বার্তাবাংলা ডেস্ক »

 

gonoprojatontriবার্তাবাংলা ডেস্ক :: বড় অঙ্কের বাজেট আসছে। টাকার অঙ্কে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ বাজেট। আগেই ঘোষণা দেয়া হয়েছে, নতুন বাজেটের আকার হবে সোয়া ২ লাখ কোটি টাকার। তবে শেষ পর্যন্ত তা কিছুটা কমতে বা বাড়তে পারে। আগামী ৬ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। আগামী ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জন্য এ বাজেট প্রণয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বাজেটের প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। ইতোমধ্যে ব্যবসায়ী ও বাণিজ্য সংগঠনের মতামত সংগ্রহ করেছে এনবিআর। বাজেট প্রণয়নে এ বছর কিছুটা গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে। কোন্ কোন্ পণ্য আমদানিতে শুল্ক বাড়ছে বা কমছে তা নিয়ে আমদানিকারকদের আগ্রহের শেষ নেই। রফতানিকারকরা ভাবছেন প্রণোদনা কি থাকছে আগামী বাজেটে। গার্মেন্টস মালিকরা চিন্তিত উৎসে কর ও বাড়ি ভাড়ার ভ্যাট নিয়ে।
জানা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এ বাজেটের আকার বড় করা হচ্ছে। তবে রাজস্ব নীতিতে বড় ধরনের কোন পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। বাড়ছে না করের হারও। তবে কর ও ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর দিকনির্দেশনা থাকছে বাজেটে।
অর্থ মন্ত্রণালয় আগামী অর্থবছরের জন্য সম্ভাব্য বাজেটের রূপরেখায় আগামী বাজেটের জন্য যে প্রাথমিক প্রাক্কলন করেছে তাতে এর আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। আর ঘাটতি ধরা হয়েছে ৫৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। আর এই ঘাটতি অর্থায়নের জন্য বৈদেশিক উৎস থেকে ২১ হাজার ১১০ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৩৫ হাজার ১৮০ কোটি টাকা যোগান দেয়ার প্রাক্কলন করা হয়েছে। আর আগামী বাজেটের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ, মূল্যস্ফীতির হার ৭ শতাংশ এবং মোট জিডিপির আকার প্রাক্কলন করা হয়েছে ১১ লাখ ৮৮ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হচ্ছে।
তবে নতুন অর্থবছরে পরীক্ষামূলকভাবে একটি জেলার জন্য আলাদা বাজেট ঘোষণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে একটি কমিশন গঠনের কথা ভাবা হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এবার টাঙ্গাইলের জন্য জেলা বাজেট ঘোষণা করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। তবে হরতাল ও সহিংসতার কারণে বাজেট বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে এ ধরনের আশঙ্কা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে পিছুটান ঘটতে পারে। সহিংসতার কারণে দেশের উন্নয়ন কর্মকা- পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আমরা খুবই সতর্ক। তিনি বলেন, আগামী বাজেটে তিনটি বিষয় গুরুত্ব দেয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুত সমস্যা, মধ্য মেয়াদী বাজেট কাঠামো এবং পরিবহন খাত। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে তিনি বলেন, এ জন্য স্থানীয় সরকার কমিশন গঠন করার চিন্তা ভাবনা চলছে।
ব্যবসায়বান্ধব ও একটি জনকল্যাণমুখী বাজেট করা হচ্ছে। যেখানে প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শ্রম বাজার সম্প্রসারণ, উৎপাদন, রফতানি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। থাকছে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ফর্মুলাও। ইতোমধ্যে পদ্মা সেতুর অর্থায়নে ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
এছাড়া নতুন বাজেটে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে বৈদেশিক সাহায্য ও ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন শর্তের বেড়াজালে কমছে বৈদেশিক সাহায্য। দেশে বিনিয়োগ বাড়ানোসহ মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে অভ্যন্তরীণ ঋণ থেকেও টাকা নিতে সরকারের অনাগ্রহ আছে।
বাজেটে অগ্রাধিকার খাত ॥ বিদ্যুত, জ্বালানি, সড়ক, রেলপথ, বন্দরসহ ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নকে নতুন বাজেটে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এছাড়া মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন, কর্মসৃজন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়াকেও নতুন বাজেটে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। নিজস্ব অর্থায়নের পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হচ্ছে এ বাজেটে। বর্তমান সরকারের সময় গত চারটি বাজেট সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যেসব প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে তার বাস্তবায়নের একটি চিত্রও নতুন বাজেটে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া রেলওয়ে খাতের উন্নয়নে নতুন বাজেটে একটি রূপরেখা তুলে ধরা হবে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »