‘সিরিয়ার সংঘাত নিরসনে সরকার ও বিরোধীপক্ষ প্রস্তুতি নিচ্ছে’

বার্তবাংলা রিপোর্ট :: সিরিয়ায় সংঘাত নিরসনে রুশ-মার্কিন উদ্যোগে শান্তি সম্মেলনে অংশ নিতে দেশটির সরকার ও বিরোধীপক্ষ প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন, আরব লিগের বিশেষ দূত লাখদার ব্রাহিমি। এদিকে সত্যিকারের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আসাদ সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন সিরিয়ান ন্যাশনাল কোয়ালিশন বা এসএনসি’র সাবেক প্রধান মোয়াজ আল খতিব। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে বিরোধী জোটগুলোর দু’দিন ব্যাপি আলোচনার শেষ দিন মঙ্গলবার তিনি এ মন্তব্য করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত এই ভিডিও তুলে ধরছে লেবাননের সীমান্তবর্তী কুসাইর শহরের দখল নিয়ে মঙ্গলবার বিদ্রোহী ও আসাদ বাহিনীর সংঘাতের চিত্র। বিদ্রোহীদের দাবি সরকারি সেনারা এসব এলাকায় হামলা চালাচ্ছে লেবাননভিত্তিক ইসলামী সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ’র সহায়তায়।

পুরো সিরিয়াজুড়েই চলছে এ ধরনের সংঘাত। বিভিন্ন অঞ্চলের দখল ধরে রাখতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠছে বিদ্রোহী ও সরকারের বিরুদ্ধে। সিরীয় সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও চেষ্টার কমতি নেই। জুনেই জেনেভায় রুশ-মার্কিন উদ্যোগে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। সরকার ও বিরোধীপক্ষ তাতে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মঙ্গলবার কায়রোতে সাংবাদিকদেরকে জানান লাখদার ব্রাহিমী। আর এই সম্মেলনই সঙ্কট থেকে মুক্তির একমাত্র পথ অভিহীত করে ব্রাহিমীকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে আরব লীগ।আরব লীগের মহাসচিব নাবিল এল আরাবি বলেন, ‘বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলে একটা বিষয়ে আমরা একমত যে, জেনেভা সম্মেলন চলাকালে যুদ্ধ বন্ধ রাখতে হবে। এবং আমরা মনে করি কয়েকটি বিষয় পরিস্কার না হওয়া পর্যন্ত বিরোধী পক্ষের সাথে সরকারি প্রতিনিধিদের সরাসরি আলোচনায় বসাটা ঠিক হবে না। এ ক্ষেত্রে লাখদার ব্রাহিমীই মধ্যস্থতার কাজটি করতে পারেন।’

অন্যদিকে, স্পেনে বিরোধী দলগুলোর বৈঠকে, আসাদ সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বা কূটনৈতিক সমাধানের ব্যপারে আপত্তি নেই বলে জানান সাবেক এসএনসি প্রধান মোয়াজ আল খতিব।
তিনি বলেন, ‘সিরীয়দের আত্মদানের বিনিময়ে কোনো দাবি পূরণ হোক তা আমরা চাই না। সেখানে মানবিক বিপর্যয় বন্ধ করাই এখন একমাত্র লক্ষ্য। আর এ কারণেই রাজনৈতিক সমাধানে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’

এদিকে ওমান সফর শেষে বুধবার জর্ডানে সিরিয়া ইস্যুতে পশ্চিমা ও আরব বিশ্বের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।