বার্তাবাংলা ডেস্ক »

Dating App

masud ranaবার্তবাংলা রিপোর্ট :: সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে চরম অবহেলা প্রদর্শন পূর্বক হত্যার জন্য রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা ও কারখানা মালিকদের দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা মোতাবেক সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

বুধবার বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান মন্ত্রণালযের অতিরিক্ত সচিব মাইন উদ্দিন খন্দকার স্বরাষ্ট্র সচিব সি কিউ কে মুস্তাক আহমদের কাছে প্রতিবেদনটি জমা দেন।

ভবন ধসে পড়ার দিনই মাইন উদ্দিন খন্দকারকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরে কমিটির একজন সদস্য বৃদ্ধি করা হয়।

কমিটির প্রধান মাইন উদ্দিন খন্দকার সাংবাদিকদের জানান, “সাত দফা পর্যবেক্ষণ শেষে সরকারের কাছে ১২টি সুপারিশ এবং তিনটি আশু চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছে।”

রানা প্লাজা ধস ও হতাহতের ঘটনাকে চরম অবহেলা প্রদর্শন পূর্বক হত্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পাঁচটি কারণে ভবনটি ধসে পড়েছে।”

“নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে ভবন তৈরি, ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড না মানা, বিপণী বিতানের ওপর কারখানা স্থাপন, ঝাঁকুনি উৎপাদনকারী ভারী যন্ত্রপাতি ওপরে স্থাপন ও ভবনটিতে ব্যাপক ফাটল ধরে ধসে পড়ার উপক্রমের সময় ভয় দেখিয়ে বিপুল শ্রমিককে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে বাধ্য করা।”

ভবন ধস ও হতাহতের ঘটনায় রানা প্লাজার মালিককে প্রত্যক্ষ দায়ী করে তিনটি আশু চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। ভবন নির্মাণে সহায়তাকারীরা ৩০৪ ও ৩৪ ধারায় শাস্তি পাবে।

কমিটির প্রধান বলেন, “এই কাজে প্রথমত প্রত্যক্ষ দায়ী ভবন মালিক ও তার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও কারখানাসমূহের মালিক। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা এবং যারা ত্রুটিপূর্ণ ভবন নির্মাণে বিভিন্ন পর‌্যায়ে সহায়তা করেছে তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ বিচারের জন্য সোপর্দ করতে হবে।”

কমিটি ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ আর্থিক সহায়তার জন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করেছে।এছাড়া রানা প্লাজার জমি বিক্রি করে সে টাকা ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের মাঝে দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে।

মাইন উদ্দিন বলেন, “ভবন ধসের ঘটনায় আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী এবং নিহতদের এতিম সন্তান ও পিতা-মাতাদের নিকট সন্তানদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় মানবিক সহায়তা করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ভবন ও গার্মেন্ট মালিকের নিকট থেকে আর্থিক বরাদ্দ নিয়ে জোরালোভাবে সকল ক্ষতিগ্রস্তদের যথাথ ক্ষতিপূরণ ও পুর্নবাসন করতে হবে।”

পঙ্গুত্ববরণকারীদের ব্যাপারেও জোরালো সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

কমিটির প্রধান বলেন, “যারা আহত হয়ে চিকিৎসাধীন তাদের যাবতীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা, যাদের বিদেশে উচ্চতর চিকিৎসার প্রয়োজন তাদের বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসা ও যারা স্থায়ভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছে তাদের অঙ্গ সংযোজনের ব্যবস্থা করতে হবে।”

হতাহতের ঘটনাকে তদন্ত কমিটি ‘অবহেলা প্রদর্শনপূর্বক হত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়নি।

কমিটির প্রধান মাইন উদ্দিন বলেন, “রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় হতাহতের ঘটনাকে ‘চরম অজ্ঞতা, অবহেলা উদ্ধত্য, মূদ্রালোপ থেকে মানুষের প্রতি তুচ্ছ জ্ঞান করা অনুভূতি থেকে ভগ্নপ্রায় বা ধ্বংসপ্রায় বা পড়পড় ভবনে এতোগুলো মানুষকে ঠেলে দিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটানো হয়েছে।”

সাতটি পর‌্যবেক্ষণ করে চারশ’ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে জানিয়ে কমিটির প্রধান বলেন, রানা প্লাজার মহামৃতযজ্ঞ শ্রমিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এমন পরিবেশ মোটেই উৎপাদন বান্ধব নয়। এজন্য কর্মক্ষেত্রকে আশঙ্কামূক্ত ও আনন্দপূর্ণ করার জন্য উচ্চ, দক্ষতা সম্পন্ন কারিগরি কমিটি গঠন করে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে বিল্ডিংগুলো যাচাই করে কারখানার ললাটের মাঝে ব্যবস্থাপত্র সাঁটিয়ে দিতে হবে, যাতে লেখা থাকবে সেই কারখানার অবস্থা।

পোশাক কারখানাকে শহরের মধ্যে না রেখে নির্দিষ্ট এলাকায় ‘তৈরি পোশাক কারখানা পল্লী’ তৈরি করে শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান করার জন্য সরকারের কাছে সুপরিশ করা হয়।

পাশাপাশি পোশাক শিল্প খুব বেশি দিনের শিল্প নয় জানিয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, “মালিক-শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের নিয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় সব সমস্যা একত্রিত করে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণখাত হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে।”

সম্প্রতি সরকার শ্রমিক আইন সংশোধন করেছে, তাতে ট্রেড ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা বলা হয়েছে। তবে ট্রেড ইউনিয়নগুলো যেন জঙ্গীবাদ বা চরমপন্থা না হয় সেদিকেও নিবিড় নজর রাখার জন্য বলা হয়েছে।

গত ২৪ এপ্রিল সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন রানা প্লাজা ধসে পড়ে। ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার তৎপরতা চলে ২০ দিন। এসময় এক হাজার ১২৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। জীবিত উদ্ধার করা হয় দুই হাজার ৪৩৮ জনকে।

ভবন ধসের পর বাংলাদেশের গার্মেন্টকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে আসে। সোহেল রানার ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রানাকে দ্রুত গ্রেফতারের কড়া নির্দেশ দেন।

Dating App
শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »