্রাপ্ত অভিযোগ ছাড়া সরকার পক্ষের আপিলের কোন সুযোগ ছিল না।