সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব টিআইবির

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রস্তাব ও বাজেট অনুমোদন ছাড়াও অন্য যেকোনো বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ও আত্মসমালোচনামূলক মতামত প্রকাশ ও ভোটদানের সুযোগ তৈরির জন্য সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধনের সুপারিশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি। সেই সঙ্গে আইন করে সংসদ বর্জনের মতো অগতান্ত্রিক চর্চা বন্ধের সুপারিশ করা হয় প্রতিবেদনে।

রোববার সকালে নবম জাতীয় সংসদ কার্যক্রমের ওপর পরিচালিত ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। জাতীয় সংসদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদনে চলতি সংসদের অষ্টম থেকে পঞ্চদশ অধিবেশন পর্যন্ত নানা তথ্য বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নবম সংসদের ৮টি অধিবেশনে মধ্যে ৬টি অধিবেশনে প্রধান বিরোধী দল পুরোপুরি বর্জন করে। এ সময়ে ১৬৩ কার্যদিবসের মধ্যে ১৫৩ কার্যদিবসই সংসদে অনুপস্থিত থাকে বিরোধীদল যা মোট কার্যদিবসের ৯৩.২৫% শতাংশ বলেও উল্লেখ করা হয়।

সংসদ বর্জনের চর্চা চলতে থাকলে সংসদীয় গণতান্ত্রিক চর্চা এক সময় বন্ধ হয়ে যাবে বলে মনে করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘একটা হচ্ছে দলীয়ভাবে বা যৌথগতভাবে যে বর্জন। সেটিকে আমরা বলছি একটা বিশেষ আইন করে বন্ধ করে দেয়া। দ্বিতীয়ত হচ্ছে আমাদের সংবিধানের ৬৭ অনুচ্ছেদে আছে ৯০ দিন সর্বোচ্চ অনুপস্থিত থাকতে পারে—সেখানে আমরা বলছি, এটাকে ৯০ থেকে কমিয়ে এনে ৩০ দিন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করা যেতে পারে।’

সংসদে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে প্রতিবেদনের পাশাপাশি সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধনের কিছু সুপারিশ উঠে আসে টিআবির পক্ষ থেকে।

সংসদীয় আচরণ বিধির খসড়া গৃহীত হলে গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্রে মাইলফলক হবে বলেও জানান তারা।