বার্তাবাংলা ডেস্ক »

bracবার্তাবাংলা রিপোর্ট :: গুঁড়ো দুধ কোম্পানিগুলোর মতা, আগ্রাসন ও দুষ্ট বুদ্ধি আমাদের চেয়ে বেশী। এদের প্রতাপ এত বেশী যে, গুঁড়ো দুধের অবাধ বাজারের সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রচলিত আইন থাকলেও তা বাস্তবে কাজে আসছে না। বরং আইনের কোথায় ফাঁকফোকর আছে তা কোম্পানির সংশ্লিষ্টরা ঠিকই খুঁজে নেন। এর ফলে মাতৃদুগ্ধের পরিবর্তে আমাদের মায়েরা গুঁড়ো দুধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তাই এর অবাধ বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের সবার ’মগজ ধোলাই’ জরুরি।
রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আজ সোমবার (গতকাল) অনুষ্ঠিত ‘ব্রেস্ট মিল্ক সাবস্টিটিউট কোড ইমপ্লিমেন্টেশন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। ব্র্যাক হেলথ নিউট্রিশন অ্যান্ড পপুলেশন প্রোগ্রাম এর পরিচালক কাওসার আফসানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর মেডিকেল এডুকেশন এর পরিচালক ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল নিউট্রিশন কাউন্সিল এর সচিব প্রফেসর ফাতেমা পারভিন। সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল নিউট্রিশন সার্ভিস এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, নিউট্রিশন বিশেষজ্ঞ ডা. ফাতেমা ইশরাত, দৈনিক ইত্তেফাকের সিটি এডিটর আবুল খায়ের। অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেইঞ্জ, ব্র্যাক এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
মূল প্রবন্ধে ডা. ফাতেমা পারভিন বলেন, ‘গুঁড়ো দুধের নিয়ন্ত্রণের জন্য বাস্তব উপযোগী আইন করার পাশাপাশি আইন মানাতে প্রয়োজনে মানুষকে ‘মগজ ধোলাই’ করতে হবে। কারণ, গুঁড়ো দুধ প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এত শক্তিশালী যে তারা বিভিন্নভাবে মানুষের মনোজগতকে প্রভাবিত করে।’
মাতৃদুগ্ধের ওপর মায়েদের সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বার বার এ বিষয়ে কথা বললেও বহু মা আছেন, যারা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাবেন না, যাবেন তাদের পছন্দের জায়গায়।
তিনি আরো বলেন, এটা যেমন একটা বড় সমস্যা তেমনি আর একটি বড় বাঁধা দুধ কোম্পানিগুলোর অসীম মতা। এর আগ্রাসন ও দুষ্ট বুদ্ধি এত বেশী যে, চাইলে একে সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।
দৈনিক ইত্তেফাকের সিটি এডিটর আবুল খায়ের বলেন, অবিলম্বে গুঁড়ো দুধের বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য সিগারেটের প্যাকেটে যেভাবে ‘ধূমপানে বিষপান’ লেখা থাকে, তেমনি গুঁড়ো দুধের প্যাকেটে বা ক্যেটার গায়ে ‘গুঁড়ো দুধ খেলে মৃত্যুঝুঁকি’ এরকম বক্তব্য লেখা উচিত।
অনুষ্ঠানে আগত অতিথি ও সাংবাদিকরা ব্রেস্ট মিল্ক সাবস্টিউট ইমপ্লিমেন্টেশানে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন। উল্লেখযোগ্য সুপারিশের মধ্যে রয়েছে ১৯৮৪ সালের বিএমএস কোড সংশোধনী, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) কাজ করা, একাডেমিক কারিকুলামে পরিবর্তন, মায়েদের পাশাপাশি ডাক্তারদের আরো সামাজিক দায়বদ্ধ হওয়া, মাতৃদুগ্ধ উৎসাহিতকরণে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা, গণমাধ্যমে ব্রেস্ট মিল্ক ফোকাস করে বিশেষ রিপোর্ট করা, তৃণমূল পর্যায়ে কমিউনিটিভিত্তিক কাজ করা, গুঁড়ো দুধের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ ইত্যাদি।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. কাওসার আফসানা ব্রেস্ট মিল্ক উৎসাহিতকরণে প্রত্যোকের নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হওয়া ও মানসিকতা পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »