বার্তাবাংলা ডেস্ক »

tobacco rally

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: তামাক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।  গত ২৯ এপ্রিল ২০১৩ জাতীয় সংসদে পাশ হয় বহুল প্রত্যাশিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী বিল। এ সংশোধনীটি ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন ২০১৩ নামে অবহিত করা হয়। পরো ধূমপান হতে জনগনকে রা এবং ধূমপায়ীদের নিরুৎসাহিত করতে এবং ধূমপানমুক্ত স্থান নিশ্চিতে এ আইনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংযুক্ত করা হয়েছে। সরকার, গণমাধ্যম ও তামাক বিরোধী সংগঠনগুলোর সম্মিলিত কার্যক্রমের ফসল এ অর্জন।
সংশোধীত আইনের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং ৩১ মে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে  আজ ২৮ মে, মঙ্গলবার, ২০১৩ তারিখে সকাল ১০:৩০ টায়  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার সামনে  গ্রীন মাইন্ড সোসাইটি, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট ও ইকো সোসাইটি এর যৌথ উদ্যোগে একটি ক্যাম্পেইন কর্মসূচী  অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ পীস মুভমেন্ট এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক কামাল আতাউর রহমান এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন  গ্রীন মাইন্ড সোসাইটির সভাপতি আমির হাসান,  সাধারন সম্পাদক ফারুক হোসেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট এর প্রগ্রাম অফিসার শারমিন আক্তার, ইকো সোসাইটির সভাপতি আরিফ আহন্মেদ, ইয়ুথ ইয়াষ্ট এর জেনারেল সেক্রেটারী এস আর সুভ, নতুন ধারা বাংলাদেশ এর আহবায়ক মোমিন মেহেদী, ইউনাইটেড পিপলস ট্রাষ্ট এর চেয়ারম্যান আলী হাজারী, জালালাবাদ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী এনাম আহন্মেদ, শাপলা সমবায় সমিতির নোমান রহমানসহ বিভিন্ন ইউনির্ভাসিটির ছাত্র-ছাত্রীগন। বক্তারা সবাই অবিলম্বে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালা প্রণয়ন করার দাবি জানান।
এই সংশোধনীর ফলে কোন ব্যক্তি পাবলিক প্লেস ও পরিবহনের ধূমপান নিষিদ্ধ স্থানের ধূমপান করলে ৩০০ টাকা অর্থ দন্ডে দন্ডিত হবেন। উক্ত ব্যাক্তি  দ্বিতীয় বা পুনঃ পুনঃ একই ধরনের অপরাধ সংঘটন করলে তিনি পর্যায় ক্রমিকভাবে উক্ত দন্ডের দ্বিগুন হারে দন্ডনীয় হবেন। পাবলিক প্লেস ও পরিবহনের মালিককে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিগোচর স্থানে ধূমপানমুক্তসহ সতর্কীকরণ নোটিশ স্থাপন করতে হবে। কোন পাবলিক প্লেস বা পাবলিক পরিবহনের মালিক, তত্বাবধায়ক বা নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি বা ব্যবস্থাপক আইনের বিধান লংঘন করলে তিনি অনধিক এক হাজার টাকা অর্থ দন্ডে দন্ডিত হবেন এবং উক্ত ব্যক্তি দ্বিতীয়বার বা পুনঃ পুনঃ একই ধরনের অপরাধ সংঘটন করলে তিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে উক্ত দন্ডের দ্বিগুণ হারে দন্ডনীয় হবেন।
এ আইনের বলে এখন থেকে বিড়ি-সিগারেটসহ তামাকজাত দ্রব্যের প্রত্য-পরো সব রকম বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ হয়ে গেল। এমনকি তামাক বা তামাকজাত কোনো কোম্পানি সামাজিক দায়বদ্ধতা বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটির আওতায় কোনো কাজ করলে সেখানেও কোম্পানির নাম বা লোগো ব্যবহার করতে পারবে না। কেউ এই আইন লংঘন করলে তার অনধিক তিন মাস কারাদন্ড বা অনধিক এক লাখ টাকা অর্থ দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আইন অনুযায়ী এখন থেকে সিনেমায় তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের দৃশ্য রয়েছে এমন কিছু দেখানোর আগে তামাকের তিকর প্রভাব সম্পর্কে লিখিত সতর্কবাণী প্রদর্শন করতে হবে। আর তামাক চাষ বন্ধে সরকার নীতিমালা করতে পারবে বলেও আইনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশোধনী এ আইনে তামাকজাত পণ্যের সংজ্ঞায় বিড়ি সিগারেটসহ অন্যান্য ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত পণ্য যেমন গুল, জর্দা, সাদাপাতা, হুক্কা ইত্যাদিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »